ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার পরিস্থিতি ভয়াবহ বিপর্যয়কর এবং সেখানে ইসরাইল যে ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়েছে তা দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানির ধ্বংসযজ্ঞের চেয়েও মারাত্মক বলে মন্তব্য করেছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেল।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের একটি বৈঠকে সভাপতিত্ব করার পরে সোমবার তিনি একথা বলেন। খবর টাইমস অব ইসরাইল।
বোরেল বলেন, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানির বিভিন্ন শহরে যে ধরনের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল, গাজায় ইসরাইলের আগ্রাসনে তার চেয়ে বেশি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
গাজার শতকরা ৮৫ ভাগ মানুষ অভ্যন্তরীণভাবে উদ্বাস্তু হয়েছে বলেও ক্ষোভ প্রকাশ করেন তিনি।
ইউরোপীয় ইউনিয়নের শীর্ষ পর্যায়ের এ কর্মকর্তা বলেন, গাজার ওপর ইসরাইল যে আগ্রাসন চালাচ্ছে তাতে অবিশ্বাস্য সংখ্যক বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছে।

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী শতকরা ৬০ থেকে ৭০ ভাগ বেশ বেসামরিক মানুষ হতাহত হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, গাজার মানুষের দুর্ভোগ আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের জন্য নজিরবিহীন চ্যালেঞ্জ সৃষ্টি করেছে।
বোরেল বলেন, অধিকৃত পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর অবৈধ বসতি স্থাপনকারীরা আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে সহিংস হামলা জোরদার করেছে।
পশ্চিম তীরে চরমপন্থি ইসরাইলি বসতি স্থাপনকারীদের বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করার বিষয়ে ইইউ পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের কাছে তিনি একটি আলোচনা পত্র উপস্থাপন করেছেন বলে জানান তিনি।
এর আগে গেলো ৭ অক্টোবর ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় হামলা শুরু করে ইসরাইল। দুই মাসেরও বেশি সময় ধরে নিরবিচ্ছিন্নভাবে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে নেতানিয়াহু প্রশাসন। এসব হামলায় ১৮ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে।
এছাড়াও ইসরাইলি হামলা ও অবরোধে দশ লাখেরও বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। পানি, খাদ্য এবং অন্যান্য মৌলিক সরবরাহ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে গাজার বাসিন্দারা।
দাবি মানলেই ইসরাইলি বন্দিদের মুক্তি দেয়া হবে: হামাস