সকাল থেকে টানা বৃষ্টিতে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। নগরীর বিভিন্ন এলাকায় মূল সড়ক পেরিয়ে অলিগলিতেও পানি ঢুকে পড়েছে।
মিরপুরের কাজীপাড়ায় মেট্রোরেল কর্তৃপক্ষের অবহেলার কারণে ড্রেনটি অকেজো হয়ে পড়াতেই জলাবদ্ধতার দুর্ভোগ বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় কাউন্সিলর।
ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে ভোররাত থেকেই রাজধানীতে বৃষ্টি। সকাল পর্যন্ত থেমে থেমে মাঝারি মাত্রার বৃষ্টিপাত হলেও বেলা ১২টার পর শুরু হয় ভারী বর্ষণ।
সকালের মাঝারি বৃষ্টিতেই মিরপুরের কাজীপাড়া থেকে শেওড়াপাড়া পর্যন্ত তৈরি হয় জলাবদ্ধতা। ময়লা আবর্জনায় আটকে থাকা ড্রেনগুলো পরিস্কার করতে নামে উত্তর সিটি করপোরেশনের পরিচ্ছন্ন কর্মীরা।

কাজীপাড়ার বাসিন্দাদের অভিযোগ, মেট্রোরেল নির্মাণের সময় টানা পাঁচটি বছর তারা দুর্ভোগের শিকার হয়েছেন। মেট্রোরেল চালুর পর ঝকঝকে রাস্তা হলেও, জলাবদ্ধতার দুর্ভোগটা রয়েই গেছে। দুপুরের ভারি বৃষ্টিতে রাস্তা ছাপিয়ে ডুবে গেছে ফুটপাথ অলি-গলি।
রাস্তার দুর্ভোগ দেখতে মাঠে ছিলেন ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসি) ১৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাউন্সিলর হুমায়ুন রশীদ জনি। তার অভিযোগ মেট্রোরেলের ঠিকাদারের বিরুদ্ধে। তিনি বলেন, তাদের অবহেলাতেই এই এলাকার মূল ড্রেনটি অকেজো হয়েছে।
বৃষ্টির পানিতে প্রায় অচল ছিলো মিরপুর দশ নম্বর, ১১ নম্বর, ইব্রাহীমপুরসহ আশপাশের এলাকা। এদিকে বিকেলে পান্থপথ এলাকার রাস্তায় গাছ পড়ে আটকে যায় সড়ক।
এদিকে আবহাওয়া অফিস জানিয়েছে রাজধানী ঢাকায় সকাল থেকে বিকেল তিনটা পর্যন্ত ১১৬ মিলিমিটার অতি ভারী বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
এরমধ্যে ভোর ৬টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ৭০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। এরপর দুপুর ১২টা থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত ৪৫ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে। অবশ্য সন্ধ্যার পরও ঢাকায় বৃষ্টি থাকবে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অফিস।
রাজধানীর বাড্ডা, গ্রিনরোড, নিউমার্কেট, ধানমন্ডি ২৭, মানিক মিয়া অ্যাভিনিউ, মিরপুর ১০, ১৩ ও ১৪ নম্বর, মালিবাগ, শান্তিনগর, সায়েদাবাদ, শনির আখড়া, পুরান ঢাকা, বংশাল, নাজিমুদ্দিন রোড, হাতিরঝিলের কিছু অংশ, আগারগাঁও থেকে জাহাঙ্গীর গেট যেতে নতুন রাস্তা, খামারবাড়ি থেকে ফার্মগেট, ফার্মগেট-তেজগাঁও ট্রাক স্ট্যান্ড সংলগ্ন এলাকা, মোহাম্মদপুরের কিছু অংশ, মেরুল বাড্ডা, ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকা, ইসিবি, গুলশান লেকপাড় এলাকার সংযোগ সড়ক, বারিধারা কিছু রাস্তা এবং এসব সড়কের আশপাশের অলি-গলিতে পানি জমে জলাবদ্ধতা তৈরি হয়েছে।
রাজধানীর বিভিন্ন জায়গায় অল্প কিছু গাছ উপড়ে পড়তে দেখা গেঘে। এর মধ্যে বিকেলে পান্থপথে গাছ উপড়ে বন্ধ থাকে রাস্তা।

রাস্তাঘাটে পানি জমায় সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত নানা বিড়ম্বনায় পড়েছেন কাজে বের হওয়া সাধারণ মানুষ। অফিস ফেরত যাত্রীরাও পড়েছেন বিপাকে। অনেক এলাকায় জলাবদ্ধতার কারণে ভ্যান দিয়ে সড়ক পারাপার হতে দেখা গেছে নগরবাসীকে।
বাড্ডায় অফিস ফেরত আরিফ হোসেন বলেন, সকালে আসার সময় অনেক সময় নষ্ট হয়েছে। ঠিকমতো বাস পাইনি। আবার এখনও একই অবস্থা। সিএনজিগুলো ভাড়া চাইছে তিনগুণ।
ক্ষোভ প্রকাশ করে মোহাম্মদপুরের এই বাসিন্দা বলেন, বৃষ্টি হলে রাস্তায় পানি জমে যায়। ভোগান্তিতে পড়তে হয় আমাদের। সিটি করপোরেশনের কাজটা কী?
একদিকে টানা বৃষ্টি, অন্যদিকে জলাবদ্ধতা- এই মিলে রাজধানীর সব সড়কেই কমে গেছে গণপরিবহন। এই সুযোগে বাড়তি ভাড়া আদায় করছেন ঢাকার রিকশা ও সিএনজিচালকরা।
রাজধানীর ধানমন্ডি ২৭ থেকে কারওয়ান বাজার, এরপর হাতিরঝিল হয়ে বাড্ডা এলাকায় আসা আবু কায়েস নামে একজন বলেন, যে রাস্তা দিয়ে সিএনজিতে চড়ে এসেছি তার বেশিরভাগ সড়কেই জলাবদ্ধতা দেখেছি। পথে পথে মানুষের ভোগান্তি। পানির কারণে যানবাহন যাওয়ার পর ঢেউ আছড়ে পড়ছে ফুটপাতে। বাস না পেয়ে দ্বিগুণ ভাড়ায় সিএনজি করে আসলাম।
এদিকে কোথাও জলাবদ্ধতা হলে, পানি জমে থাকলে হটলাইনে যোগাযোগ করার (১৬১০৬) আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন (ডিএনসিসি)। সংস্থাটি জানিয়েছে, জলাবদ্ধতা যেন সৃষ্টি না হয় সেজন্য কাজ করছে ডিএনসিসি কুইক রেসপন্স টিম।
সোমবার সকাল থেকে ডিএনসিসির আওতাধীন বিভিন্ন এলাকায় এই টিম কাজ করছে বলে জানানো হয়েছে। কোথাও পানি জমে থাকলে ডিএনসিসির হটলাইন ১৬১০৬ নম্বরে ফোন করার জন্য অুনরোদ করা হয়েছে।

এদিকে ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশন জানিয়েছে জলাবদ্ধতা নিরসনে তাদের ৯১টি দল (প্রতি দলে পাঁচজন কর্মী) মাঠ পর্যায়ে কাজ করছে। করপোরেশনের আওতাধীন এলাকায় কোথাও বৃষ্টিপাতজনিত জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হলে নগরবাসীকে ০১৭০৯৯০০৮৮৮ নম্বরে ফোন করার অনুরোধ করেছে।
বৃষ্টিতে তলিয়েছে চট্টগ্রাম 