ফিলিস্তিনের গাজার ওপর 'সর্বাত্মক অবরোধ' আরোপ করেছে ইসরাইল। বন্ধ খাবার-পানি-বিদ্যুৎ সরবরাহ। এরপরও থেমে নেই যুদ্ধ। এখন পর্যন্ত সাতশ'র বেশি ইসরাইলি নিহত হয়েছে। এছাড়া, গাজা উপত্যকায় প্রাণ হারিয়েছে পাঁচশ জন। যুদ্ধ বন্ধে রবিবার বৈঠকে বসেও কোন সিদ্ধান্তে আসতে পারেনি জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদ।
এক মুহূর্তের নিস্তব্ধতা নেই রাতের আঁধারেও। ইসরাইলের একের পর এক রকেট আর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জর্জরিত ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকা। রোববার ১৫ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ রাত আসে গাজাবাসীর জীবনে। রাতভর বোমা বর্ষণের পর সোমবার দিনেও সেখানে তৃতীয়দিনের মতো সংঘর্ষ চলতে থাকে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী বলেন, হঠাৎ বুঝতে পারলাম সবকিছু ভেঙে আমাদের ওপর পড়ছে। কি করবো, কোনদিকে ছুটবো কিছুই বুঝতে পারছিলাম না। ধ্বংসস্তুপ থেকে যাদের উদ্ধার করা হচ্ছে তারা হয় নিহত নাহয় মৃতপ্রায়।
চলমান সংঘর্ষে গাজার অন্তত সোয়া লাখ বাসিন্দা প্রাণ ভয়ে ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছেন। এরই মধ্যে সেখানকার জাতিসংঘ পরিচালিত স্কুলে আশ্রয় নিয়েছেন প্রায় ৭৪ হাজার মানুষ।
আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে শোনা যাচ্ছে স্বজনহারাদের হাহাকার। নিখোঁজদের সন্ধানে দিশেহারা আপনজন। তেমনই একজন মা জানান, তার তিন সন্তান নিহত। আর একজনকে এখনো খুঁজে পাওয়া যায়নি।
এক আশ্রয়প্রার্থী বললেন, শুধু আমার সন্তানদের জন্য সৃষ্টিকর্তার কাছে প্রার্থনা করছি। আমার দুই ছেলে শহীদ হয়েছে। আরেকজনও ইসরাইলি বাহিনীর হাতে প্রাণ হারিয়েছিলো। আমার বোন সাইমা আর ওর বাচ্চারাও সবাই নিহত। আমার নিখোঁজ সন্তান বেঁচে আছে কিনা কে জানে!
এদিকে, হামাসরে হামলার শঙ্কায় একদিনেই দেশত্যাগ করেছেন অন্তত ৬০ হাজার ইসরায়েলি। এখনো ইসরায়েল ছাড়ার জন্য বনে গুরিয়ান বিমানবন্দরে ভিড় করে আছেন হাজার হাজার মানুষ। এমন পরিস্থিতির মধ্যে ইসরাইল থেকে ফ্লাইট স্থগিত করেছে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক এয়ারলাইন্স।
অন্যদিকে হামাসকে প্রতিহত করতে এরই মধ্যে গাজা সীমান্তের কাছে এক লাখ অতিরিক্ত সেনা মোতায়েন করেছে ইসরাইল। দেশটির সেনাবাহিনীর মুখপাত্র জোনাথন কনরিকাস হুশিয়ারি দিয়ে জানান, এই সংঘর্ষের পর ইসরাইলের কোন বেসামরিক নাগরিককে হুমকি দেয়ার সক্ষমতা হামাসের থাকবে না।
এদিকে, চলমান সংঘাত বন্ধে রবিবার এক জরুরি বৈঠক করে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ। তবে সদস্য দেশগুলো ঐক্যমতে না পৌছানোয় কোন সিদ্ধান্ত ছাড়াই শেষ হয় বৈঠক।
