লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরাইলি ড্রোন হামলার ফলে এক বিস্ফোরণে ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠী হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর উপ-প্রধান সালেহ আল-আরৌরিসহ চারজন নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার রাতে বৈরুতের দক্ষিণাঞ্চলীয় শহরতলী দাহিয়েহতে হামাসের কার্যালয়ে এ ড্রোন হামলা চালানো হয়। এ হামলায় আরও বেশ কয়েকজন আহত হয়েছেন। খবর বিবিসি’র।
ইসরাইল থেকে ড্রোনের মাধ্যমে ওই হামলা চালানো হয় বলে লেবাননের হিজবুল্লাহ গোষ্ঠী পরিচালিত আল-মায়াদিন টেলিভিশনের খবরে মাধ্যমের খবরে বলা হয়।

নানা আন্তর্জাতিক সংবাদ মাধ্যম থেকে হামলার বিষয়ে তথ্য সংগ্রহের চেষ্টার মধ্যেই হামাসের পক্ষ থেকে তাদের শীর্ষস্থানীয় নেতা সালেহ আল-আরৌরি নিহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করা হয়। আল জাজিরার খবরে বলা হয়, হামাসের সংবাদমাধ্যম আনুষ্ঠানিকভাবে আরৌরির নিহতের কথা ঘোষণা করেছে।
বৈরুতের ওই হামলার বিষয়ে মন্তব্য নিতে বিবিসি থেকে ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর (আইডিএফ) সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তারা বলেন, বিদেশি সংবাদ মাধ্যমে প্রকাশিত খবরের বিষয়ে তারা কোনো মন্তব্য করবেন না।
লেবাননের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, বিস্ফোরণে চারজন নিহত হয়েছেন এবং ইসরাইলি ড্রোন হামলায় এ বিস্ফোরণ ঘটেছে। হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীর শক্তিশালী ঘাঁটি বৈরুতের এ শহরতলীতে মঙ্গলবার সন্ধ্যার বিস্ফোরণে বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। তাৎক্ষণিকভাবে বিস্ফোরণের প্রকৃতি জানা যায়নি।

প্রায় দুই মাসের বেশি সময় ধরে লেবাননের দক্ষিণ সীমান্তে ইসরাইলি সেনাবাহিনী ও হিজবুল্লাহ যোদ্ধাদের পাল্টাপাল্টি গোলাবর্ষণ অব্যাহত থাকার পর এই বিস্ফোরণ ঘটেছে। ৮ অক্টোবর পাল্টাপাল্টি গোলাবর্ষণ শুরুর পর বেশিরভাগ হামলা সীমান্তের কাছাকাছি ছিল। তবে মাঝেমধ্যে লেবাননের গভীরে হিজবুল্লাহ স্থাপনায়ও হামলা চালিয়েছে ইসরাইল।
মঙ্গলবার এর আগে হিজবুল্লাহ বলেছে, লেবানন-ইসরাইল সীমান্তে ইসরাইলি সামরিক ফাঁড়িতে একাধিক হামলা চালিয়েছে তাদের যোদ্ধারা।
আল-আরৌরি হামাসের সামরিক বিষয়ের সঙ্গে গভীরভাবে সংযুক্ত ছিলেন। হামাসের সামরিক শাখার প্রতিষ্ঠাতা সদস্যদের একজন তিনি। পশ্চিম তীরে ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীর প্রধান ছিলেন তিনি। গত ৭ অক্টোবর ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে হামাসের হামলার আগেই তাকে হত্যার হুমকি দিয়েছিলেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। হামাসকে সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করার প্রতিজ্ঞাও করেছেন তিনি।
