গাজা উপত্যকার ‘লাইফলাইন’ হিসেবে পরিচিত রাফাহ শহরে দখলদার ইসরাইলি বাহিনীর নতুন করে চালানো হামলায় বহু ফিলিস্তিনি হতাহত হয়েছেন। এ সময়ের মধ্যে প্রায় এক লাখ ১০ হাজার ফিলিস্তিনি রাফাহ থেকে পালিয়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছেন।
শুক্রবার জাতিসংঘের ফিলিস্তিনি শরণার্থী বিষয়ক সংস্থার (আনরোয়া) বরাতে এসব তথ্য নিশ্চিত করেছে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা।
সংস্থাটি বলছে, গাজা উপত্যকায় কোথাও নিরাপত্তা নেই। ফিলিস্তিনিরা যেখানেই যান না কেন, তারা ইসরাইলি হামলার ক্রমাগত হুমকির সম্মুখীন হচ্ছেন।
গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি কার্যকর করার আহবান জানিয়ে সংস্থাটি বলছে, শিগগিরই যুদ্ধবিরতি কার্যকর না হলে সবচেয়ে ঝুঁকিতে পড়বে গাজার শিশু ও নারীরা।

গেলো সোমবার রাফাহর পূর্বাঞ্চল থেকে বাসিন্দাদের সরে যেতে নির্দেশ দেয় ইসরাইলি বাহিনী। ওই দিন রাতেই হামলা চালানো হয়। এর ফলে বাকি বিশ্ব থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে অবরুদ্ধ গাজা। তবুও বেপরোয়া ইসরাইল।
রাফাহ থেকে পালিয়ে আসা হাজার হাজার ফিলিস্তিনিদের মধ্যে লায়লা আল-কাফারনা একজন।
তিনি বলেন, গেলো সাত মাসে এ নিয়ে তার পরিবারের ষষ্ঠবারের মতো বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
আল-কাফারনা তার শিশুকে আঁকড়ে ধরে আল জাজিরাকে বলেন, আমরা এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় চলে যাচ্ছি। এই শিশুটির জন্ম যুদ্ধের সময়। তার কি দোষ ছিলো?

দখলদার সেনারা আমাদের গাজা শহর থেকে সরিয়ে নিয়ে গেছে এবং দক্ষিণে যেতে বলেছে উল্লেখ করে তিনি আরও বলেন, এরপর তারা আমাদের খান ইউনিসের কাছে যেতে বলে। এরপর আমরা নুসিরাত এ আসি। নুসিরাতের পর দেইর এল-বালাহ এবং তারপর তারা আমাদের রাফাহ নিয়ে আসে। তারা বলেছে এটি একটি নিরাপদ স্থান। অথচ এটি নিরাপদ ছিলো না।
এদিকে রাফাহজুড়ে আক্রমণ তীব্র হওয়ার পর অসংখ্য রোগী ও চিকিৎসাকর্মীকে হাসপাতাল থেকে বের করে দিয়েছে জায়নবাদীরা। অনেক অসুস্থ ও আহত ফিলিস্তিনিকে চিকিৎসার ছুটতে হচ্ছে অন্যত্র।
ফিলিস্তিনি ডাক্তার মোহাম্মদ জাকাউত বলেন, আমাদের হাসপাতালে কোনো শয্যা নেই। গুরুতর আহতদের রেফার করার জন্য আর কোনো হাসপাতাল নেই।
অন্যদিকে চলমান গণহত্যা ও আগ্রাসনের মধ্যেই অবৈধ ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীরা রাফাহ ক্রসিং দিয়ে গাজায় ত্রাণ প্রবেশে বাঁধা দিচ্ছে। তারা বলছে, গাজার বাসিন্দারা না খেয়ে মরে যাক, এটাই তাদের চাওয়া।
এর আগে বুধবার এক সাক্ষাৎকারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন বলেছেন, গাজার রাফাহ শহরে ইসরাইল বড় ধরনের স্থল অভিযান চালালে যুক্তরাষ্ট্র দেশটিতে অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করে দেবে।
এমন হুঁশিয়ারির জবাবে বৃহস্পতিবার মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র ও দেশটির প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনকে উদ্দেশ করে মধ্যপ্রাচ্যের কসাই খ্যাত বেঞ্জামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, কোনো ধরনের চাপই ইসরাইলকে গাজা গণহত্যা ও চলমান যুদ্ধে লক্ষ্য অর্জনে বাঁধা দিতে পারবে না। প্রয়োজনে ইসরাইল ‘একা দাঁড়াবে’।
এর আগে গেলো বছরের অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল।
সাত মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা আগ্রাসনে এ পর্যন্ত ৪০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। আহত ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে।
এ গণহত্যা বন্ধের আহবান জানিয়ে জাতিসংঘ বলছে, ইসরাইলি আক্রমণের ফলে গাজার জনসংখ্যার ৮৫ শতাংশ খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি এবং ওষুধের তীব্র সংকটের মধ্যে অভ্যন্তরীণভাবে বাস্তুচ্যুত হয়েছে। গাজার ৭০ শতাংশ অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত বা ধ্বংস হয়ে গেছে।
সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, গাজার ২২ লাখ অধিবাসী দুর্ভিক্ষের ভয়াবহ ঝুঁকিতে রয়েছে। দ্রুত ত্রাণ পৌঁছাতে না পারলে বিশ্বকে জবাবদিহি করতে হবে।
এবার পারমাণবিক নীতি পরিবর্তনের হুঁশিয়ারি ইরানের