ঘূর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডবে সুন্দরবনে বহু বন্যপ্রাণির মৃত্যু হতে পারে; এমন শঙ্কা ধীরে ধীরে বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। সবশেষে শুক্রবার ম্যানগ্রোভ বনটির বিভিন্ন এলাকা থেকে মৃত অবস্থায় আরও ৩১টি হরিণ উদ্ধার করা হয়েছে।
এনিয়ে মঙ্গলবার (২৮ মে) থেকে শুক্রবার পর্যন্ত মোট ১২৭টি হরিণের মরদেহ উদ্ধার করা হলো। এছাড়া চারটি মৃত বন্য শূকর ও একটি অজগর উদ্ধার করা হয়েছে। এদিকে জলোচ্ছাসে নদীতে ভেসে যাওয়া ১৮টি হরিণ জীবিত উদ্ধার করেছে বনবিভাগ।
খুলনা অঞ্চলের বন সংরক্ষক মিহির কুমার দো জানান, চার দিনে সুন্দরবনের কটকা, কচিখালী, পক্ষীর চর, ডিমের চর, শেলার চর, নীলকমলসহ বিভিন্ন এলাকা থেকে মৃত প্রাণিগুলো উদ্ধার করা হয়। জীবিত উদ্ধার হওয়া হরিণগুলো ইতিমধ্যে বনে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।

তিনি বলেন, বনজ সম্পদ ও বন্যপ্রাণির ক্ষয়ক্ষতির তথ্য জানতে বনবিভাগের সদস্যরা সুন্দরবনের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি করছে। তবে কী পরিমাণ ক্ষতি হয়েছে তা এখনও জানা সম্ভব হয়নি।
মিহির আরও জানান, রিমালে সৃষ্ট জলোচ্ছাসে সুন্দরবনের মধ্যে দিয়ে আট থেকে ১০ ফুট উচ্চতায় পানি প্রবাহিত হয়েছে। পানির তোড়ে বন্যপ্রাণি আবাসস্থল হারিয়েছে এবং ভেসে গেছে। দুই একদিনের মধ্যে তল্লাশি শেষ করা হবে। এর পরে বন্যপ্রাণির মৃতদেহ পাওয়ার সম্ভাবনা অনেক কম।
প্রধান বন সংরক্ষক আমীর হোসাইন চৌধুরী জানান, জলোচ্ছাসে লবণ পানি বনের মধ্যে আটকে গেছে। এতে দীর্ঘ মেয়াদি ক্ষতির আশঙ্কা করা হচ্ছে। বনবিভাগের হাতে সার্বিক তালিকা এলে সুন্দরবনের ক্ষয়ক্ষতির বিস্তারিত তথ্য পাওয়া যাবে।

ঘূর্ণিঝড় রিমাল রোববার প্রথমে সুন্দরবনে আঘাত হনে। এর পর দীর্ঘ সময় ধরে ঝড়টি উপকূল অতিক্রম করে। এর প্রভাবে রোববার দুপুর, রাত এবং সোমবার দুপুরের নদ-নদীতে আট থেকে ১০ ফুট উচ্চতায় জলোচ্ছাস হয়। এতে বনের কটকা, কচিখালী, দুবলা, শেলা, নীলকমল, মান্দাবাড়িসহ বনের বিভিন্ন এলাকা ছিল পানিতে থই থই।
রানওয়েতে শিয়ালের ছোটাছুটিতে ফ্লাইট নামতে দেরি!