ইসরাইলি দখলদারিত্বের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য হামাসের ইচ্ছা ও দৃঢ় সংকল্প, সুড়ঙ্গ এবং ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়েও বেশি শক্তিশালী বলে মন্তব্য করেছেন সংগঠনটির রাজনৈতিক শাখার ডেপুটি হেড সালেহ আল-আরোরি।
ইরানের প্রেস টিভির ‘ফেস টু ফেস’ অনুষ্ঠানে দেয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, সাত অক্টোবর হামাসের ইসরাইলে হামলার নেপথ্যের কারণ।
ফিলিস্তিনিদের বিরুদ্ধে ইসরাইলি শাসকের কয়েক দশক ধরে চলে আসা সহিংসতার প্রতিক্রিয়ায় সাত অক্টোবর দখলদারদের বিরুদ্ধে ‘অপারেশন আল-আকসা স্টর্ম’ নামে আকস্মিক হামলা চালায় হামাস। এর জবাবে ওই দিনই গাজায় পাল্টা হামলা শুরু করে ইসরাইল।
কেন হামাসের এই আকস্মিক অভিযান। এর পেছেনে কী কারণ, তা খোলাসা করেছেন হামাসের রাজনৈতিক শাখার ডেপুটি হেড সালেহ আল-আরোরি। ইরানের প্রেস টিভিকে দিয়েছেন বিস্তারিত বর্ননা।
তিনি বলেন, হামাস যোদ্ধাদের ধারণ করা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো তারা ন্যায্য অধিকার ও ন্যায়সঙ্গত কারণে লড়ছে। আর এ ধারণায় বিশ্বাসীরা এই বোধের জন্য আত্মত্যাগ করতেও প্রস্তুত। আমাদের কাছে এটিই সবচেয়ে বড় বিষয় এবং তা সুড়ঙ্গ ও ক্ষেপণাস্ত্রের চেয়েও বেশি নির্ভরযোগ্য। যতক্ষণ পর্যন্ত আমাদের মধ্য এই ইচ্ছাশক্তি এবং দৃঢ় সংকল্প থাকবে ততক্ষণ পর্যন্ত কোনকিছুই আমাদের পরাজিত করতে পারবে না।
সাক্ষাৎকারে আরোরি আরও বলেন, ইসরাইল হামাসকে ধ্বংস করতে পারবে না এবং এটিকে ধ্বংস করতে দেশটির সব প্রচেষ্টা ব্যর্থ হবে।প্রতিরোধ গোষ্ঠী হামাস ফিলিস্তিনি জনগণের একটি ‘অবিচ্ছেদ্য অংশ’ এবং এর যোদ্ধারা মনোবল ও দৃঢ়তার সঙ্গে ইসরাইলি বর্বরতার বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে নিজেদের লড়াই চালিয়ে যাবে।

আরোরি আরও বলেন, অপারেশন আল-আকসা স্টর্ম ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা পুনরুদ্ধার সংগ্রামের অংশ। ফিলিস্তিনি জনগণের অধিকার উপেক্ষা করে আন্তর্জাতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখা যে সম্ভব না, বিশ্বকে তা দেখিয়ে দেয়ার জন্য এই হামলা।
সালেহ আল-আরোরি বলেন, সাত অক্টোবরের ঘটনা বিরল কিছু নয়। এটি ছিলো ফিলিস্তিনিদের স্বাধীনতা অর্জনের। বিশ্বের অন্য জাতিদের মতো নিজেদের রাষ্ট্র ও সার্বভৌমত্ব নিয়ে বাঁচার লড়াইয়ের অংশ। সুতরাং এটি ফিলিস্তিনি জনগণের সংগ্রামের আরেকটি পর্যায়। যা ইসরাইলি শাসনকে বড় ধরনের ধাক্কা দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, প্রতিরোধকারী দলগুলোর এ অপারেশন বিস্ময় ও আতঙ্কের জন্ম দিয়েছে। এটি ইসরাইলি সমাজ এবং বিশ্বকে জাগিয়ে তোলার উদ্দেশ্য ছিল। এ মানুষগুলো অধিকারের দাবিতে চুপ করে থাকেনি এবং এটি কত বড় এবং কতটা বিপজ্জনক তা প্রতিবার বিশ্বকে চোখে আঙ্গুল দিয়ে দেখানোর ক্ষমতা তাদের আছে।
এছাড়া এই অভিযান তা স্পষ্ট করে দিয়েছে, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী এবং গোয়েন্দা সংস্থাগুলো 'একটি মরীচিকা ছাড়া আর কিছুই নয়।
হামাস উপ প্রধান বলেন, অপারেশন আল-আকসা স্টর্মের পেছনে যেসব কারণ রয়েছে তার মধ্যে ইসরাইলি শাসকদের চরমপন্থি নীতিগুলো অন্যতম। এই নীতিগুলোর মধ্যে বসতির সম্প্রসারণ এবং অধিকৃত আল-কুদস শহরে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণকে অস্থিতিশীল করাসহ গাজা উপত্যকায় বছরের পর বছর ধরে আরোপিত অবরোধ অন্যতম।
হামাসের এই নেতা বলেছেন, বর্তমান ইসরাইলি শাসন সীমা পার করে ফেলেছে। এর সামনে এখন আর চুপ থাকার কোন উপায় নেই। এক্ষেত্রে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অবহেলার নিন্দা জানিয়ে আরোরি বলেছেন, বিশ্ববাসীর এমন নীরবতা সংঘাত সমাধানের সম্ভাব্য সুযোগ নষ্ট করছে।
গাজায় চাকরি হারাচ্ছে বেশিরভাগ মানুষ