ঘূর্ণিঝড় রিমাল আঘাত হানার তিনদিনেও নিজের ঘরে ফিরতে পারেনি পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার বেশিরভাগ ক্ষতিগ্রস্ত মানুষ। মঙ্গলবার বিকাল পর্যন্ত তারা পাননি সরকারি বা বেসরকারি সংস্থার সহায়তা।
প্রশাসন বলছে, ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা তৈরির কাজ শেষ হলেই শুরু হবে সব ধরনের ত্রাণ তৎপরতা।
দুরারোগ্য রোগে আক্রান্ত হয়ে এক যুগ ধরে কর্মহীন তৃষ্ণা রানীর স্বামী। ঘরে বসে সেলাই করে, হোগলা বুনে ও কয়েকটি শিশুকে বাসায় প্রাইভেট পড়ানোর আয়ে চলে সংসার। তৃষ্ণা রানীর মাথা গোঁজার ঠাঁই ছোট্ট ঘরটি তছনছ করে দিয়েছে ঘূর্ণিঝড় রিমাল। ঘরের মালামাল ভেসে গেছে পানিতে।

ঘূর্ণিঝড় আঘাত হানার দুইদিন পরও কোনো সরকারি সহায়তা পাননি তৃষ্ণা রানী। ঘর ঠিক করতে মিস্ত্রী নেয়ার মত টাকা নেই, তাই মাথার উপর আচ্ছাদন দেয়ার চেষ্টা করছেন নিজেই।
তৃষ্ণা রানী জানান, সিডরের পর থেকেই চার দফা তার ঘর ভেঙেছে ঝড়ে। কিন্তু এবারে তার শেষ সম্বলটুকুও ভেসে গেছে ঝড়ে।
বিধবা দিপালী রানীর ঘর চাপা পড়েছে ভেঙে পড়া গাছের নিচে। এখনো সরকারি আশ্রয়কেন্দ্রে রাত কাটাচ্ছেন তিনি।
দিপালী রানী জানান, গাছ পড়ে ঘরের সব ভেঙে তছনছ হয়ে পড়ে রয়েছে। তিনি কিভাবে এই ঘরে থাকবেন, বুঝছেন না।

পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার ১২ টি ইউনিয়ন ও দুটি পৌরসভার সবখানেই ঘূর্ণিঝড়ে ক্ষতিগ্রস্ত নিম্নআয়ের পরিবারে চলছে এমন কান্না। তাদের সহায়তায় এগিয়ে আসেনি সরকারি-বেসরকারি কোন সংস্থা।
অবশ্য ক্ষতিগ্রস্তদের তথ্য সংগ্রহের কাজ চলছে জানিয়ে কিছু দুর্গত মানুষকে শুকনো ও রান্না করা খাবার দেয়ার কথা বললেন জনপ্রতিনিধি ও সরকারি কর্মকর্তা।
কলাপাড়ার ইউপি চেয়ারম্যান জানান, তার এলাকায় তিন হাজার ৫৫টি ঘর বিধ্বস্ত হয়েছে যার মধ্যে ১২১টি ঘর পুরোপুরি ও বাকিগুলো আংশিক বিধ্বস্ত হয়েছে।
কলাপাড়া উপজেলার প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা হুমায়ুন কবির জানান, ক্ষতিগ্রস্তদের গৃহনির্মাণ বাবদ টিন এবং অন্যান্য উপকরণ ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনার জন্য বরাদ্দ আছে যা দ্রুতই তাদের দোরগোড়ায় পৌঁছে দেওয়া হবে।
তবে, তথ্য সংগ্রহের কাজ কবে শেষ হবে তা জানেন না স্থানীয়রা। তারা চান, বিধ্বস্ত ঘরবাড়ি মেরামতসহ দুর্গতদের মাঝে দ্রুত সহায়তা বিতরণ করা হোক।
রিমালের তাণ্ডবে সুন্দরবনে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি