ইসরাইলি হামলার ফলে জাতিসংঘের ত্রাণ বিতরণ কর্মসূচি ব্যাহত হওয়ায় তীব্র খাদ্য সংকটের মধ্যে পড়েছে অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকা। এর প্রেক্ষিতে সাহায্যকারী সংস্থাগুলো গাজায় দুর্ভিক্ষের বিষয়ে সতর্কতা দিয়েছে।
শুক্রবার মার্কিন গণমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট জানিয়েছে, ইসরাইলি বিমান ক্রমাগত পুলিশ অফিসারদের লক্ষ্যবস্তু করে হামলা করছে। এ পুলিশ অফিসাররা জাতিসংঘের ত্রাণের কনভয়গুলিকে পাহারা দেন।
জাতিসংঘের কর্মকর্তারা বলছেন, গাজায় ত্রাণ বিতরণ ব্যবস্থা ভেঙে পড়েছে। এর ফলে, অপরাধীদের দল ও বেসামরিক লোকরা মরিয়াভাবে ত্রাণের কনভয়গুলি লুটপাট করছে।
ইউনাইটেড নেশনস অফিস ফর দ্য কোঅর্ডিনেশন অফ হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্সের পরিসংখ্যান অনুসারে, গত দুই সপ্তাহে প্রতিদিন গড়ে মাত্র ৬২টি ত্রাণের ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে, যেখানে প্রতিদিন ২০০টি ট্রাক প্রবেশ করার কথা। এ সপ্তাহে দুইটি পৃথক দিনে মাত্র চারটি ট্রাক অতিক্রম করেছে।
গাজায় প্রবেশ করা সমস্ত ত্রাণ প্রথমে মিসরীয় ও ইসরাইলি কর্মকর্তাদের দ্বারা স্ক্রিনিং করা হয়। অনুমোদিত চালানগুলি কেরেম শালোমে আনলোডিং এলাকায় নিয়ে যাওয়া হয়, তারপর আরেক দফা ক্রসিংয়ের পরে নীল গেটগুলি থেকে বেরিয়ে আসার আগে গাজার ট্রাকে স্থানান্তর করা হয়।
সাহায্যকারী গোষ্ঠীরা গাজায় দুর্ভিক্ষের বিষয়ে ইতোমধ্যে সতর্ক করে দিয়েছে। তাদের অনুমান, গাজার মানুষদের মৌলিক চাহিদা মেটাতে প্রতিদিন প্রায় ৫০০ ত্রাণবাহী ট্রাকের প্রয়োজন হবে।
ইসরাইলি হামলার পরে গাজার হামাস পরিচালিত বেসামরিক পুলিশ বাহিনীর সদস্যরা এই মাসের শুরুতে ফিলিস্তিনি কেরাম শালোম ক্রসিং থেকে সরে এসেছে।
জাতিসংঘের হিউম্যানিটারিয়ান কোঅর্ডিনেটর জেমস ম্যাকগোল্ড্রিক বলেছেন, তারা চলে যাওয়ার পর থেকে ক্রসিংয়ের হোল্ডিং এলাকায় ট্রাকগুলো আক্রমণ করা হয়েছে। চালকদের গুলি করা, কুড়াল ও বক্স কাটার দিয়ে ট্রাক আক্রমণ করা এবং ট্রাকের জানালা ভেঙে ফেলা হয়েছে।
তিনি আরও জানান, পুলিশ ত্রাণের কনভয়গুলির জন্য নিরাপত্তারক্ষী হিসাবে কাজ করাও বন্ধ করে দিয়েছে। এর ফলে, কিছু ক্ষুধার্ত পরিবার আগাছা ও পশুখাদ্য খাচ্ছে এবং মুনাফাখোররা এসব খাবার চড়া মূল্যে কালোবাজারে বিক্রি করছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেন কর্তৃক নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড স্যাটারফিল্ড বলেছেন, পুলিশ এসকর্টদের চলে যাওয়ায় জাতিসংঘ বা অন্য কারও পক্ষে গাজায় ত্রাণ স্থানান্তর করা কার্যত অসম্ভব হয়ে পড়েছে। জাতিসংঘের কনভয় ও অন্যান্যদের ওপর হামলার কারণে দ্রব্যমূল্য বেড়ে যাচ্ছে, যা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের একটি চক্র সৃষ্টি করছে।
ত্রাণ ব্যবস্থা চালু করার জন্য জাতিসংঘ ইসরাইলের কাছ থেকে আশ্বাস পাওয়ার চেষ্টা করছে যে, তারা গাজার পুলিশদের আক্রমণ করবে না।
ইতোমধ্যে গাজার ২২ লাখ বাসিন্দা দুর্ভিক্ষের দ্বারপ্রান্তে রয়েছে। গাজা উপত্যকার উত্তরে পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। সাহায্য সংস্থাগুলি কয়েকমাস আগে সেই এলাকা ত্যাগ করেছে এবং এখন আনুমানিক তিন লাখের মত মানুষ সেখানে রয়ে গেছে।
গাজায় যুদ্ধের প্রভাবে অর্থনীতির যাঁতাকলে ইসরাইল