গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার লক্ষ্যে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দেয়া প্রস্তাবের শর্তাবলি প্রত্যাখ্যান করেছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস।
ফরাসি সংবাদমাধ্যম ফ্রান্স২৪ এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কাতারে ইসরাইলের সাথে দুদিনের আলোচনার পর যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতির নতুন প্রস্তাব উত্থাপন করলে শুক্রবার হামাস তা প্রত্যাখ্যান করে।
যুদ্ধবিরতির ‘নতুন শর্তগুলো’ ইসরাইলের পক্ষ থেকে এসেছে এমন অভিযোগ করে হামাসের একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা জানান, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দ্বারা উপস্থাপিত গাজা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনায় বর্ণিত শর্তগুলো তারা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
হামাসের সামনে যেসব শর্ত রাখা হয়েছে সেগুলো হলো- মিশর সীমান্ত বরাবর গাজায় ইসরাইলি সেনাদের উপস্থিতি, ইসরাইলি জিম্মি মুক্তির বিনিময়ে ফিলিস্তিনি জিম্মিদের ছেড়ে দেয়ার বিষয়ে তেল আবিবের ভেটো দেয়ার অধিকার এবং কিছু ফিলিস্তিনি জিম্মিকে গাজায় ফেরত না পাঠিয়ে বরং অন্যত্র নির্বাসন দেয়া।
হামাস খুব দ্রুতই এসব শর্ত প্রত্যাখ্যান করলেও মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, আগের যে কোনো সময়ের তুলনায় আমরা এখন যুদ্ধবিরতির অনেক কাছাকাছি।
এদিকে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর বলছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন আলোচনার প্রস্তাবনাগুলোকে আরও সামনে এগিয়ে নিতে চলতি সপ্তাহেই মধ্যপ্রাচ্য সফরে আসছেন।
এর আগে গত মে মাসে বাইডেন যুদ্ধবিরতির যে রূপরেখা তুলে ধরেছিলেন তা মিশর, কাতার ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থকারীরা চূড়ান্ত করার চেষ্টা করছে। কিন্তু বিগত কয়েক মাসের আলোচনাতেও যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি মুক্তি নিয়ে একমত হতে পারেনি হামাস ও ইসরাইল।
যদিও মধ্যপ্রাচ্যের কসাই খ্যাত ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি যুদ্ধবিরতির শর্তাবলি মেনে নিতে হামাসকে চাপ দেয়ার আহবান জানিয়েছেন।
একদিকে যুদ্ধবিরতির আলোচনা চললেও অন্যদিকে ঠিকই গাজায় গণহত্যা অব্যাহত রেখেছে দখলদার ইসরাইল।
গেলো বছরের ৭ অক্টোবরের পর থেকে গাজায় ইসরাইলি বিমান হামলা ও স্থল হামলা চলছে। এ আগ্রাসনে এখন পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। এখনও নিখোঁজ রয়েছেন কয়েক হাজার মানুষ। আহত লাখ ছাড়িয়েছে।
ইয়েমেনে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১৬ সেনা নিহত
হেরা গুহায় ক্যাবল কার নির্মাণের পরিকল্পনা সৌদির