বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে দেশের সব বিভাগে দমকা হাওয়াসহ ভারী বৃষ্টিপাত হতে পারে বলে জানিয়েছে আবহাওয়া অধিদপ্তর। এই ভারী বৃষ্টিপাতের সঙ্গে পার্বত্য চট্টগ্রামের পাহাড়ি এলাকাসহ পাঁচ জেলায় যোগ হয়েছে অতিবৃষ্টির কারণে ভূমিধসের আশঙ্কা।
রোববার ঘূর্ণিঝড় রিমাল নিয়ে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ১১ নম্বর বিশেষ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ঘূর্ণিঝড় রিমালের প্রভাবে অতি ভারী বৃষ্টির কারণে চট্টগ্রাম, কক্সবাজার, রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ির পাহাড়ি এলাকার কোথাও কোথাও ভূমিধস হতে পারে।
এরই মধ্যে পাহাড়ি এলাকাগুলোতে পাহাড়ধসের বিষয়ে সতর্ক করতে মাইকিং শুরু হয়েছে।
বিকেল তিনটার দিকে আবহাওয়া অধিদপ্তরের ব্রিফিংয়ে পরিচালক আজিজুর রহমান জানান, ঘূর্ণিঝড়টির এখনও গতিপথ উত্তরমুখী। কেন্দ্র অতিক্রমের পর এর নিম্নভাগের প্রভাব থাকবে সারারাত। স্থলভাগে পুরোপুরি উঠার এটি দুর্বল হয়ে স্থলচাপ আকারে থাকবে। ল্যান্ডফলের পর প্রবল বৃষ্টি হবে। দিনে গড়ে ২০০-৩০০ মিমি বৃষ্টি হতে পারে।
তিনি আরও জানান, এর সামনে এগিয়ে আসার গতি ১৩ কিমি আর কেন্দ্রের গতি ৯০-১২০ কিমি। আইলার মত একই ক্যাটাগরির ঘূর্ণিঝড় রিমাল। তবে প্রত্যেকটি স্টর্ম বডিরই আলাদা বৈশিষ্ট্য থাকে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর পূর্বাভাসে বলেছে, প্রবল ঘূর্ণিঝড়ে রূপ নেওয়া রিমালের প্রভাবে দেশের ১৬ জেলায় ৮ থেকে ১২ ফুট উচ্চতার জলোচ্ছ্বাস হতে পারে। ইতোমধ্যে পায়রা ও মোংলা সমুদ্রবন্দরকে ১০ নম্বর মহাবিপৎসংকেত দেখিয়ে যেতে বলা হয়েছে।
আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, রোববার সন্ধ্যা থেকে মধ্যরাতের মধ্যে রিমাল বাংলাদেশের উপকূল অতিক্রম করতে পারে। প্রবল ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের ৬৪ কিলোমিটারের মধ্যে বাতাসের একটানা সর্বোচ্চ গতিবেগ ঘণ্টায় ৯০ কিলোমিটার। এটি দমকা অথবা ঝোড়ো হাওয়ার আকারে ১২০ কিলোমিটার পর্যন্ত বাড়ছে। ঘূর্ণিঝড়কেন্দ্রের কাছের এলাকায় সাগর বিক্ষুব্ধ রয়েছে।
সব মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের ছুটি বাতিল