গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতির নতুন প্রস্তাবে ইসরাইল সায় দিয়েছে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর এক সহযোগী। রোববার তেল আবিবের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা রয়টার্সকে বলেছেন, যুদ্ধবিরতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রস্তবটি মেনে নিয়েছে ইসরাইল।
ব্রিটেনের সানডে টাইমসের সাথে একটি সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহুর প্রধান পররাষ্ট্র নীতি উপদেষ্টা ওফির ফক বলেছেন, জো বাইডেনের দেয়া তিন ধাপের প্রস্তাবটি নিয়ে এখনও বিস্তারিতভাবে কাজ করার বাকি আছে। এটি খুব ভালো একটি ভালো চুক্তি নয়। তারপরও জিম্মি মুক্তির স্বার্থে প্রস্তাবে সায় দিয়েছেন নেতানিয়াহু।
তিনি আরও বলেন, তিন ধাপের প্রস্তাবে হামাসের হাতে বন্দি ইসরাইলি ও আমেরিকান নাগরিকদের মুক্তির সঙ্গে যেহেতু ফিলিস্তিনের স্বাধানতাকামী সংগঠনটিকে নির্মূলের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে, তাই ইসরাইলি নেতা নেতানিয়াহু আপাতত যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে হ্যা বলতে রাজি হয়েছেন।
কি আছে নতুন যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে
আসলে যুদ্ধবিরতির নতুন প্রস্তাবটি ইসরাইলেরই দেয়া, তবে গেল শুক্রবার সেটি প্রকাশ্যে আনেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। প্রস্তাবটি সম্পর্কে তিনি জানান, প্রথম ধাপে রয়েছে পূর্ণ ও সর্বাত্মক যুদ্ধবিরতির কথা, যা ছয় সপ্তাহ কার্যকর থাকবে। এতে গাজার জনাকীর্ণ এলাকাগুলো থেকে ইসরায়েলি বাহিনীকে প্রত্যাহারের কথাও বলা হয়েছে।
গত বছরের ৭ অক্টোবরের হামলায় ইসরায়েল থেকে যেসব লোককে হামাস জিম্মি করে আনে, তাদের মধ্য থেকে একটি নির্দিষ্ট সংখ্যক ‘পণবন্দিকে’ মুক্তি দেবে তারা। এদের মধ্যে থাকবে নারী, বয়স্ক এবং আহতরা। যেসব পণবন্দি মারা গেছে, তাদের দেহ ফেরত দেয়া হবে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকদের মুক্তি দেয়া হবে।
এ বিষয়ে জো বাইডেন বলেন, আমরা তাদের দেশে ফেরত চাই। এর বিনিময়ে কয়েকশ ফিলিস্তিনি বন্দিকে ইসরাইলের কারাগার থেকে মুক্তি দেওয়া হবে। এছাড়া, গাজার বিভিন্ন এলাকায় ফিলিস্তিনি বেসামরিক নাগরিকদের তাদের বাড়িঘর ও আশপাশের এলাকাগুলোতে ফেরার অনুমতি দেয়া হবে।
গাজায় প্রতিদিন ৬০০ ট্রাক প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে অস্থায়ী বাড়িঘর তৈরির জন্য সরঞ্জাম নিয়ে আসার অনুমতি দেওয়া হবে। বাইডেন এ বিষয়ে জানান, আলাপ-আলোচনা চলতে থাকলে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো হবে।
দ্বিতীয় ধাপে গাজা উপত্যকা থেকে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ছয় সপ্তাহের জন্য পুরোপুরি প্রত্যাহার করে নেয়া হবে। এর বিনিময়ে হামাস বাকি সব পণবন্দিকে মুক্ত করে দেবে। এর মধ্যে থাকবে পুরুষ ইসরাইলি সেনাও। বাইডেন বলেন, দুপক্ষের মধ্যে স্থায়ীভাবে শত্রুতার অবসান ঘটবে, যদি চুক্তির শর্তগুলো বাস্তবায়ন করা হয়।
তৃতীয় ধাপে যুক্তরাষ্ট্র ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সহায়তায় ব্যাপক পুনর্গঠন কাজ ও স্থিতিশীলতার পরিকল্পনা শুরু হবে। বাইডেন বলেন, বাড়িঘর, স্কুল, হাসপাতাল নতুন করে গড়ে তোলা হবে। এই সময়ে হামাস যাতে নতুন করে সশস্ত্র সংগঠনে পরিণত না হয়, আঞ্চলিক অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে সে বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। গাজা পুনর্গঠনের কাজের ব্যাপ্তি হতে পারে তিন থেকে পাঁচ বছর।
এ ছাড়া তৃতীয় ধাপে হামাসের হাতে থাকা যেসব পণবন্দি মারা গেছে, তাদের দেহাবশেষ ফিরিয়ে দেওয়ার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, যদি হামাস প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে ব্যর্থ হয়, তবে ইসরায়েল আবারও সামরিক তৎপরতা শুরু করতে পারবে। মূল খেলাটা কিন্তু এখানেই, যদি কোন কারণে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব মানতে উনিশ থেকে বিশ হয়, তাহলেই আবার হতে পারে হামলা।
চাপে আছেন নেতানিয়াহু
প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহু সবশেষ চুক্তি নিয়ে চাপের মুখে পড়েছেন। তার জোট সরকারের অংশীদারদের মধ্যে এরিমধ্যে নেতানিয়াহুকে সাবধান করেছেন, হামাসের প্রতি সহানুভূতিশীল কোন প্রস্তাব তারা মেনে নেবেন না। তবে ইসরাইলের সাবেক জেনারেল বেনি গ্যান্টজ এই চুক্তিটি বিবেচনা করতে চান।
অন্যদিকে হামাস প্রাথমিকভাবে জো বাইডেনের প্রস্তাকবে স্বাগত জানিয়ে। হামাসের সিনিয়র কর্মকর্তা ওসামা হামদান শনিবার আল জাজিরাকে বলেছেন, বাইডেনের বক্তৃতায় ইতিবাচক ছিল, তবে আমরা এটিকে একটি ব্যাপক চুক্তির কাঠামোর মধ্যে বাস্তবায়িত করতে চাই, যা আমাদের দাবি পূরণ করে।
হামাসের মূল দাবি, গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি, উপত্যকা থেকে ইসরাইলি সেনাবাহিনী পুরোপুরি প্রত্যাহার এবং ফিলিস্তিনিদের অবাধ চলাচল এবং পুনর্গঠনে সহায়তা চায়। তবে ইসরাইল বলছে, হামাসকে ধ্বংস না করা পর্যন্ত তারা গাজাতে অভিযান চালিয়ে যাবে। গাজায় হামাসমুক্ত শাসন চায় তেল আবিব।
দক্ষিণ আফ্রিকায় সংখ্যাগরিষ্ঠতা হারালো ম্যান্ডেলার দল