গেলো সাত অক্টোবর ইসরাইলি ভূখণ্ডে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সশস্ত্র গোষ্ঠী- হামাসের অবিশ্বাস হামলার পর থেকে বিকারগ্রস্ত হয়ে আছে ‘মধ্যপ্রাচ্যের কসাই’ হিসাবে খ্যাত ইহুদিদের শাসক বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সেদিন থেকে তার হায়েনারা ঝাঁপিয়ে পড়ে গাজা উপত্যকায়। হামাস নির্মূলের নামে শুরু হয় নিরীহ মানুষকে হত্যার মোচ্ছোব। গুড়িয়ে দেয়া হতে থাকে একের পর এক অবকাঠামো।
ইসরাইলি গোয়েন্দাদের ধারণা, হামাসের শক্তির ভরকেন্দ্র হিসাবে পরিচিত টানেলগুলোর প্রধান প্রবেশমুখ গাজার হাসপাতাল ও স্কুলগুলোতেই অবস্থিত। এ কারণে, শুরু থেকেই গাজার সব হাসপাতালে চালিয়েছে ধ্বংসযজ্ঞ। বোমা ফেলা হয়েছে স্কুল থেকে শুরু করে বিশ্ববিদ্যালয়েও।
গাজায় এখনো সচল রয়েছে এমন হাতেগোনা কয়েকটি হাসপাতালের মধ্যে নাসের হাসপাতাল একটি। গত ক’দিন ধরে ইসরাইলের নিরাপত্তা বাহিনীর হামলার কেন্দ্র হয়ে উঠেছে এই হাসপাতাল। সেখানে আশ্রয় নেয়া হাজার হাজার বাস্তুচ্যুত মানুষকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয়ার একদিন পরেই অভিযানে যায় আইডিএফ।

গাজা উপত্যকার আল নাসের হাসপাতালের ভেতরের এখন বিরাজ করছে অমানবিক দৃশ্য। ইসরাইলি সেনার লাগাতার হামলায় ভয়াবহ মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টি হয়েছে সেখানে। আইডিএফ হাসপাতাল থেকে সবাইকে বের হয়ে যেতে বলে। এরপরই শুরু হয় গুলিবর্ষণ। উপর থেকে বিমানে করে বোমাও ফেলা শুরু হয়।
ইসরাইলি সেনাদের অভিযানের ফলে শত শত কর্মী এবং রোগীদের মধ্যে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়। দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা শুক্রবার বলেছেন, নিবিড় পরিচর্যায় কেন্দ্রে থাকা চারজন রোগীর অক্সিজেন বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার পর মারা গেছে। হাসপাতালের পরিচালক বলেছেন, অবস্থা বিপর্যয়কর এবং বিপজ্জনক।
হাসপাতাল ভবনের দৃষ্টিসীমার মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে গোলা নিক্ষেপ ও মারাত্মক ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়। হাসপাতালের রোগীদের একটি ওয়ার্ডে সারিবদ্ধ করে রাখা হয়েছিল। তাদের মধ্যে অনেকে মারাত্মক আহত ছিল। পুরো হাসপাতালে পুলিশের কুকুর দিয়ে তল্লাশি চালানো হয়।
হামলা চোটে কয়েকজন আহত হয়ে আবার হাসপাতালে ঢুকে যায়। তাদের মধ্যে কয়েকজন বেঁচে আছে আর কয়েকজন মারা যায়। হাসপাতালের পরিচালক নাহিদ আবু-তেইমা বলেন, হাসপাতাল ভবনের দৃষ্টিসীমার মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে সহিংস গোলা নিক্ষেপ ও মারাত্মক ধরনের বিস্ফোরণ ঘটানো হয়েছে। তিনি জাতিসংঘ ও রেড ক্রসের কাছে রোগী ও হাসপাতাল কর্মীদেরকে রক্ষা করার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইসরাইলের সামরিক বাহিনী দাবি করেছে তারা গাজার দক্ষিণাঞ্চলের প্রধান হাসপাতালে অভিযান চালিয়ে কয়েক ডজন সন্দেহভাজনকে আটক করেছে। সে সময় হাসপাতালের কর্মী ও রোগীদের গোলাগুলির মুখে জোর করে পালিয়ে যেতে বাধ্য করা হয়েছে। ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনীর প্রধান মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারি বলেন, তারা নাসের হাসপাতাল লক্ষ্য করে সুনির্দিষ্ট ও সীমিত অভিযান পরিচালনা করেছে।

আল নাসের হাসপাতালে আইডিএফের একটি বিশেষ দল অংশ নিয়েছে যাদের এই অভিযান পরিচালনার জন্য বিশেষভাবে প্রশিক্ষণ দেয়া হয়েছে। আমাদের ওই অভিযানের উদ্দেশ্য হলো, নাসের হাসপাতালে যেন শুধু গাজার রোগীরাই চিকিৎসা পায় সেটা নিশ্চিত করা।
হাগারি জানান, তাদের কাছে গোয়েন্দা তথ্য ছিল, হামাস সেখানে জিম্মিদেরকে রেখেছে। তবে অভিযোগকে মিথ্যা উল্লেখ করে নাকচ করে দিয়েছে হামাস। হাগারি বলেন, যাদেরকে আটক করা হয়েছে তাদের মধ্যে একজন গত বছরের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলায় অংশ নিয়েছিলেন। তিনি একজন অ্যাম্বুল্যান্স চালক এবং জিম্মিদের গাড়ি চালিয়ে গাজায় নিয়ে গিয়েছিলেন।

এদিকে, হাসপাতালটিতে অভিযান চালিয়ে ইসরাইলি বিশেষ বাহিনী সেখানে জিম্মিদের থাকার বিষয়ে কোনো প্রমাণ পাননি। সেখানে তল্লাশি এখনো অব্যাহত আছে বলেও জানানো হয়েছে।
পরিবারের ১২ জনকে হত্যা করলো যুবক, তারপর…