প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে খুলনার পাইকগাছা, কয়রা ও দাকোপ উপজেলার বেশ কয়েকটি জায়গায় বেড়িবাধ ভেঙে জলোচ্ছ্বাসের তোড়ে ভেসে গেছে শত শত ঘেরের মাছ।
স্বেচ্ছাশ্রমে নিজেরাই ভাঙা বাঁধ মেরামতের কাজ শুরু করে দিয়েছে গ্রামবাসীরা। এছাড়া ঝড়ো বাতাসে ধসে পড়েছে বেশ কিছু কাঁচা ঘর, উড়ে গেছে টিনের চাল।
রোববার সন্ধ্যায় ১২০ কিলোমিটার বেগে সুন্দরবন দিয়ে উপকূলে আঘাত হানে রিমাল। জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হয় সাতক্ষীরা, খুলনা, বাগেরহাট, বরগুনা, পটুয়াখালী, ভোলাসহ কয়েকটি জেলার বিভিন্ন এলাকা।
রিমালের তাণ্ডবে উপকূলের বিভিন্ন এলাকা কয়েক ফুট উঁচু জলোচ্ছ্বাসে তলিয়ে গেছে। বেড়িবাঁধ ভেঙে ডুবে গেছে উপকূলীয় জেলাগুলোর নীচু এলাকা।
ঝড়ের প্রভাবে বাড়িঘর, গবাদিপশু, মাঠের ফসল, ক্ষেতের ফল ও সবজি এবং প্রচুর গাছপালার ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। মৃত্যুর খবর এসেছে কয়েকজনের।

খুলনার পাইকগাছা, কয়রা ও দাকোপ উপজেলা ঘেরে মাছ চাষের জন্য বিখ্যাত। ঘূর্ণিঝড়ের প্রভাবে জলোচ্ছ্বাসে প্রায়ই ক্সতির মুখে পড়ে মাছ চাষিরা।
রিমালের প্রভাবে কয়রা উপজেলার দশালিয়া মহেশ্বরপুর, নয়য়ানি, পাইকগাছার কুমখালি, খুদ খালি, গড়ইখালী, আলমতলার বেড়িবাঁধ ভেঙেছে শিবসা নদীর প্রবল স্রোতে। জোয়ারের পানিতে প্লাবিত মানুষ পড়েছেন চরম দুর্ভোগে।
এলাকাবাসী এই ভাঙ্গনের জন্য দায়ী করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তা, ঠিকাদার এবং স্থানীয় জনপ্রতিনিধিদের। তবে বাঁধ রক্ষায় চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলে দাবি করেছেন পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী ইঞ্জিনিয়ার আশরাফুল আলম।

স্থানীয় সংসদ সদস্য রশিদুজ্জামান মোড়ল বলেন, ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে সৃষ্ট জলোচ্ছ্বাসে বাঁধ উপচে এলাকায় পানি প্রবেশ করেছে।
আসছে জোয়ারের আগেই দুর্বল এবং ভেঙে যাওয়া বেড়িবাঁধ মেরামত না হলে তিনটি উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার শংকায় আছেন মানুষ।
এদিকে প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমাল দুর্বল হয়ে গভীর নিম্নচাপে পরিণত হয়েছে। এটি আরও উত্তরপূর্ব দিকে অগ্রসর হয়ে ক্রমশ বৃষ্টিপাত ঝড়িয়ে স্থল নিম্নচাপে পরিণত হচ্ছে।
এ অবস্থায় সমুদ্রবন্দরগুলোতে ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত নামিয়ে তার পরিবর্তে তিন নম্বর স্থানীয় সতর্ক সংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
রিমাল: ১৯ উপজেলার নির্বাচন স্থগিত
ঘূর্ণিঝড় রিমাল: সারাদেশে ৯ মৃত্যু