ঘটনাটি ছিলো ১৯৭৩ সালের ৬ অক্টোবর। ইহুদি ধর্মের পবিত্রতম দিন ইয়োম কিপ্পুর। আরব দেশগুলোর একটি জোট ইজরাইল অধিকৃত অঞ্চলে আকস্মিক আক্রমণ শুরু করে। সেই আক্রমণ করে ইসরাইল ও আরবের মধ্যে শুরু হয়েছিলো সেই সময়ের ভয়ঙ্কর ‘ইয়োম কিপ্পুর’ যুদ্ধ।
এই যুদ্ধ ছিলো ১৯৬৭ সালের পর সবচেয়ে বড় যুদ্ধ। হামলার প্রতিক্রিয়ায় ইসরাইল আরব জোটের বিরুদ্ধে আক্রমণ চালায়। গোলান মালভূমি, সিনাই উপত্যকা ও ইসরায়ইলি দখলে থাকা অন্য এলাকায় এই যুদ্ধ সংঘটিত হয়েছিলো। যুদ্ধ এতো বেশি উত্তেজনা ছড়িয়ে ছিলো, আমেরিকা অ্যাটম বোমার হুমকি দিয়েছিল।
যুদ্ধ তীব্র হওয়া এবং মার্কিন হুমকির মোকাবেলায় তেল রপ্তানিকারকদের আন্তর্জাতিক সংগঠন-ওপেক এর আরব সদস্যরা ইসরাইলকে সমর্থন দিয়ে সব পশ্চিমা দেশগুলোতে তেল সরবরাহ স্থগিত করে। বিশ্বব্যাপী শুরু হয় তেল সঙ্কট। পরে জাতিসংঘের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়।
কিন্তু ততক্ষণে যা হবার তা হয়ে গেছে। প্রায় ২০ হাজার মানুষের প্রাণ গিয়েছে। সেই সঙ্গে ফিলিস্তিনের আরও ভূখণ্ড নিজেদের করে নেয় ইসরাইল। সেই ঘটনার পর কেটে গেছে ৫০ বছর। কাকতালীয়ভাবে ঠিক সেই ৬ অক্টোবরেই ইসরাইলে হামলা শুরু করে সশস্ত্র ফিলিস্তিন গোষ্ঠী হামাস।
গত শনিবার ভোরে হামাজ গোষ্ঠী একযোগে পাঁচ হাজার রকেট ছুঁড়ে ইসরাইলের ২২টি স্থানে সাঁড়াশি হামলা শুরু করে হামাস। ‘অপারেশন আল-আকসা ফ্লাড’ নামের এই হামলায় হামাসের যোদ্ধারা ইসরাইলি ভূমিতে ব্যাপক ত্রাস চালায়, গোলাগুলো চালায় এবং উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ইহুদিকে বন্দি করে নিয়ে যায়।
হামাস বলছে, কয়েক দশক ধরে ফিলিস্তিনিরা যে রকম ভয়ঙ্কর নৃশংসতার মুখোমুখি হচ্ছে, তার প্রতিক্রিয়া হিসেবে এই অভিযান শুরু হয়েছে। আল আকসার মসজিদের পবিত্রতা রক্ষর পাশাপাশি, বিশ্বের সবশেষ দখলদারিত্বের অবসান ঘটানোর জন্য এটাই সবচেয়ে বড় যুদ্ধের দিন।
ইহুদি ধর্মের পবিত্রতম দিনগুলোর মধ্যে একটি সিমচাট তোরাহ। এদিনে হামাসের আকস্মিক হামলার ঘটনা ইসরাইলকে ১৯৭৩ সালের ইয়োম কিপ্পুর যুদ্ধ শুরুর জন্য দায়ি হামলার কথা মনে করিয়ে দিচ্ছে। ইসরাইল সতর্ক করে বলেছে, এ হামলার জন্য চড়া মূল্য দিতে হবে ফিলিস্তিনকে।
ইসরাইলে হামলার জন্য ৬ অক্টোবর দিনটিতে হামাস শুধু ইহুদি ধর্মের পবিত্র হিসাবেই নয়, ১৯৭৩ সালের যুদ্ধের ৫০তম বার্ষিকীও উদযাপন করতে চেয়েছে। ইসরাইলি গণমাধ্যমগুলো ইয়োম কিপ্পুর যুদ্ধের স্মৃতিচারণ করছে এবং ইসরাইলি সংঘাত ও কয়েক দশক আগের ঘটনাগুলোর মধ্যে সমান্তরাল রেখা টানছে।
হাজার হাজার ইসরাইলি যখন তাদের পবিত্র ‘সিমচাট তোরাহ’ উদযাপনের পরিকল্পনা করছিল, ঠিক তখনই হামাস স্থল-সমুদ্র-আকাশ পথে ইসরাইলি ভূমিতে চাঞ্চল্যকর হামলা শুরু করে। হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র ছুঁড়ে ইহুদিদের উৎসবে পানি ঢেলে দিতে সক্ষম হয়।
হামাসের এই হামলার মুখে এরইমধ্যে ‘যুদ্ধ পরিস্থিতি’ ঘোষণা করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তিনি বলেছেন, আমাদের শত্রুদের এমন মূল্য দিতে হবে, যা তারা কখনও দেখেনি। অন্যদিকে এই যুদ্ধে অংশ নিতে আরব যোদ্ধাদের প্রতি আহবান জানিয়েছে হামাস।
হামাসের সঙ্গে বিরোধ থাকলেও, ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস বলেছেন, ইসরাইলের দখলদার সেনা সন্ত্রাসের বিরুদ্ধে ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মরক্ষা করার অধিকার রয়েছে। এই হামলাকে আত্মরক্ষা হিসেবে দেখছে ফিলিস্তিন। আর আমেরিকা যথীরীতি ইসরাইলের পাশে থাকার ঘোষণা দিয়েছে।
যে কৌশলে ইসরাইলে হামলা চালালো হামাস
হামাস কী চায়, তাদের সমর্থক কারা?
৩৭০ ফিলিস্তিনি নিহত, যুদ্ধে সায় ইসরাইলি সরকারের