তেলাপোকা মারতে গিয়ে নিজের পুরো অ্যাপার্টমেন্টই আগুনে পুড়িয়ে দিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার এক নারী। এতে তার এক প্রতিবেশীরও মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় গণমাধ্যমের বরাতে বিবিসির খবরে বলা হয়, অ্যাপার্টমেন্টে আগুন ছড়িয়ে পড়ার পর ওই নারীর এক প্রতিবেশী জানালা দিয়ে বের হতে গিয়ে ভারসাম্য হারিয়ে নিচে পড়ে মারা যান। যিনি আগুন দিয়ে তেলাপোকা মারার চেষ্টা করেছিলেন তার বয়স কুড়ির কোঠায়।
ওই নারী পুলিশকে বলেছেন, তিনি দাহ্য পদার্থ স্প্রে করে ও লাইটার দিয়ে একটি তেলাপোকা মারার চেষ্টা করছিলেন। এভাবে তিনি আগেও তেলাপোকা মেরেছেন। কিন্তু সোমবার (২০ অক্টোবর) এ কাজ করতে গেলে ঘরে আগুন ধরে যায়। সেখান থেকে পুরো অ্যাপার্টমেন্টে আগুন ছড়িয়ে পড়ে।
উত্তরাঞ্চলীয় ওসান শহরের পুলিশ বলেছে, ওই নারীর বিরুদ্ধে অগ্নিসংযোগ এবং অবহেলাজনিত কারণে মৃত্যুর অভিযোগ আনা হবে।
ওসান শহরের এই অগ্নিকাণ্ডে যিনি নিহত হয়েছেন, তিনি ছিলেন চীনের নাগরিক। তার বয়স ত্রিশের কোঠায়।
ভবনের পঞ্চম তলায় স্বামী ও দুই মাস বয়সী শিশুসন্তানসহ বসবাস করতেন। আগুন লাগার বিষয়টি বুঝতে পারার পর তারা জানালা খুলে সাহায্যের জন্য চিৎকার করেন। এরপর তারা তাদের শিশুটিকে পাশের ব্লকের এক প্রতিবেশীর হাতে জানালা দিয়ে তুলে দেন, তারপর নিজেরাও পালানোর চেষ্টা করেন। ওই নারীর স্বামী পাশের ব্লকে উঠে যেতে সক্ষম হলেও, তিনি পারেননি।
স্বামীর মতো একইভাবে চেষ্টা করতে গিয়ে জানালা থেকে নিচে পড়ে যান। গুরুতর আহত অবস্থায় তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়। তবে কয়েক ঘণ্টা পর চিকিৎসকরা তাকে মৃত ঘোষণা করেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সম্প্রতি তেলাপোকা মারতে লাইটার ও স্প্রে ব্যবহার করে ‘ঘরোয়া ফ্লেমথ্রোয়ার’ বানানোর ভিডিও জনপ্রিয় হয়েছে।
এর আগে, ২০১৮ সালে অস্ট্রেলিয়ায়ও এক ব্যক্তি এমন পদ্ধতিতে তেলাপোকা মারতে গিয়ে রান্নাঘরে আগুন লাগিয়ে ফেলেছিলেন।
হেভিমেটাল ড্রামার থেকে জাপানের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী