ঘুর্ণিঝড় রিমালের তাণ্ডব নৃত্য শুরু হয়ে গেছে। উপকূলীয় এলাকা অতিক্রম শুরু করেছে ঘূর্ণিঝড় রিমাল। কোথাও কোথাও বাতাসের গতিবেগ ১৩০ কিলোমিটার পর্যন্ত উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করছে আবহাওয়া অধিদপ্তর । দুর্যোগ মোকাবেলায় প্রস্তুত বাংলাদেশও। বন্ধ হয়ে গেছে চট্টগ্রাম ও কক্সবাজার বিমানবন্দরে ফ্লাইট ওঠানামা! বন্ধ করা হয়েছে অভ্যন্তরীণ নৌযান চলাচল। বন্ধ রয়েছে চট্টগ্রামের বঙ্গবন্ধু টানেলেও!
ঘূর্ণিঝড়টির গতিপথ পায়রা ও মোংলা বন্দর সবচেয়ে কাছে ছিলো। প্রবল ঘূর্ণিঝড় রিমাল ওই এলাকাগুলো অতিক্রম করছে। এর আগেই উপকূলীয় জেলাগুলোতে ঢুকে গেছে জোয়ারের পানি, ভেসে গিয়ে মারা গেছে পটুয়াখালীর এক যুবক । জীবন বাঁচাতে বাড়ি ছেড়ে আশ্রয়কেন্দ্রে লাখো মানুষ। যেন কোন এক ভয়ংকর দানব সর্বশক্তি দিয়ে দিয়ে চালাচ্ছে তাণ্ডব। তা থেকে বাঁচতে ও বাঁচাতে ছোটাছুটি শুরু হয়ে গেছে চারদিকে!
সাগর যদি রাগ করে তাহলে তার সবচেয়ে বড় শিকার বাংলাদেশই । যেন আজন্ম কোন শত্রুতা বাংলাদেশের সাথে! তার ভয়ংকর ছোবলে নিয়মিতই ক্ষতবিক্ষত হয় বাংলাদেশের উপকূল। মানুষ মরে, আবাদি জমি ডুবে যায় লোনা জলে- পশুপাখির অবস্থা হয় আরও করুণ। অসহায় মানুষদের কান্নার জলে যেন আরও নোনতা হয়ে ওঠে নির্দয় সাগর! বিলিয়ন ডলারের ক্ষতি কাটাতে লড়ই করতে হয় পুরো দেশকেই!
এবার এলো সর্বনাশা রিমাল। ১০ নম্বর মহাবিপদ সংকেত ঘোষণার মধ্যে উপকূলজুড়ে তান্ডব শুরু করেছে রিমাল। গত কয়েক বছরে বেশ কয়েকটি ঘূর্ণিঝড়ের চোখ রাঙানি দেখা গেলেও কোন অদৃশ্য কারণে যেন বেঁচে গেছে বাংলাদেশ । সে ঝড় গিয়ে ঠেকেছে পাশের দেশগুলোতে । কিন্তু এবারের পরিস্থিতি ভিন্ন। উইন্ডি যা বলছে তাতে দেখা যাচ্ছে- অলৌকিক কোন কারণ ছাড়া- কপালে শনিই আছে উপকূলের!
২০০৯ সালের ঘূর্ণিঝড় আইলার আঘাতে খুলনা, বাগেরহাট ও সাতক্ষীরাসহ উপকূলের বিভিন্ন স্থানে ৫৯৭ কিলোমিটার বাঁধ জলোচ্ছ্বাসে ভেসে যায়। টানা ১৫ ঘণ্টার ঝড় ও ১২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে দক্ষিণ-পশ্চিম উপকূলীয় এলাকা লন্ডভন্ড হয়ে যায়। ঘূর্ণিঝড় রিমালও আইলার মতো উপকূলীয় এলাকায় ক্ষতচিহ্ন রেখে যেতে পারে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। সতর্ক না হলে ভয়াল রাত অপেক্ষা করছে উপকূলের জন্য!
রোববার সন্ধ্যা ছয়টা নাগাদ ঘূর্ণিঝড়ের কেন্দ্র আঘাত করে পটুয়াখালীর খেপুপাড়া ও পশ্চিমবঙ্গের সাগর আইল্যান্ডে। তিন থেকে চার ঘণ্টার মধ্যে কেন্দ্র অতিক্রমের পর উপকূল পার হবে ঝড়ের পেছনের অংশ। রিমালের প্রভাবে উপকূলীয় কয়েকটি জেলার দ্বীপ ও চরে ৮ থেকে ১২ ফুটের বেশি উচ্চতার জলোচ্ছ্বাসে প্লাবিত হতে পারে। তবে এবার ব্যাপক ধ্বংসযজ্ঞ ঠেকিয়ে দেবে বাংলাদেশের ‘ফুসফুস’ সুন্দরবন।
