করোনা মহামারীর দুঃসময় কাটিয়ে উঠে আবারও পুরনো গতিতে ফিরছে দেশের জনশক্তি খাত। বিদেশে কর্মী পাঠানোর সংখ্যা প্রতি মাসেই বাড়ছে।
গড়ে প্রতি মাসে এক লাখেরও বেশি বাংলাদেশি এখন কাজের জন্য বিদেশে যাচ্ছেন। অর্থবছর শেষে জুনে এই সংখ্যা ১২ লাখ ছাড়িয়ে যাবে। যা লক্ষ্যমাত্রার দ্বিগুণ।
তবে, সৌদি আরব কেন্দ্রিক অভিবাসন ও অদক্ষ অভিবাসন ভবিষ্যতে দেশের জন্য সুখকর হবে না বলে মত দিয়েছেন জনশক্তিখাত সংশ্লিষ্টরা।
গেলো এক বছরে মোট কর্মী অভিবাসনের ৯৫ শতাংশই হয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশ সৌদি আরবে। দেশটি এখন প্রতি মাসে গড়ে ৯০ হাজার ভিসা দিচ্ছে সৌদি আরব।
পরিচিত শ্রমঘন বাজার মালয়েশিয়া না খুললেও দুবাইতে পর্যটন ভিসায় এবং সৌদির কাজের ভিসা গেলো দুই বছরে খরা মিটিয়েছে জনশক্তি রপ্তানির।
আবার শ্রমঘন মধ্যপ্রাচ্যের অন্যতম বাজার সংযুক্ত আরব আমিরাতে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই হাজার কর্মী যাচ্ছেন পর্যটন ভিসায়।
সব মিলিয়ে কর্মী পাঠানোর সংখ্যাটা ছাড়িয়েছে অতীতের সকল রেকর্ড। জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর পরিচালক শহিদুল ইসলাম মনে করেন, এই সংখ্যা আরো বাড়বে।
কিন্তু এই সৌদি আরবে যারা নতুন বা প্রথমবার কাজে যাচ্ছেন তাদের শতভাগই অদক্ষ। যাদের গড় বেতন ১২ থেকে ১৩ হাজার।
আর আমিরাতগামীদের তো কাজ পেতেই হিমশিম খেতে হচ্ছে। পেলেন মাসে বেতন ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকার বেশি নয়। সেই সঙ্গে অনুমোদনের জন্য গুণতে হচ্ছে অতিরিক্ত অর্থ।
আরও পড়ুন: ওমিক্রনের দুই উপধরনে দক্ষিণ আফ্রিকায় বাড়ছে করোনা
প্রবাসী কল্যাণ বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী ইমরান আহমেদ জানান, দক্ষ শ্রমিক পাঠানোর লক্ষ্যমাত্রা পূরণ করা যাচ্ছে না যেমন বাস্তব সত্য, তেমনি অদক্ষ কর্মীর চাহিদাও রয়েছে।
তিনি জানান, দক্ষ শ্রমিক ও কর্মী তৈরির যে প্রক্রিয়া চলছে, সেখান থেকে জনশক্তি বেরিয়ে আসার আগ পর্যন্ত অদক্ষ কর্মীরাই দেশের রেমিটেন্সকে ধরে রাখবে।
বর্তমানে ৬৪ জেলায় সরকারি প্রশিক্ষন কার্যক্রম থাকলেও বাংলাদেশের কোন সনদই বিশ্বে গ্রহনযোগ্য নয়।
একাত্তর/আরবিএস
