চারদিনের যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় হামাসের হাতে জিম্মিদের মুক্তির বিনিময়ে ইসরায়েলি কারাগার থেকে ১৫০ জন ফিলিস্তিনিকে মুক্তি দেয়ার কথা রয়েছে। তবে ইসরাইলের কারাগারে বন্দি থাকা ফিলিস্তিনিদের তুলনায় এ সংখ্যা নগণ্য। ইসরাইলের ২০টি কারাগারে এখনো ৮ হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনি বন্দি রয়েছে।
ইসরাইলের মোট ২০টি কারাগারে হাজারো ফিলিস্তিনিকে আটকে রেখেছে তেল আবিব। এরমধ্যে ১৯টি ইসরাইল ও একটি কারাগার অধিকৃত পশ্চিম তীরে অবস্থিত।
আল জাজিরার দেয়া তথ্য মতে, ইসরাইলের কারাগারে বন্দি রয়েছেন ৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি। এরমধ্যে ৩০০ শিশু ও ৭২ জন নারী। এদের মধ্যে ২ হাজার ফিলিস্তিনিকে কোন কারণ ছাড়াই বন্দি করা হয়েছে।
৭ অক্টোবরের আগে ইসরাইলি কারাগারগুলোতে প্রায় পাঁচ হাজার ২০০ ফিলিস্তিনি আটক ছিলেন। এরপর থেকে প্রায় প্রতিদিন সামরিক অভিযান চালিয়ে অধিকৃত পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম থেকে তিন হাজারেরও বেশি ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে ইসরাইল।
মানবাধিকার সংস্থা ও পর্যবেক্ষকদের দেয়া তথ্য অনুযায়ী, এদের মধ্যে অন্তত ১৪৫টি শিশু, ৯৫ জন নারী ও ৩৭ জন সাংবাদিক আছেন। তবে ইসরাইলের হাতে কত ফিলিস্তিনি আটক হয়েছে, এর নির্দিষ্ট সংখ্যা কত?
এ বছরের জুলাইতে জাতিসংঘ জানায়, ১৯৬৭ সালে ইসরাইল পূর্ব জেরুজালেম, গাজা উপত্যকা ও পশ্চিম তীর অধিগ্রহণের পর থেকে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ১০ লাখ ফিলিস্তিনিকে গ্রেপ্তার করেছে।
প্রতি পাঁচ জন ফিলিস্তিনির মধ্যে একজন তার জীবদ্দশায় অন্তত একবার গ্রেপ্তার হয়েছেন। ফিলিস্তিনিদের নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য ইসরাইল এক হাজার ৬০০টি সামরিক নির্দেশ জারি করেছে।
ফিলিস্তিনি পুরুষের ক্ষেত্রে হিসাব করলে প্রতি পাঁচ জনে দুই জন অন্তত একবার গ্রেপ্তার হয়েছেন। হাজার হাজার এই ফিলিস্তিনি বন্দিরা কোন কারণ ছাড়াই ইসরাইলি কারাগারে বন্দি আছেন।
নিরীহ শিশুরাও রক্ষা পায় না ইসরাইলের কবল থেকে। দিনের পর দিন ইসরাইলের কারাগারে আটকে রাখা হয় অসংখ্য শিশুকে। অনেকেই বলে থাকেন, গাজায় বসবাসরত ২২ লাখ মানুষই কারাগারে বাস করছে। কারণ তাদের সবাই প্রায় ইসরাইলের হাতে বন্দি। তাই এ অঞ্চলকে বলা হয়, বিশ্বের উন্মুক্ত কারাগার।
মার্কিন ডেস্ট্রয়ার লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়লো ইয়েমেন