ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের হামলার পর গত দুই মাসে সুয়েজ খাল দিয়ে যাওয়া বাণিজ্যিক জাহাজের সংখ্যা ৪২ শতাংশের বেশি কমে গেছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক বাজার বড় ধরনের ঝুঁকির মুখে পড়তে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।
বৃহস্পতিবার জাতিসংঘের বাণিজ্য ও উন্নয়ন বিষয়ক সম্মেলন (আঙ্কটাড) প্রধান জ্যান হফম্যান এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। খবর মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ডেইলি সাবা'র।
তিনি বলেন, লোহিত সাগরে শিপিংয়ে হামলা বিশ্ব বাণিজ্যে উত্তেজনা বাড়াচ্ছে, ভূ-রাজনীতি এবং বিদ্যমান জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বাণিজ্য বিঘ্নিত হচ্ছে, এতে আমরা খুবই উদ্বিগ্ন।
আঙ্কটাড বলেছে, জাহাজগুলো লোহিত সাগরের পরিবর্তে দক্ষিণ আফ্রিকার কেপ অফ গুড হোপের চারপাশ ঘুরে যাওয়ায় গত দুই মাসে সুয়েজ খালের মধ্য দিয়ে ট্রানজিট ৪২ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
এছাড়াও সুয়েজ খাল দিয়ে সাপ্তাহিক কনটেইনার জাহাজ চলাচলের সংখ্যা এ বছর ৬৭ শতাংশ কমেছে। বিশ্বের কনটেইনার বাণিজ্যের ২০ শতাংশেরও বেশি সুয়েজ খাল দিয়ে যায়।

মিশরের সুয়েজ খাল ভূমধ্যসাগরকে লোহিত সাগরের সাথে সংযুক্ত করেছে।
হফম্যান বলেন, আন্তর্জাতিক পণ্য বাণিজ্যের ৮০ শতাংশেরও বেশি সমুদ্র পথে দিয়ে হয়ে থাকে। সমুদ্র পরিবহন সত্যিই বিশ্ববাণিজ্যের লাইফলাইন।
বৃহত্তর কনটেইনার জাহাজগুলো সুয়েজ খাল থেকে সরে যাওয়ায় কনটেইনার বহন ক্ষমতা বিপুল পরিমাণে কমে গেছে বলেও জানান তিনি।

এদিকে এ খাল দিয়ে তেল ট্যাঙ্কার চলাচল ১৮ শতাংশ কমেছে, শস্য ও কয়লা বহনকারী বাল্ক কার্গো জাহাজের ট্রানজিট ৬ শতাংশ কমেছে এবং গ্যাস পরিবহন স্থবির হয়ে পড়েছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, সামগ্রিকভাবে বিশ্ব বাণিজ্যের ১২ থেকে ১৫ শতাংশের মধ্যে প্রতি বছর ২০ হাজার জাহাজ লোহিত সাগর দিয়ে যায়। যা ইউরোপ এবং এশিয়ার মধ্যে সংযোগ তৈরি করে।
দুই বছর আগে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর কৃষ্ণ সাগর দিয়ে ট্রানজিট মারাত্মকভাবে সীমাবদ্ধ ছিলো, যাতে বিশ্বব্যাপী খাদ্যের দাম বেড়েছে। হুতিদের হামলায় পরিস্থিতি আরও খারাপ হতে পারে বলে শঙ্কা প্রকাশ করেছে জাতিসংঘ।
ইরান-সমর্থিত হুথিরা বলেছে, তারা গাজায় ফিলিস্তিনিদের সাথে সংহতি জানিয়ে এই অঞ্চলে ইসরাইলগামী বাণিজ্যিক এবং সামরিক জাহাজগুলোকে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে গণ্য করছে। গাজায় ইসরাইলি গণহত্যা বন্ধ না হলে হামলা চলবে।
হুতি নেতাদের ওপর ইঙ্গ মার্কিন নিষেধাজ্ঞা
এবার ইসরাইলের আয়রন ডোমে হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলা