ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা ভূখণ্ডের আল-মাগাজি শরণার্থী শিবিরে হামলা চালিয়েছে ইসরাইলি বাহিনী। এ হামলায় অন্তত ৫১ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ফিলিস্তিনি বার্তা সংস্থা ওয়াফা।
শনিবার রাতে ইসরাইলি বাহিনী এই বিমান হামলা চালায়। হামলায় নিহতদের বেশিরভাগই নারী ও শিশু বলে জানা গেছে। খবর আল-জাজিরা’র।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল-কুদরা এক বিবৃতিতে জানান, মধ্য গাজা উপত্যকার আল-মাগাজি ক্যাম্পে দখলদারদের দ্বারা সংঘটিত গণহত্যায় দেইর আল-বালার আল-আকসা শহীদ হাসপাতালে ৩০টিরও বেশি মৃতদেহ এসে পৌঁছেছে।
ওয়াফা বলছে, শনিবার রাতের হামলায় দুইটি আবাসিক ভবন গুড়িয়ে গেছে বলে জানা যায়। ইসরাইলি যুদ্ধবিমান আল-মাগাজি ক্যাম্পের সাম’আন পরিবারের বাড়ি লক্ষ্য করে হামলা চালালে প্রাণহানির এ ঘটনা ঘটে। এছাড়া হামলায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন।
বোমা হামলা চালানো হয়েছে স্বীকার করে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেছেন, ওই শরণার্থী শিবিরেই হামলা চালানো হয়েছে কিনা, তারা তা খতিয়ে দেখছেন।
এর আগে, গত বৃহস্পতিবার বুরেজ শরণার্থী শিবিরে বিমান হামলা চালায় ইসরাইল। এতে ১৫ জন প্রাণ হারান। একইদিনে জাবালিয়া শিবিরেও হামলা চালানো হয়।
ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, টানা তিনদিনের ইসরাইলি হামলায় জাবালিয়ায় এ পর্যন্ত ১৯৫ জন নিহত হয়েছেন এবং আরও ১২০ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
গত বেশ কয়েকদিন ধরে গাজার শরণার্থী শিবিরগুলোতে একের পর এক হামলা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরাইল। এসব হামলায় ফিলিস্তিনের বেসামরিক নাগরিকই বেশি মারা পড়ছেন।
ইতোমধ্যে এ ধরনের হামলা যুদ্ধাপরাধ হিসেবে গণ্য হতে পারে বলে সতর্ক করে দিয়েছেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার। তবে সশস্ত্র ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী হামাসের কমান্ডারদেরই শুধু লক্ষ্যবস্তু করা হচ্ছে বলে দাবি করেছে ইসরাইলি বাহিনী।
গাজায় নিহতের সংখ্যা ৯ হাজার ছাড়িয়েছে