ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী দল হামাস শনিবার হঠাৎ করেই ইসরাইলে এ বছরের সবচেয়ে বড় হামলা চালিয়েছে। হামাসের এ নজিরবিহীন হামলায় অন্তত ২৫০ জন ইসরাইলি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরাইলি বাহিনীর পাল্টা বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন ২৩০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি। এসব হামলায় এরইমধ্যে আহতের সংখ্যা তিন হাজার ছাড়িয়েছে।
এ সংঘাত শুরুর পর নড়েচড়ে বসেছে পুরো বিশ্ব। হতাহত এবং হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘসহ বিশ্বের অধিকাংশ দেশ।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ইসরাইলে এমন প্রাণঘাতী হামলা আর দেখা যায়নি। পরিকল্পিত এ হামলায় গোয়েন্দাদের ‘ব্যর্থতা খুঁজছে’ ইসরাইল। অন্যদিকে হামাস বলছে, পৃথিবীতে শেষ দখলদারিত্বের অবসান ঘটানোর জন্য এটাই সবচেয়ে বড় যুদ্ধের দিন।
ইসরাইল ও হামাসের মধ্যে সংঘাত নতুন কিছু নয়। কয়েক দশক ধরে সেখানে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে। তবে এবার যে লড়াই শুরু হয়েছে তা যে বড় ধরনের সংঘাতের দিকে এগোচ্ছে তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।

শনিবার ভোরে গাজা উপত্যকা থেকে ইসরাইলে আকস্মিক এবং নজিরবিহীন হামলা চালায় হামাস। আকাশ, জল ও স্থলপথে আকস্মিক হামলা চালিয়ে ইসরাইলের সাথে নতুন করে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে সশস্ত্র গোষ্ঠীটি। বড় ধরনের উসকানি ছাড়া হামাস কেন এ হামলা চালালো, তা নিয়ে নানামুখী আলোচনা চলছে।
সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার প্রতিবেদন বলা হয়েছে, আল-আকসা মসজিদের দখল এবং অবৈধ বসতি স্থাপনকারীদের আগ্রাসনের প্রতিক্রিয়ায় বড় ধরনের এ অভিযান চালাচ্ছে হামাস।
সম্প্রতি ইহুদিদের সুকোট ছুটির সময় অধিকৃত পূর্ব জেরুজালেমের আল-আকসা মসজিদ কমপ্লেক্সে হাজার হাজার ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারী জোর করে প্রবেশ করেছিল বলে অভিযোগ উঠেছে।
এছাড়া, চলতি বছর ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের সহিংসতার হারও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
জাতিসংঘ বলছে, চলতি বছরের প্রথম আট মাসে প্রতিদিন অন্তত তিনটি করে এ ধরনের সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে।
হামাসের মুখপাত্র খালেদ কাদোমি বলেছেন, কয়েক দশক ধরে ফিলিস্তিনিরা যে ভয়ংকর নৃশংসতার মুখোমুখি হচ্ছে, তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই অভিযান শুরু হয়েছে।
হামাসের সামরিক কমান্ডার মোহাম্মদ দেইফ বলেন, বিশ্বের সর্বশেষ দখলদারিত্বের অবসান ঘটানোর জন্য এটাই সবচেয়ে বড় যুদ্ধের দিন।

আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উদ্দেশ্য সংগঠনটির পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, এ সংঘাত বন্ধ করতে হলে আগে গাজায় ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে এবং আল-আকসার মতো পবিত্র স্থানগুলোতে নৃশংসতা বন্ধ করতে হবে।
অন্যদিকে ইসরাইল বলছে, এ হামলার জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে ফিলিস্তিনকে। হামাসের এই হামলার মুখে এরইমধ্যে ‘যুদ্ধ পরিস্থিতি’ ঘোষণা করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
তিনি বলেছেন, আমাদের শত্রুদের এমন মূল্য দিতে হবে, যা তারা কখনও দেখেনি।
হামাসের পক্ষে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, ইসরাইলের দখলদার সেনা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মরক্ষা করার অধিকার রয়েছে। এই হামলাকে আত্মরক্ষা হিসেবে দেখছে ফিলিস্তিন।
হামাসের হামলা যুক্তরাষ্ট্রের ব্যর্থ পররাষ্ট্রনীতির ফসল: মেদভেদেভ
ইসরায়েলে হামাসের হামলায় জাতিসংঘের জরুরি বৈঠক