ঘূর্ণিঝড় রিমালে ক্ষত-বিক্ষত পটুয়াখালী জেলার প্রায় সব বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধ। পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসেবেই ২২ কিলোমিটার বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। জেলার বিভিন্ন নদীর দুই শোরও বেশি পয়েন্টে বাঁধ ভেঙে যাওয়ায় আতঙ্কে নদীর পাড়ের মানুষ। পানি উন্নয়ন বোর্ড জরুরি ভিত্তিতে ক্ষতিগ্রস্ত বাঁধ মেরামত করলেও স্থায়ী বাঁধ নির্মাণের দাবি জানিয়েছে এলাকাবাসী।
ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাস হয় ৮ ফুটের বেশি। বেড়ে যাওয়া পানির স্থায়িত্বও ছিলো অন্য সময়ের চেয়ে অনেক বেশি। এতে আগুনমুখা, বুড়াগৌরাঙ্গ, পায়রা, তেঁতুলিয়াসহ বিভিন্ন নদীর দুই শতাধিক পয়েন্টে ভেঙে যায় বাঁধ।
অমাবস্যা-পূর্ণিমায় বাড়ে নদ-নদীর পানি। সামনেই অমাবস্যার জো, তাই বাঁধের ক্ষতিগ্রস্ত অংশ দিয়ে আবারো পানি ঢোকার শঙ্কায় নদী পাড়ের মানুষ।

স্থানীয়রা বলছেন, বেশ কয়েকবার অনেক কষ্টে বাড়িঘর তৈরি করলেও তারা কোনোভাবেই তা রক্ষা করতে পারছেন না। দ্রুত তারা এ সমস্যার সমাধান চান।
এবারের জলোচ্ছ্বাসে কেউ হারিয়েছেন ঘর-বাড়ি, কেউ হারিয়েছেন জমির ফসল আবার কেউ হারিয়েছেন পুকুর-ঘেরের মাছ। রাস্তাঘাট হয়েছে ক্ষত-বিক্ষত। তাই স্থায়ী বাঁধের দাবি তাদের।

ক্ষতিগ্রস্ত এলাকা পরিদর্শনে গিয়ে পটুয়াখালী-১ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম রুহুল আমীন হাওলাদারও বললেন, স্থায়ী বাঁধ ছাড়া এই সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
তিনি জানান, তিনি সরকারের কাছে স্থানীয় বাঁধ নির্মাণের জন্য সুপারিশ করবেন।

আর পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ হোসেন জানালেন, স্থায়ী বেড়িবাঁধ নির্মাণে তাদের পরিকল্পনার কথা।
তিনি বলেন, আমরা চেষ্টা করছি আগামী বর্ষা মৌসুমের আগেই ঝুঁকিপূর্ণ যেসব জায়গা আছে, তা সংস্কার করার।
পানি উন্নয়ন বোর্ডের হিসেব, রিমালের প্রভাবে জেলার ১২৩ কিলোমিটার বন্যা নিয়ন্ত্রণ বাঁধের মধ্যে সম্পূর্ণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ২২ কিলোমিটার।
গত ২৬ মে বিকেলে উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় রিমাল। এটি মঙ্গলবার বিকেল পর্যন্ত ছিলো বাংলাদেশের ভূখণ্ডে। বঙ্গোপসাগরে সৃষ্টি হওয়া ঘূর্ণিঝড় রিমাল উপকূলে আঘাত হানার পর থেকে প্রায় ৫০ ঘণ্টা পর্যন্ত বাংলাদেশে অবস্থান করে।
সিলেটে বন্যার উন্নতি, দুর্গতদের পাশে নেই কেউ
শ্রীলঙ্কায় বন্যায় ১৪ জনের প্রাণহানি