ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি বাহিনীর লাগাতার বোমা হামলায় উপত্যকা নিয়ন্ত্রণকারী হামাস সরকারের কব্জায় থাকা বন্দিদের মধ্যে আরও সাতজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে চারজন ইসরাইলি এবং তিনজন বিদেশি নাগরিক ছিলেন।
শুক্রবার হামাসের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টেলিগ্রামে এক পোস্টে এ তথ্য নিশ্চিত করে হামাসের সামরিক শাখা আল কাসেম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু উবাইদা জানান, গেলো পাঁচ মাসে গাজায় ইসরাইলি হামলায় বেশ কয়েকজন বন্দি নিহত হয়েছেন। শুক্রবার আরও সাত বন্দি নিহত হওয়ায় এ সংখ্যা ৭০ জন ছাড়িয়েছে।
তবে গাজা উপত্যকার ঠিক কোন এলাকায় এই সাত বন্দি নিহত হয়েছেন তা জানাননি আবু উবাইদা।

তিনি বলেন, গত ২৩ ডিসেম্বর তারা এক ভিডিওতে যে তিন বয়োবৃদ্ধ জীবিত বন্দির বক্তব্য প্রকাশ করেছিলেন তারা ওই নিহত সাত বন্দির মধ্যে রয়েছেন। ওই তিন নিহত বন্দির নাম প্রকাশ করে তিনি বলেন, বাকি চারজনের পরিচয় সম্পর্কে নিশ্চিত হওয়ামাত্র তাদের নামও প্রকাশ করা হবে। ওই তিন নিহত ব্যক্তির মধ্যে একজন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ঘনিষ্ঠ বন্ধু বলে আবু ওবায়দা জানান।
এদিকে ইসরাইল বলছে, বন্দিদের মধ্যে ৩১ জন ইতিমধ্যেই মারা গেছেন। তবে সাতজনের মৃত্যু এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত কিনা এই বিষয়ে তারা এখনও স্পষ্ট নয়।

এর আগে গেলো ৭ অক্টোবর ইসরাইলে আকস্মিক অভিযান চালিয়ে পুরো বিশ্বকে স্তম্ভিত করে দেয় হামাস। এসময় ইসরাইলি সেনাসহ ২০০ বা তারও বেশি লোককে বন্দি করে গাজায় নিয়ে যান হামাসের যোদ্ধারা।
হামাস জানায়, ইসরাইলের কারাগারে জিম্মি থাকা কয়েক হাজার ফিলিস্তিনি নারী ও শিশুকে মুক্তি না দিলে, আটক ইসরাইলিদের মুক্তি দেবে না সংগঠনটি। পরে ইসরাইলের সাথে চারদিনের যুদ্ধবিরতি ও বন্দি বিনিময় চুক্তি করে হামাস সরকার। চারদিনের যুদ্ধবিরতিতে ইসরাইলের কারাগারে বছরের পর বছর ধরে বন্দি থাকা মোট ১৫০ ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেয় ইসরাইল। আর বিনিময়ে গাজায় আটক ৫০ ইসরাইলি বন্দিকে মুক্তি দেয় হামাস।
হামাসের হাতে এখনও প্রায় ১৫০ জন ইসরাইলি বন্দি রয়েছেন। দফায় দফায় অভিযান চালিও তাদের উদ্ধার করতে পারেনি ইসরাইল।
হামাস বলছে, ফিলিস্তিনের সব বন্দিকে মুক্তি দিলে এবং গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলেই ইসরাইলি বন্দিদের মুক্তি দেয়া হবে, তার আগে নয়।
নির্বিচারে গুলি করে ১০৪ জনকে হত্যা, তাতেও সায় যুক্তরাষ্ট্রের
পাকিস্তানে জাতীয় পরিষদের নতুন স্পিকার আয়াজ সাদিক