টানা তিনবারের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের রহস্যজনক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পেছনে রাজনীতি নাকি ব্যবসায়িক কারণ, তা তদন্ত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে গোয়েন্দা পুলিশ।
হত্যাকাণ্ডের মূল পরিকল্পনাকারী আখতারুজ্জামান শাহিনের সঙ্গে সংসদ সদস্যের কলকাতায় ব্যাবসায়িক লেনদেনের যে কথা সংবাদমাধ্যমে এসেছে, সে বিষয়ের কোনো সত্যতা আছে কিনা, তাও খুঁজে দেখা হচ্ছে।
তবে সবার আগে জড়িতদের গ্রেপ্তার এবং টুকরো টুকরো করে বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ফেলা মরদেহের খণ্ডিতাংশ উদ্ধার করতে পুলিশ তৎপর রয়েছে বলে জানিয়েছেন গোয়েন্দা প্রধান গোয়েন্দা প্রধান হারুন অর রশীদ।
ভারতের কলকাতায় একটি ফ্ল্যাটে আনোয়ারুল আজিম আনারকে হত্যায় জড়িত অভিযোগে বাংলাদেশে গ্রেপ্তার করা হয়েছে তিনজনকে। এদের মধ্যে রয়েছেন হত্যা মিশন বাস্তবায়নের প্রধান হোতা আমানুল্লাহ আমান ওরফে শিমুল ভুঁইয়া।
এদেরকে জিজ্ঞাসাবাদের ভিত্তিতে তথ্য সংগ্রহ করে বৃহস্পতিবার মিন্টু রোডের ডিবি কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আসেন ঢাকা মহানগর পুলিশের অতিরিক্ত কমিশনার হারুন অর রশীদ।

তিনি বলেন, প্রথমত, যারা এই হত্যাকাণ্ডে জড়িত, তাদের সবাইকে আমরা আগে গ্রেপ্তার করবো। তারপর আর্থিক, রাজনৈতিক বা আধিপত্য বিস্তারকে ঘিরে; কোন কারণে ঘটনাটি ঘটেছে, সেটাও আমাদের তদন্তে বের হয়ে আসবে।
‘পাশাপাশি আপনারা জানেন যে, ভিকটিম ও মূল পরিকল্পনাকারী এক সময় পরস্পরের বন্ধু। একসঙ্গে খেলাধুলা করতেন। এখন তার সঙ্গে আদৌ কোনো ব্যবসা ছিল কিনা, তাদের সাথে কলকাতায় কোনো লেনদেন আছে কিনা, এটা আসলে তদন্ত না করে বলা যাবে না,’ বলেন তিনি।
ডিবি প্রধান বলেন, আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যার রাজনৈতিক বা অর্থনৈতিক যে কারণই থাকুক, হত্যার উদ্দেশ্যেই তারা প্রথমে বাংলাদেশে মাটিকে ব্যবহার করতে চেয়েছিলো।
‘যেহেতু ডিবি পুলিশ এর আগে অনেক হত্যাকাণ্ডের ক্লু বের করেছে। তাই তারা সাহস না পেয়ে দেশের ন বাইরের মাটিতে হত্যা করার প্ল্যান করেছে,’ বলেন হারুন।
চিকিৎসার কথা বলে গত ১২ মে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে ভারতের কলকাতায় যাওয়ার পরদিন রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান আনোয়ারুল আজিম আনার।

বুধবার সকালে তার খুনের খবর প্রকাশ্যে আসে। পুলিশ বলছে, কলকাতার উপকণ্ঠে নিউটাউনের অভিজাত আবাসন সঞ্জীভা গার্ডেনের একটি ফ্ল্যাটে আনারকে খুন করা হয়।
হত্যার পর ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্যের মরদেহের হাড় ও মাংস আলাদা করে তা বিভিন্ন জায়গায় ফেলা দেওয়া হয়েছে। মরদেহ ফেলায় মূল সন্দেহভাজন সিয়ামকে গ্রেপ্তার করেছে কলকাতা পুলিশ। কিন্তু এখনো দেহের কোনো অংশই উদ্ধার করা যায়নি।
কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আনোয়ার আজিম প্রথমে পৌর কাউন্সিলর হয়েছিলেন বিএনপি থেকে। পরে আওয়ামী লীগে যোগ দিয়ে ২০০৯ সালে কালীগঞ্জ উপজেলা চেয়ারম্যান হয়। ২০১৪ সাল থেকে নৌকা প্রতীকে টানা তিনবার সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন আনার।
এদিকে আনোয়ারুল আজিম আনারকে নৃশংস হত্যার ঘটনা তদন্তে বাংলাদেশে পৌঁছেছে ভারতের পুলিশের একটি দল। তারা বাংলাদেশের গোয়েন্দাদের সঙ্গে বৈঠক করছেন। গ্রেপ্তার তিনজনকেও জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারেন তারা।
