ভারতের চিকিৎসার জন্য গিয়ে ‘খুন হওয়া’ আওয়ামী লীগের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমের মরদেহ নিয়ে ধূম্রজাল সৃষ্টি হয়েছে। তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে কি না তা এখনও নিশ্চিত করেনি কোনো কর্তৃপক্ষ।
কলকাতা পুলিশও এ নিয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো বক্তব্য দেয়নি। তারা বলছে, তদন্তের স্বার্থে তারা এখন কিছু বলবে না।
সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম গত ১২ মে কলকাতায় চিকিৎসার জন্য গিয়েছিলেন। পরদিন চিকিৎসকের কাছে গিয়ে আর ফেরেননি জানিয়ে জানিয়ে ১৮ মে কলকাতার বরাহনগর থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন আনোয়ারুল আজিমের বন্ধু গোপাল বিশ্বাস। পরে তার হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে গোপালকে জানানো হয়, বিশেষ কাজে তিনি দিল্লি যাচ্ছেন।
পরের কয়েক দিনে দুই দেশের পুলিশের মধ্যে যোগাযোগের পর বুধবার সকালে কলকাতার সংবাদমাধ্যমে আনারের খুন হওয়ার খবর আসে।
পশ্চিমবঙ্গ পুলিশের আইজি (সিআইডি) অখিলেশ চতুর্বেদী জানান যেই ফ্ল্যাটটিতে সংসদ সদস্য এসে উঠেছিলেন সেটি সন্দীপ রায় নামে এক ব্যক্তির। তিনি পশ্চিমবঙ্গ সরকারের আবগারি দপ্তরে কাজ করেন। তিনি ভাড়া দিয়েছিলেন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের (প্রবাসী বাংলাদেশি) বাসিন্দা আখতারুজ্জামান নামের এক ব্যক্তিকে।
সঞ্জীবা গার্ডেনের তিন বেডরুমের ওই ফ্ল্যাটে গত ১৩ মে দুপুরের পর এমপি আনার এবং এক নারীসহ মোট চারজন ঢোকে। পরে তারা বেরিয়ে যায়। তবে এমপি বের হননি। আনারের ফোনের টাওয়ার লোকেশন ছিল ওই ফ্ল্যাটে।
যে ফ্ল্যাটে আনোয়ারুল আজিম ছিলেন বলে মনে করা হচ্ছে, সেই ফ্ল্যাটে রক্তের দাগ মিলেছে। ফরেনসিক বিশেষজ্ঞরা সেখান থেকে সআঙুলের ছাপ এবং রক্তের নমুনা সংগ্রহ করেছে।
কলকাতা পুলিশ সূত্র বলছে তাদের ধারণা ওই ফ্ল্যাটে আনারকে হত্য করে তার দেহ টুকরো টুকরো করা হয়। সেই দেহাংশ এখনও মেলেনি। তবে ফ্ল্যাটে রক্তের নমুনা মিলেছে। পুলিশ কয়েকজনকে খুঁজে পেয়েছে।
এদিকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের বলেছেন, কলকাতা পুলিশ বাংলাদেশের উপহাইকমিশনকে জানিয়েছে ওই ফ্ল্যাটে সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিমকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে, তবে সেখানে পুলিশ কোনো লাশ খুঁজে পায়নি।
বুধবার দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এক অনুষ্ঠান শেষে পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাছান মাহমুদ সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এমপি আনোয়ার সাহেবের হত্যাকাণ্ড অত্যন্ত দুঃখজনক ও মর্মান্তিক। কলকাতা পুলিশ যে ফ্ল্যাটে তাকে হত্যা করা হয়েছে বলে ধারণা করছে, সেখানে কোনো লাশ খুঁজে পায়নি। তবে হত্যাকাণ্ডের পর কয়েকজনকে আটক করা হয়েছে। ডিবি আটক করেছে, কলকাতা পুলিশও দুজনকে আটক করেছে। কীভাবে এ হত্যাকাণ্ড ঘটানো হয়েছে, সে ব্যাপারে তদন্ত চলছে।
পরে দুপুরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল নিজের বাসায় এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, আনোয়ারুল আজীম আনারকে কলকাতার একটি বাসায় ‘পরিকল্পিতভাবে খুন’ করা হয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ড নিয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বিস্তারিত বলবে বলে জানিয়েছেন হাছান মাহমুদ। তিনি বলেন, ‘আমরা কলকাতায় আমাদের উপহাইকমিশনের মাধ্যমে খোঁজ রাখছি। মিশন কলকাতা পুলিশের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।’
কালীগঞ্জ ও সদর উপজেলার একাংশ নিয়ে গঠিত ঝিনাইদহ-৪ আসন থেকে গত তিনবার টানা সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছেন আনোয়ারুল আজিম আনার। পেশার ব্যবসায়ী এই সংসদ সদস্য কালীগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক।
এমপি আনারের ফোন ও ম্যাসেজ নিয়ে যত রহস্য