নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে তরুণদের বিক্ষোভ-সহিংমতা দমনে পুলিশ নির্বিচারে গুলি চালানোর ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা বাড়তে থাকায় শহরটির বিভিন্ন হসপাতালের রক্তের জন্য হাহাকার তৈরি হয়েছে। সোমবার সকাল থেকে শুরু হওয়া বিক্ষোভ আন্দোলনে আহতদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালগুলোতে রক্তের চাহিদা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। খবর দ্য কাঠমান্ডু পোস্টের।
ব্লাড ব্যাংক নামে পরিচিত সেন্ট্রাল ব্লাড ট্রান্সফিউশন সার্ভিসের মতে, আহত বিক্ষোভকারীদের হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর, সোমবার সন্ধ্যায় এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত জাতীয় ট্রমা সেন্টার এবং বীর হাসপাতালে ২০০ ব্যাগেরও বেশি রক্ত সরবরাহ করা হয়েছে।
সেন্ট্রাল ব্লাড ট্রান্সফিউশন সার্ভিসের সিনিয়র টেকনিক্যাল অফিসার সঞ্জীব কুমার যাদব বলেন, রক্তের জন্য আমাদের ফোন ক্রমাগত বেজে উঠছিল। আহতদের চিকিৎসা করা হাসপাতালগুলো রক্তের জন্য আমাদের সাথে যোগাযোগ করছে। আমরা আমাদের শেষটুকু দিয়ে রক্তের ব্যাগ সরবরাহ করে যাচ্ছি।
কর্মকর্তারা বলছেন, তারা সোমবার ১,২০০ ব্যাগ রক্ত সংগ্রহ করেছেন এবং মানুষ স্বেচ্ছায় দানের জন্য লাইনে দাঁড়িয়ে আছেন। যাদব বলেন, মনে হচ্ছে রক্তের চাহিদা আরও বাড়বে। রক্ত সংগ্রহের জন্য আমরা ২০ জন কর্মকর্তা মোতায়েন করেছি। সব ধরনের ছুটি বাতিল করা হয়েছে।
নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডুতে সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা এবং দুর্নীতির বিরুদ্ধে তরুণদের বিক্ষোভে পুলিশের গুলিতে এখন পর্যন্ত ১৯ জনের মৃত্যুর খবর পাওয়া গেছে। সোমবার স্থানীয় সময় সন্ধ্যা পৌনে সাতটায় স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে দ্য কাঠমান্ডু পোস্ট মৃত্যুর এই নতুন সংখ্যা জানায়।
এদিকে নেপালের প্রধানমন্ত্রী কে পি শর্মা ওলি এই ঘটনায় জরুরি মন্ত্রিসভা বৈঠক ডেকেছেন। এক সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, চাপের মুখে সরকার সোশ্যাল মিডিয়া নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়টি বিবেচনা করছে। পাশাপাশি তরুণদের দাবি উপেক্ষা না করছে সরকারের প্রতি আহবান জানিয়েছেন দেশটির বিশিষ্ট নাগরিকরা। তারা সতর্ক করে বলেছেন, দাবি অবজ্ঞা করা হলে আগামী পরিস্থিতি ভয়াবগ হবে।
