স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছেন, দেশে প্রথমবারের মতো ভ্যাকসিন প্ল্যান্ট স্থাপন করতে যাচ্ছে সরকার। এর ফলে বিদেশ থেকে আর ভ্যাকসিন আমদানি করতে হবে না।
বুধবার সচিবালয়ে মন্ত্রণালয় সভাকক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এটি একটি অত্যাধুনিক প্ল্যান্ট হবে। শুধু করোনা ভ্যাকসিন নয়; অন্যান্য ভ্যাকসিন, যেগুলো বাংলাদেশের প্রয়োজন সেগুলোও এখানে তৈরি করতে পারবে।
তিনি বলেন, আমরা এই প্ল্যান্টটি গোপালগঞ্জে স্থাপন করছি। এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানির পাশে জায়গা দেয়া হয়েছে। সেখানে প্রায় ৭-৮ একর জমিতে এই প্ল্যান্ট হবে। এখানে যে ভ্যাকসিন উৎপাদন হবে, তা অন্তর্জাতিক মানের হবে। দেশের চাহিদা মিটিয়ে বিদেশেও রপ্তানি করা যাবে।
আশা করছি দুই বছরের মধ্যে উৎপাদন শুরু করতে পারব উল্লেখ করে তিনি বলেন, পুরোপুরি উৎপাদন শুরু করতে চার বছরের মতো লাগবে। এই প্রজেক্ট পুরোপুরি সফল হলে আমাদের ভ্যাকসিন আমদানির প্রয়োজন হবে না।
এরইমধ্যে ভ্যাকসিন প্ল্যান্ট নির্মাণে মার্কিন কোম্পানি ডায়াডিক ইন্টারন্যাশনাল এবং এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডের (ইডিসিএল) সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই হয়েছে। এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানির পক্ষে ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও অধ্যাপক ডা. এহসানুল কবির এবং ডায়াডিক ইন্টারন্যাশনালের পক্ষে প্রতিষ্ঠানটির সিইও মার্ক এমালফেরব সমঝোতা স্মারকে সই করেন। এমওইউ’র আওতায় ডায়াডিক ইন্টারন্যাশনাল এসেনসিয়াল ড্রাগস কোম্পানি লিমিটেডে ভ্যাকসিন উৎপাদন, সংরক্ষণ এবং মান নিয়ন্ত্রণে প্রয়োজনীয় কারিগরি সহায়তা দেবে।
আরও পড়ুন: নিখোঁজ সাবমেরিন: যাত্রীদের হাতে আছে ৩০ ঘণ্টারও কম সময়
জাহিদ মালেক জানান, প্রথমে করোনা ভ্যাকসিন উৎপাদন শুরু হবে। অন্যান্য ভ্যাকসিন উৎপাদনেরও ব্যবস্থা থাকবে। ধীরে ধীরে ১২ ধরনের ভ্যাকসিন তৈরি হবে।
তিনি যোগ করেন, এডিবির কাছ থেকে আমরা প্রায় সাড়ে ৩০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার পাওয়ার প্রতিশ্রুতি পেয়েছি। প্রকৃতপক্ষে যা লাগবে, তাই আমাদের খরচ করতে হবে।
এদিকে করোনার সময় দেশে ৩৬ কোটি ডোজ ভ্যাকসিন আনতে হয়েছে উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আন্তর্জাতিক বাজার ভিত্তি করে যদি তার মূল্য ধরা হয়, তাহলে প্রায় ৪০ হাজার কোটি টাকার ভ্যাকসিন পেয়েছি। আমরা বেশিরভাগ বিনামূল্যে পেয়েছি। বাকিটা সরকারি অর্থায়নে কেনা হয়েছে।
একাত্তর/আরবিএস
