ইসরাইলি সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে ওঠা গাজায় ১১ জন নিরস্ত্র ফিলিস্তিনিকে পরিবারের সামনে গুলি করে হত্যার অভিযোগ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ। বুধবার সংঘটিত এ ঘটনার তদন্ত শুরু করতে ইসরাইলকে আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশন (ওএইচসিএইচআর)।
জাতিসংঘের মানবাধিকার হাইকমিশনার বলেছেন, এ দাবিগুলো ‘যুদ্ধাপরাধের সম্ভাব্যতা সম্পর্কে আশঙ্কা বাড়ায়।’ তুরস্কের সংবাদমাধ্যম আনাদোলু এজেন্সি এ খবর জানিয়েছে।
ওএইচসিএইচআর’র তথ্যানুসারে, ইসরাইলি সামরিক বাহিনী (আইডিএফ) ‘আন্নান বিল্ডিং’ নামে পরিচিত আল রেমালপাড়ার আল আওদা বিল্ডিংয়ে কথিত অভিযান চালায় ইসরাইলি সেনারা। সেখানে আন্নান পরিবার ছাড়াও আরও তিনটি পরিবার আশ্রয় নিচ্ছিল। অভিযান চলাকালে ওখানকার পুরুষদেরকে নারী ও শিশুদের থেকে আলাদা করে আইডিএফ সেনারা এবং পরিবারের সদস্যদের সামনেই কমপক্ষে ১১ জন পুরুষকে গুলি করে হত্যা করে যাদের বয়স ২০ থেকে ৩০ এর মধ্যে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, এখানেই শেষ হয়নি তাদের আইডিএফ সদস্যদের নৃশংসতা। এরপর নারী ও শিশুদেরকে একটি কক্ষে নিয়ে যাওয়ার নির্দেশ দেয় সেনারা। সেখানে তাদের দিকে হয় গুলি না হয় একটি গ্রেনেড ছুড়ে মারা হয়। এতে এক নবজাতক এবং এক শিশুসহ আরও কয়েকজন গুরুতর আহত হয়।
‘গাজা শহরে বেআইনি হত্যাকাণ্ড’ নামে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে জাতিসংঘের এ সংস্থাটি বলেছে, ‘ইসরাইলি কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে এই অভিযোগগুলোর জন্য একটি স্বাধীন, পুঙ্খানুপুঙ্খ এবং কার্যকর তদন্ত প্রতিষ্ঠা করতে হবে, এবং তা প্রমাণিত হলে এই ধরনের গুরুতর লঙ্ঘনের পুনরাবৃত্তি রুখতে দায়ীদের অবশ্যই বিচারের আওতায় এনে শাস্তি বাস্তবায়ন করতে হবে।
এই হত্যাকাণ্ডের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে ওএইচসিএইচআর। তবে কথিত বিশদ বিবরণ এবং পরিস্থিতির সত্যতা ‘এখনও যাচাই করা হচ্ছে’। এ বিষয়ে আইডিএফ এখনও কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি বলে জাতিসংঘের এ সংস্থাটি জানিয়েছে।
গাজায় নিহতের সংখ্যা ছাড়ালো ২০ হাজার