ঘরে-বাইরে দারুণ মহাবিপদে আছেন মধ্যপ্রচ্যের কসাই হিসেবে পরিচিত ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। হামাস নির্মূলের কথা বলে গাজা উপত্যকাজুড়ে গত সাত মাস ধরে হত্যা আর ধ্বংসযজ্ঞ চালিয়ে কোন কিছুই অর্জন করতে পারেনি নেতানিয়াহুর দেশ ইসরাইল।
এক হামাসের সঙ্গেই পেরে উঠছে না যেখানে সেখানে ইরানের লেজে পা দিয়ে নিজেদের আরও বড় বিপদ ডেকে আনে ইহুদিবাদী এই নেতা। দামেস্কে ইরানের কনস্যুলেটে হামলা চালিয়ে রীতিমতো ভিমরুলের চাকে ঢিল ছুঁড়ে পারে ইসরাইল। তেহরানের খেলনার মতো ড্রোন আর মিসাইলেই কুপোকাৎ তেল আবিব।
এরপর পাল্টা দিতে গিয়ে নেতানিয়াহু পরিণত হয়েছেন হাসির খোরাকে। যারপরনাই ক্ষেপেছে আমেরিকাও। পই পই করে নিষেধ করেছিলো ইরানে হামলা না চালাতে। কিন্তু কথা শোনেনি দুধ-কলা দিয়ে পোষা দেশটি। এরপরও গাজায় গণকবর পাওয়ার পর, নেতানিয়াহুর কাছে পরিস্কার ব্যাখ্যাও চেয়েছে হোয়াইট হাউস।
নিজ দেশেও শান্তিতে নেই নেতানিয়াহু। তেল আবিবে প্রতিদিনই যুদ্ধবিরোধী বিক্ষোভ হচ্ছে। কিছু দিন আগে নেতানিয়াহুর বাসভবনও ঘেরাও করে দেশটির শান্তিকামী মানুষরা। হামাসের হাতে জিম্মি থাকার নাগরিকদের উদ্ধার না করে, ফিলিস্তিনিদের হত্যা করায় নেতানিয়াহুর গুষ্টির পিন্ডি চটকাবেন ইসরাইলিরা।
আবার বিরোধী ও মধ্যপন্থীদের চাপেও রয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী। তাদের দাবি, গাজা অভিযানে ব্যর্থ হয়েছে নেতানিয়াহু। এতে করে দেশের মাথায় চেপে বসেছে অর্থনৈতিক সংকট। সব মিলিয়ে রাতে ঘুর হারাম এখন বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর। রীতিমতো অসুস্থ হয়ে পড়েছেন তিনি।
ইসরাইলে বহুল প্রচারিত দৈনিক ইয়েদিওথ আহরোনোথের অনলাইন সংস্করণ ইয়াই নেট নিউজ ডটকম সম্প্রতি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছিলো, নেতানিয়াহু পেটের সমস্যায় ভুগছিলেন। পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর জানা গেলো হার্নিয়া সমস্যায় আক্রান্ত নেতানিয়াহু, এজন্য তাকে অপারেশনের টেবিলে যেতে হবে।
গেলো সাত এপ্রিল জেরুজালেমের হাদাসাহ মেডিক্যাল সেন্টারে নেতানিয়াহুর হার্নিয়া অপারেশন করা হয়। প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, জেনারেল এনেসথেসিয়া দিয়েই এই অপারেশন করা হয়। এ সময় দেশটির উপ-প্রধানমন্ত্রী ও বিচারমন্ত্রী ইয়ারিভ লেভিন ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব পালন করেছিলেন।
সুস্থ হয়ে ফিরেই যথারীতি ফিলিস্তিনদের হত্যার মেতে উঠেন নেতানিয়াহু। গাজা উপত্যকরা শেষ আশ্রয়স্থলে পরিণত রাফাহ সীমান্তে সর্বাত্মক হামলার অনুমতি দিয়েছেন এই কসাই। শুধু তাই নয়, হুঙ্কার ছেড়েছেন এবার হামাসকে দেখে নিবেন তিনি। যদিও সাত মাসেও কিছু করতে পারেননি তিনি।
আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে ফিলিস্তিন-পন্থি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ার ঘটনাকে ‘ভয়ানক’ বলে মন্তব্য করেছেন নেতানিয়াহু। তিনি অবিলম্বে এসব বিক্ষোভ বন্ধ করার দাবি জানান। তিনি আক্ষেপ করে বলেন, আমেরিকার বিশ্ববিদ্যালয়গুলো ইহুদি-বিদ্বেষীদের দখলে চলে গেছে।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধি পরিষদের সাবেক স্পিকার ন্যান্সি পেলোসি ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রীর পদত্যাগ দাবি করেছেন। তিনি বলেন, নেতানিয়াহু যে পলিসি ও তৎপরতা শুরু করেছেন তা আমরা প্রত্যাখ্যান করি। তার এই নীতি ভয়াবহ। তিনি পাল্টা প্রতিক্রিয়া হিসেবে যা করেছেন তা আরও ভয়াবহ।
জেরুজালেমে নেতানিয়াহু সরকারের বিরুদ্ধে বিশাল বিক্ষোভ