ঝিনাইদহ-৪ আসনের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনারের চাঞ্চল্যকর হত্যাকাণ্ডে অভিযুক্ত জেলা আওয়ামী লীগ নেতা কাজী কামাল আহমেদ ওরফে গ্যাস বাবুকে আবারও রিমান্ডে নিতে চায় গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)।
জিজ্ঞাসাবাদের জন্য গ্যাস বাবুকে হেফাজতে নিতে রোববার ঢাকার আদালতে এ আবেদন করেছে ডিবি।
এর আগে গত ৯ জুনও তাকে সাত দিনের রিমান্ডে নেয়া হয়েছিলো। এরপর ১৪ জুন আদালতে স্বেচ্ছায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দেন বাবু। পরে তাকে কারাগারে পাঠানো হয়।
গত ৬ জুন রাতে ঝিনাইদহ শহরের আদর্শপাড়া এলাকা থেকে ঝিনাইদহ জেলা আওয়ামী লীগের ত্রাণ ও সমাজকল্যাণ সম্পাদক কাজী কামাল আহম্মেদ বাবু ওরফে গ্যাস বাবুকে আটক করে ডিএমপির ডিবি পুলিশের একটি দল।
স্থানীয়দের দাবি, কাজী কামাল আহম্মেদ বাবু এমপি আনোয়ারুল আজিম আনার হত্যার অন্যতম হোতা শিমুল ভূঁইয়ার নিকটাত্মীয়।
তদন্তসংশ্লিষ্ট ও আদালত সূত্রে জানা যায়, কাজী কামাল ওরফে গ্যাস বাবু স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিতে বলেছেন, এমপি আজিমকে হত্যার পরিকল্পনার সময় ও হত্যার পর মূল পরিকল্পনাকারী আক্তারুজ্জামান শাহীনের সঙ্গে তার একাধিকবার বৈঠক হয়।
বৈঠকে হত্যার জন্য করা চুক্তির টাকার একটি অংশ সাইদুল করিম মিন্টুর কাছ থেকে নিয়ে হত্যা পরিকল্পনা বাস্তবায়নকারী আমানুল্লাহ ওরফে শিমুল ভূঁইয়াকে দেয়ার দায়িত্ব দেয়া হয় তাকে। এ জন্য এমপি খুনের পর আমানুল্লাহর সঙ্গে তার (কামাল) একাধিকবার মোবাইলে কথা হয় এবং সাক্ষাৎ হয়। কিন্তু টাকা নিয়ে দেওয়ার আগেই গ্রেপ্তার হন আমানুল্লাহ।
তদন্তসংশ্লিষ্ট ডিবি কর্মকর্তাদের তথ্যে জানা গেছে, এমপি আজিমকে হত্যার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক আক্তারুজ্জামান শাহীন পাঁচ কোটি টাকায় খুনি ভাড়া করেছিলেন।
গত ১২ মে ঝিনাইদহের কালীগঞ্জ থেকে কলকাতায় যাওয়ার পরেরদিন রহস্যজনকভাবে নিখোঁজ হয়ে যান তিনবারের সংসদ সদস্য আনোয়ারুল আজিম আনার।
এরপর ২২ মে সকালের দিকে তার খুনের খবর প্রকাশ্যে আসে। পুলিশ বলছে, কলকাতার উপকণ্ঠে নিউটাউনের অভিজাত আবাসন সঞ্জীবা গার্ডেনসের একটি ফ্ল্যাটে আনারকে খুন করা হয়।
খুনের আলামত মুছে ফেলতে দেহ কেটে টুকরো টুকরো করে ফেলা হয়। এরপর সুটকেস ও পলিথিনে ভরে ফেলে দেওয়া হয় বিভিন্ন জায়গায়।
ঝিনাইদহে ‘কঠিন বাস্তবতায়’ আওয়ামী লীগের প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী পালিত
একাত্তর টিভির মহিম মিজানকে হুমকি ও বিষোদগার