রাজধানীর উত্তরায় মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে যুদ্ধবিমান বিধ্বস্তের পর অন্তত ২০ শিক্ষার্থীকে বাঁচিয়ে প্রাণ হারানো শিক্ষক মাহেরিন চৌধুরীর আত্মার মাগফিরাত কামনায় এক বিশেষ দোয়া অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) আসরের নামাজ শেষে রাজধানীর জাহাঙ্গীর গেট সংলগ্ন শাহীন হলে এই দোয়া অনুষ্ঠিত হয়। নিহতের পরিবারের এই আয়োজনে অংশ নেন রাজনৈতিক, সামরিক ও সামাজিক অঙ্গনে বহু বিশিষ্ট ব্যক্তি।
তাদের মধ্যে ছিলেন- শিক্ষা উপদেষ্টা চৌধুরী রফিকুল আবরার, সেনাবাহিনী প্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান, সহকারী নৌবাহিনী প্রধান রিয়ার অ্যাডমিরাল মোহাম্মদ মুসা, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের পক্ষে মাহদি আমিন, দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভীসহ আরও অনেকে।

দোয়ার আগে সংক্ষিপ্ত বক্তব্য দেন মাহেরিনের স্বামী মনছুর হেলাল, তার ছোট ভাই মুনাফ ও ছোট বোন মেহতাজ । তারা মাহেরিনের স্মৃতি, তার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের স্বপ্ন এবং পারিবারিক জীবনের নানা আবেগ ঘন মুহূর্তগুলো তুলে ধরেন।
স্বামী মনছুর হেলাল আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, মাহেরিন শুধু আমার স্ত্রী ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমার জীবনের সবচেয়ে বড় প্রেরণা। তার হাসি, তার সরলতা, আর মানুষের প্রতি ভালোবাসা আমাদের সবার হৃদয়ে চিরকাল বেঁচে থাকবে।
ছোট ভাই জানান, মাহেরিন সবসময় পরিবারের সবার পাশে দাঁড়াতেন এবং সবার পড়াশোনায় যেমন মনোযোগী ছিলেন, তেমনি সবার প্রতি মমতাময়ী আচরণ করতেন।

ছোট বোন কাঁদতে কাঁদতে বলেন, আপু ছিল আমাদের পরিবারের আলোর উৎস। তার অনুপস্থিতি আমরা কোনোদিন পূরণ করতে পারবো না।
পরে দোয়া পরিচালনা করেন স্থানীয় মসজিদের খতিব। তিনি মাহেরিন চৌধুরীর রুহের মাগফিরাত, জান্নাতুল ফেরদৌস নসিব এবং শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি ধৈর্য ও শক্তি দানের জন্য আল্লাহর কাছে প্রার্থনা করেন।
দোয়া মাহফিল শেষে উপস্থিত অতিথিরা পরিবারের সদস্যদের সান্ত্বনা দেন এবং মাহেরিনের জন্য দোয়া অব্যাহত রাখার অনুরোধ জানান।
