ইসরাইল-হামাস সংঘর্ষে বেশ কিছু ইসরাইলি সেনা গোয়েন্দা তথ্য ও রসদ দিয়ে ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের সহযোগিতা করেছে। ইরানের তাসনিম বার্তা সংস্থাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এমনটাই দাবি করেছেন একজন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা।
কঠোর নিরাপত্তা বেষ্টিত ইসরাইলে কীভাবে ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা এত বড় হামলা চালাতে সক্ষম হলো, এ নিয়ে যখন তেল আবিব দিশেহারা ঠিক সেই সময় এই চাঞ্চল্যকর তথ্য প্রকাশিত হলো।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ওই ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা সোমবার বার্তা সংস্থা তাসনিমকে বলেন, কিছু ইসরাইলি সেনা ফিলিস্তিনের সংগঠনগুলোর সাথে বহুদিন ধরেই সম্পর্ক বজায় রয়েছে। যার ফলে ইসরাইলের বহু গোপন ও স্পর্শকাতর তথ্য পেয়েছে ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা।
তিনি বলেন, শনিবার অভিযান শুরুর পর ইসরাইলের এলাকাগুলোতে অনুপ্রবেশ করতে, বিশেষ করে ইসরাইলি সেনা ঘাঁটিগুলোতে সহজে ঢুকে পড়তে এসব গোয়েন্দা তথ্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে।
ইসরাইলি সেনাদের সহযোগিতা শুধুমাত্র গোয়েন্দা তথ্যেই সীমিত ছিলো না জানিয়ে ওই কর্মকর্তা বলেন, তথ্যের পাশাপাশি ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা ইসরাইলি সেনাদের কাছ থেকে সামরিক সরঞ্জামের একটি উল্লেখযোগ্য অংশও পেয়েছে।
ইসরাইলের হিব্রু ভাষার বিভিন্ন গণমাধ্যমের বরাত দিয়ে তাসনিম জানিয়েছে, ইসরাইলি সেনাদের অনেকেই মাদকাসক্ত। বিশেষ করে রিজার্ভ সেনারা বেশি পরিমাণে মাদক গ্রহণ করে। মাদক কেনার টাকার বিনিময়ে বা সরাসরি মাদকের বিনিময়ে তারা ফিলিস্তিনি যোদ্ধাদের কাছে নিজেদের অস্ত্রশস্ত্র বিক্রি করে দেয়।
ইসরাইলি সংবাদপত্র মারিভের মতে, অধিকৃত ফিলিস্তিন ও মিশরের মধ্যে প্রাচীর নির্মাণের পর ফিলিস্তিনের দলগুলো ইসরাইলের সামরিক ঘাঁটি থেকে অস্ত্র পেতে নানা কৌশল অবলম্বন করছে।
২০২১ সালের ১৬ ডিসেম্বর ইসরাইলের চ্যানেল ১৩ এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিল, আলেক্সান্দ্রনি ব্রিগেডের একটি ঘাঁটি থেকে এম১৬ রাইফেলের এক লাখ গুলি চুরি হয়ে গেছে। পরে ইসরাইলি পুলিশ জানায় চুরি যাওয়া গুলির সংখ্যা ছিলো দেড় লাখ।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ সংগঠনগুলো এমন কিছু সমরাস্ত্র ব্যবহার করেছে যা ইসরাইলি সেনাবাহিনী ব্যবহার করে থাকে।
এসব প্রতিবেদন ইঙ্গিত করে যে, ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা তিন উপায়ে এসব অস্ত্র সংগ্রহ করে, পাচারকারীদের কাছ থেকে, ইসরাইলি অস্ত্রাগার বা অস্ত্রের ডিপো থেকে এবং কিছু ইসরাইলি সেনার মাধ্যমে।
সবশেষ ২০১৯ সালের মে মাসে এক প্রতিবেদনে মারিভ জানিয়েছিল, পশ্চিম গ্যালিলি অঞ্চলের একটি সামরিক ঘাঁটি থেকে মাত্র এক মাসে ৪৬টি এম১৬ রাইফেল চুরি হয়েছে এবং এসব আর উদ্ধার করা যায়নি।
ফিলিস্তিনি যোদ্ধারা সাম্প্রতিক হামলায় একই ধরনের আগ্নেয়াস্ত্র ব্যবহার করেছে বলে জানা গেছে।
এর আগে শনিবার ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী দল হামাস হঠাৎ করেই ইসরাইলে এ বছরের সবচেয়ে বড় হামলা চালায়। হামাসের এ নজিরবিহীন হামলায় অন্তত ৯০০ জন ইসরাইলি নিহত হয়েছেন। অন্যদিকে ইসরাইলি বাহিনীর পাল্টা বিমান হামলায় নিহত হয়েছেন কমপক্ষে ৬৯০ ফিলিস্তিনি। এসব হামলায় এরইমধ্যে আহতের সংখ্যা পাঁচ হাজার ছাড়িয়েছে।
এ হামলার পরপরই ইসরাইলের গোয়ান্দা সংস্থার দিকে আঙুল তুলছে দেশটির মানুষ। তারা বলছেন, গোয়ান্দা ব্যর্থতার কারণেই এমনটা সম্ভব হয়েছে।
ইসরাইলে নিহত-নিখোঁজ বিদেশিদের বিষয়ে যা জানা গেলো
ইসরাইলি বন্দীদের হত্যার হুমকি হামাসের
রকেট আর ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় জর্জরিতর গাজা উপত্যকা