যুদ্ধ বিধ্বস্ত গাজার প্রায় সব মানুষই বেকার। কর্মজীবীদের নেই কাজ, শিক্ষার্থীদের পড়ালেখা বা ক্লাস। এই দীর্ঘ অবসরে ধ্বংসস্তূপের ওপর বসে গিটার বাজিয়ে দিন কেটে যায় গাজার তরুণী রাহাফ নাসারের। গানে গানে গাজাবাসীর দুর্দশার কথা বিশ্ববাসীর কাছে পৌঁছাতে চাইছেন তিনি।
পারিবারিক বন্ধুর কাছ থেকে ধার করে আনা গিটার দিনভর ধ্বংসস্তূপের মাঝে বসে বাজিয়ে কেটে যায় গাজার রাহাফ নাসারের। মেডিকেল শিক্ষার্থী হওয়ায় যুদ্ধ শুরুর আগে সারাদিন ডুবে থাকতেন বইয়ের মাঝে। কিন্তু এখন থমকে আছে চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন।
রাহাফ নাসার বলেন, যুদ্ধের শুরুর সপ্তাহেই আমরা উত্তর থেকে বাস্তুচ্যুত হয়ে দক্ষিণে আসি। আমার বাড়ির ভেতর যতো বাদ্যযন্ত্র ছিলো, বই, শৈশবের খেলনা, জামাকাপড় সব বিসর্জন দিয়ে পালিয়ে এখানে আসতে হয়েছে।
যুদ্ধের দিনগুলোতে ক্ষুধা, আতঙ্ক আর নতুন সব জটিলতা নিয়ে লড়াই করা ছাড়া কিছুই করার নেই নাসারের। তাই গানে গানে বিশ্বের কাছে গাজাবাসীর দুঃখ যন্ত্রণার কষ্ট পৌঁছে দেয়ার চেষ্টা করছেন তিনি।
বললেন, আমি বিশ্বের কাছে গানের মাধ্যমে বার্তা পাঠানোর চেষ্টা করছি। বিশ্ববাসীর কাছে আমার প্রশ্ন, তারা কবে আমাদের রক্ষা করতে আসবে? আমাদের কথা কি আদৌ তাদের কানে পৌঁছায়? তবে আমাদের এই কঠিন জীবন থেকে মুক্তি দিতে তারা এগিয়ে আসবে?
নাসারের প্রায়ই মনে পড়ে নিজের ফেলে আসা ঘরটার কথা। পড়ালেখা আর গানবাজনায় ব্যস্ত দিনগুলো। নিজের খেলনা, শৈশব স্মৃতি। ইসরাইলির বোমার আঘাতে এক নিমেষেই সে খুইয়েছে এই সবই।

সেসব স্মৃতি মনে করে তিনি বলেন, বিশ্ব সম্প্রদায়ের কাছে আমার প্রশ্ন, আর কতো হাজার প্রাণ হারালে আপনাদের টনক নড়বে এবং মনে হবে আমাদের বাঁচানো দরকার? আর কতো হাজার শিশুর মৃত্যু দেখে আপনাদের মন গলবে এবং আমাদের রক্ষা করার জন্য এগিয়ে আসার পরিস্থিতি সৃষ্টি হবে? আর কতো?
গিটার ছাড়াও পিয়ানো এবং ওউদ নামে তারের একটি গাজার একটি ঐতিহ্যবাহী বাদ্যযন্ত্র বাজানোয় পারদর্শী নাসার। জানান, গানটা শখের বসে করলেও ভবিষ্যতে লেখাপড়া শেষ করে ভালো চিকিৎসক হয়ে গাজাবাসীর উপকারে আসার স্বপ্ন তার। যদি যুদ্ধ শেষ হয় তিনি আবারও চিকিৎসক হওয়ার স্বপ্ন পূরণে ফিরে যাবে ক্লাসরুমে।
হজে যেতে পারলেন না গাজার আড়াই হাজার মুসল্লি