প্রাচীন মিশরীয় যুগ থেকে শুরু করে ১৬ শতকে অটোমান সাম্রাজ্যের পতন পর্যন্ত বিভিন্ন রাজবংশ, সাম্রাজ্য এবং ব্যক্তি গাজা উপত্যকাকে শাসন, ধ্বংস ও পুনরুদ্ধার করেছে। অঞ্চলটিকে ঘিরে রয়েছে চার হাজার বছরের অবরোধ এবং ভোগ দখলের দীর্ঘ ইতিহাস।
৪১ কিলোমিটার দীর্ঘ এবং ১০ কিলোমিটার প্রশস্ত একটি অঞ্চল গাজা উপত্যকা যা ইসরাইল, মিশর এবং ভূমধ্যসাগরের মধ্যে অবস্থিত। এখানে প্রায় ২৩ লাখ মানুষ বসবাস করে। যা বিশ্বের সর্বোচ্চ ঘনবসতিপূর্ণ এলাকার মধ্যে একটি।
গাজা ১৯১৭ সাল পর্যন্ত অটোমান সাম্রাজ্যের অংশ ছিল, এরপর এটি ব্রিটিশ শাসনের অধীনে আসে।
প্রথম বিশ্বযুদ্ধের সময় ব্রিটিশ এবং তুর্কিরা গাজা উপত্যকা এবং অটোমান সাম্রাজ্যের অন্তর্ভুক্ত বেশিরভাগ এশিয়ান আরব অঞ্চলগুলোর ভবিষ্যতের বিষয়ে একটি চুক্তিতে পৌঁছায়।
তবে ১৯১৯ সালে প্যারিস শান্তি সম্মেলনের সময়, বিজয়ী ইউরোপীয় শক্তিগুলো প্রতিশ্রুত ঐক্যবদ্ধ স্বাধীন আরব রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় বাধা দেয়।
বরং তারা বেশ কয়েকটি ম্যান্ডেট জারি করে যার মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্যকে বিভক্ত করে সুরক্ষা দেয়ার কথা বলা হয়। গাজা উপত্যকা ১৯২০ থেকে ১৯৪৮ সাল পর্যন্ত ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের অংশ থাকে।
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর, ব্রিটিশরা ফিলিস্তিনের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেয়ার দায়িত্ব সদ্য গঠিত জাতিসংঘের ওপর ছেড়ে দেয়।
১৯৪৭ সালে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডকে দ্বিখণ্ডিত করা সংক্রান্ত ১৮১ নম্বর প্রস্তাব গৃহীত হয়। যার মাধ্যমে, জাতিসংঘ ফিলিস্তিনকে দ্বিখণ্ডিত করার প্রস্তাব পাস করে। ইহুদিদের জন্য ভূখণ্ডের ৫৫ শতাংশ, গাজা উপত্যকাসহ বাকি অংশ আরবদের জন্য বরাদ্দ করা হয়।তবে জেরুসালেম আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের নিয়ন্ত্রণে থাকবে বলে সিদ্ধান্ত নেয় সংস্থাটি।
এই প্রস্তাবনার ফলে, ফিলিস্তিনের ব্রিটিশ ম্যান্ডেটের অবসান ঘটে এবং ইসরাইল রাষ্ট্রের জন্ম হয়।
এরপরই ১৯৪৮ সালের আরব-ইসরাইল যুদ্ধ শুরু হয়ে যায়। এই সংঘাতের কারণে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি শরণার্থী গাজা উপত্যকায় বসতি স্থাপন করে। যুদ্ধবিরতি স্বাক্ষরের পর গাজা উপত্যকা মিশরের দখলে চলে যায় এবং তাদের দ্বারাই শাসিত হয়।
তবে সেই নিয়ন্ত্রণ থাকে ১৯৬৭ সাল পর্যন্ত। ওই বছর ইসরাইলের সাথে মিশর, জর্ডান ও সিরিয়ার মধ্যে ছয় দিনের যুদ্ধ শুরু হয়।
যুদ্ধে ইসরাইলি বাহিনী জয়লাভের পর গাজা উপত্যকা, পশ্চিম তীর এবং পূর্ব জেরুজালেম দখল করে নেয়। এরপর থেকে ওই ভূখণ্ডের দখল নিয়ে একের পর এক সহিংস সংঘর্ষ শুরু হয় যা আজও অব্যাহত রয়েছে।
ইসরাইলি হামলায় এক সপ্তাহেই ১১ সাংবাদিক নিহত
গাজার নিচে হামাসের সুড়ঙ্গ, যেন এক মূর্তিমান আতঙ্ক