ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যাকাণ্ডে শুরু থেকে এক রহস্যময়ী নারীর প্রকাশ্যে আসে। বলা হয় শিলাস্তি রহমান নামে এই নারীই এমপি আনারকে কলকাতায় নিয়ে আসেন। খুনের মূল পরিকল্পনাকারী আখতারুজ্জামান শাহীন এই শিলাস্তিতে হ্যানি ট্রাপ হিসাবে ব্যবহার করেছিলেন।
এমপি আনার হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত সন্দেহে প্রথমেই যে তিন জনকে গ্রেপ্তার করা হয়, তাদের মধ্যে এই শিলাস্তি রহমান ছিলেন। শুক্রবার এমপি আনার হত্যার ঘটনায় গ্রেপ্তার তিন আসামির আট দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছে আদালত। হেফাজতে নিয়ে তাদেরকে বিস্তারিত জেরা করবে গোয়েন্দারা।
রিমান্ড শুনানির আগে আদালতের এজলাসে আসামিদের রাখার ডকে উঠানো হয় তিন আসামিকে। এ সময় হাউমাউ করে কান্না করতে দেখা যায় শিলাস্তিকে। শুনানির এক পর্যায়ে একজন আইনজীবী ওকালতনামায় শিলাস্তির সই নিতে যান। এ সময় তিনি ওই আইনজীবীকে বলেন, আমি কেন সই করব? আমি কি আসামি?

শিলাস্তি রহমান আরও বলেন, আমাকে এখানে কেন আনা হয়েছে, আমি জানতে চাই। আমাকে বলা হয়েছে সাক্ষী দিয়ে চলে যাবা। আমি শুধু ওই বাসায় ছিলাম। এছাড়া আমি কিছুই জানি না। এর আগে দুপুর আড়াইটার দিকে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে তাদের হাজির কর হয়।
শিলাস্তি এই হত্যাকাণ্ডের মূলহোতা শাহীনের গার্লফ্রেন্ড। শাহীন মার্কিন নাগরিক এবং তার পরিবার যুক্তরাষ্ট্রেই থাকে। তবে তিনি মাঝেমধ্যেই বাংলাদেশে এলে শিলাস্তিকে নিয়ে কলকাতায় প্রমোদভ্রমণে যেতেন। সেখানে কিছুদিন থেকে আবার দেশে চলে আসতেন। তাদের মধ্যে কয়েক বছর ধরেই সম্পর্ক রয়েছে।
২০ বছরের তরুণী শিলাস্তির বাড়ি টাঙ্গাইলে। তার পরিবার সেখানেই থাকে। ঢাকার উত্তরার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিবিএ দ্বিতীয় বর্ষের ছাত্রী তিনি। উত্তরাতেই একটি মেস বাসায় তিনি থাকেন। তার বিষয়ে খুব বেশি তথ্য দিতে নারাজ ডিবি, বলছে হত্যাকাণ্ডে জড়িত থাকার প্রমাণ পেলেই তার বিষয়ে জানানো হবে।
ঢাকা থেকে ৩০ এপ্রিল শাহীন ও শিমুলের সঙ্গে প্লেনে কলকাতায় যান শিলাস্তি রহমান। সেখান নিউ টাউনের বহুতল আবাসন সঞ্জীভা গার্ডেন্সে যে ফ্ল্যাটে খুন হন আনার, সেখানেই ছিলেন শিলাস্তি। পরে ১৫ মে হত্যার মূল দায়িত্ব থাকা চরমপন্থি নেতা শিমুলের সঙ্গে একই ফ্লাইটে ঢাকায় ফেরার পর পুলিশের কাছে আটক হন।
‘গার্লফ্রেন্ড’ শিলাস্তি ফেরার পর ঢাকা ছাড়েন শাহিন