জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের রাষ্ট্রদূতদের একটি প্রতিনিধিদল গাজা যুদ্ধে ক্ষতিগ্রস্ত ফিলিস্তিনিদের সাথে সাক্ষাৎ করেছে। এসময় গাজার পরিস্থিতিকে কঠিন এবং ভয়ঙ্কর বলে উল্লেখ করেছেন তারা।
নিরাপত্তা পরিষদের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে যুক্তরাষ্ট্র ভেটো দেয়ার কয়েকদিন পর সোমবার মিশর সফর করে প্রতিনিধিদলটি। একদিনের অনানুষ্ঠানিক এই সফরটি আয়োজন করে সংযুক্ত আরব আমিরাত ও মিশর।
রাশিয়া ও ব্রিটেনসহ বেশ কয়েকটি দেশের রাষ্ট্রদূতগণ এই সফরে অংশ নিলেও যুক্তরাষ্ট্র ও ফ্রান্স কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি।
প্রতিনিধিদলটি রাফা সীমান্তবর্তী এল আরিশে একটি হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সেখানে গাজা যুদ্ধে আহত অনেককে চিকিৎসা দেয়া হচ্ছে।
এসময় ওয়াফা আসাদ নামের ২৭ বছর বয়সী এক গর্ভবতী নারীর সঙ্গে তারা সাক্ষাৎ করেন। ইসরায়েলি হামলায় তার বাড়ি গুঁড়িয়ে গেছে। স্বামী নিহত হয়েছে ও দুই মেয়ে আহত হয়েছে। ওয়াফার একটি হাত ও পা কেটে ফেলতে হয়েছে। তবু সীমান্ত পাড়ি দেয়ার পরপরই তিনি একটি সন্তানের জন্ম দেয়। তার বোন আলা রাষ্ট্রদূতদের এ কথা জানায়।
জাতিসংঘের প্রতি আলার একটাই আহবান, এই যুদ্ধ যেন বন্ধ হয়।
ইকুয়েডরের রাষ্ট্রদূত জোসে ডি লা গাসকা বলেছেন, হাসপাতাল পরিদর্শন করে তিনি বিধ্বস্ত হয়ে গেছেন।
তিনি বলেন, এইমাত্র আমি একজন তরুণী মাকে দেখলাম তিনি তার শিশু বাচ্চাকে হারিয়েছেন। অপর কন্যা আহত হয়েছে।
আমি যা দেখেছি তার আর দেখতে চাই না। এটি ভয়ংকর বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার বিপর্যয়কর মানবিক পরিস্থিতিতে ক্ষোভ প্রকাশ করে জাতিসংঘ প্রধান এন্তোনিও গুতেরেস গাজাকে সমাধিক্ষেত্রের সাথে তুলনা করেছেন।
এর আগে গেলো ৭ অক্টোবর ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় হামলা শুরু করে ইসরাইল। দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে নিরবিচ্ছিন্নভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে নেতানিয়াহু প্রশাসন। এসব হামলায় ১৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
এছাড়াও ইসরাইলি হামলা ও অবরোধে দশ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। পানি, খাদ্য এবং অন্যান্য মৌলিক সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গাজার বাসিন্দারা
দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির চেয়েও গাজার ধ্বংসযজ্ঞ মারাত্মক