ঘূর্ণিঝড় রিমালের আঘাতে বিপর্যস্ত উপকূল। সময় বাড়ার সাথে সাথে ফুটে উঠেছে রিমালের ক্ষত। ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও এখনো ত্রাণ না পাওয়ার অভিযোগ করেছেন দুর্গত এলাকার বাসিন্দারা।
উপকূলের ছয় জেলায় এ পর্যন্ত অন্তত ১০ জনের মৃত্যু হয়েছে। তাদের বেশিরভাগই মারা গেছেন গাছ চাপায় আর দেয়াল ধসে। ঝোড়ো হাওয়ায় বিধ্বস্ত হয়েছে বহু ঘরবাড়ি। বাঁধ ভেঙে তলিয়ে গেছে গ্রামের পর গ্রাম। বেশকিছু স্থানে বন্ধ হয়ে গেছে সড়ক যোগাযোগ। ঘূর্ণিঝড়ের তাণ্ডবে বিদ্যুৎ-সংযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে কয়েকটি জেলায়।

পটুয়াখালী জেলার অসংখ্য গ্রাম এখনো পানিতে তলিয়ে আছে। সেখানে বিধ্বস্ত হয়েছে কয়েক হাজার বাড়িঘর দোকানপাট। গত দু’দিন ধরেই অন্তর্ভুক্ত এসব এলাকার বেশিরভাগ মানুষ। খাবারের জন্য বেশি কষ্টে আছে শিশু ও বয়স্করা। শুধু বাড়িঘর নয় অনেক শিক্ষা প্রতিষ্ঠানও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে ঘূর্ণিঝড়ে।
ঘূর্ণিঝড় রিমাল স্থল নিম্নচাপে রূপ নেয়ার পর দেশের বিভিন্ন এলাকায় দমকা বাতাসসহ চলছে ভারী বৃষ্টি। টানা বৃষ্টির কারণে বেশ কিছু এলাকায় তৈরি হয়েছে জলাবদ্ধতা। দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ভোগান্তিতে পড়ছেন সাধারণ মানুষ।

সোমবার রাত থেকে একটানা তীব্র দমকা হাওয়া ও বৃষ্টিতে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে মৌলভীবাজারের জনজীবন। মধ্যরাত থেকে থেমে থেমে বৃষ্টির কারণে শহরে জলাবদ্ধতাও সৃষ্টি হয়েছে। এতে বিপাকে পড়েছে হাজার মানুষ।
ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে উপকূলীয় উপজেলা বাগেরহাটের শরণখোলা। এখনো পানিবন্দি আছে কমপক্ষে পাঁচ হাজার পরিবার। ঘরবাড়ি বিধ্বস্ত হওয়ায়, দুই দিন ধরে চুলা জ্বলছে না অনেক পরিবারে। শুকনা খাবার খেয়ে দিন কাটছে দুর্গত এলাকার বাসিন্দাদের।
এক কোটি ৩১ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন

ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে সারাদেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে প্রায় এক কোটি ৩১ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। তবে ঝড়, দমকা হাওয়া ও বৃষ্টি থামার সঙ্গে সঙ্গেই গ্রাহকদের সংযোগ দিতে উদ্যোগ নিতে দেখা যায় বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ মন্ত্রণালয়কে।
এক বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, ঘূর্ণিঝড়ে সারা দেশে বিদ্যুৎ সরবরাহ পরিস্থিতি কেন্দ্রীয়ভাবে কন্ট্রোল রুমের মাধ্যমে ২৪ ঘণ্টা তদারকি করা হয়েছে।
সারাদেশের ৪৮ শতাংশের বেশি মোবাইল সাইট ‘অচল’
ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে সারাদেশে ৪৮.৭১ শতাংশ মোবাইল ফোনের সাইট ‘অসচল’ হয়ে গিয়েছিলো বলে জানিয়েছে বাংলাদেশে টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন-বিটিআরসি।

প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে সারাদেশে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতির মধ্যে প্রায় এক কোটি ৩১ লাখ গ্রাহক বিদ্যুৎহীন হয়ে পড়ে। মূলত বিদ্যুৎ না থাকায় মোবাইল টাওয়ারগুলো অচল হয়।
ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে ৩৭ লাখ মানুষ, বিধ্বস্ত দেড় লাখ বাড়ি
প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে দেড় লাখের বেশি বাড়িঘর সম্পূর্ণ ও আংশিকভাবে বিধ্বস্ত হয়েছে বলে সরকারিভাবে জানানো হয়েছে।
ক্ষতিগ্রস্ত সাড়ে ৩৭ লাখ মানুষের মধ্যে প্রায় আট লাখ আশ্রয়কেন্দ্রে উঠেছে, সেখানে আশ্রিত গৃহপালিত পশুর সংখ্যাও অর্ধ লাখের বেশি।
ঘূর্ণিঝড় রিমাল পরবর্তী পরিস্থিতির সর্বশেষ খবর জানাতে এসব তথ্য জানিয়েছেন দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ প্রতিমন্ত্রী মহিববুর রহমান।
জলোচ্ছ্বাসে ডুবে যায় উপকূলীয় এলাকা
প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে উপকূলীয় এলাকায় দমকা হাওয়াসহ প্রচুর বৃষ্টি হয়েছে। পাঁচ থেকে ছয় ফুট জলোচ্ছ্বাসে বেড়িবাঁধ ভেঙে ডুবে যায় উপকূলীয় জেলাগুলোর নিচু এলাকা।
বাগেরহাটের শরণখোলায় পূর্ব সুন্দরবনে সাগরের পানি ঢুকে ব্যাপক এলাকা প্লাবিত হয়। বনের বাঘ ও হরিণসহ অন্যান্য প্রাণী বনের উঁচু জায়গায় আশ্রয় নিতে দেখা যায়। বনরক্ষীরা সে সময় আশ্রয় নেন বনবিভাগের রেস্ট হাউস কাম সাইক্লোন সেল্টারে।

রোববার সন্ধ্যায় ১২০ কিলোমিটার বেগে সুন্দরবন দিয়ে উপকূলে আঘাত হানে ঘূর্ণিঝড় রিমাল। ঝড়ের প্রভাবে প্রভাবে ঢাকাসহ সারাদেশে ভারী বৃষ্টি অব্যাহত রয়েছে।
আবহাওয়া অফিস বলছে, ঘূর্ণিঝড়টি দুর্বল হয়ে বর্তমানে স্থল নিম্নচাপ আকারে অবস্থান করছে। উপকূলীয় এলাকা থেকে ধীরে ধীরে তা সিলেট হয়ে ভারতের আসামের দিকে চলে যাচ্ছে।
আর এর প্রভাবে মঙ্গলবার দুপুর পর্যন্ত বৈরী আবহাওয়া থাকার সম্ভাবনাও জানায় আবহাওয়া অধিদপ্তর।
রাঙ্গাবালীতে রিমাল তাণ্ডবে ছয় হাজার ঘরবাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত
দুর্যোগ ঝুঁকিতে নারীর প্রজনন স্বাস্থ্য