এতোদিন হুমকি-ধমকি দিলেও ইসরাইলে সরাসরি কোনো হামলা এখনো চালায়নি ইরান। তবে এবার শুরু হয়ে গেছে কাউন্টডাউন। দেশের শীর্ষ কমান্ডারকে হত্যার চরম মূল্যতো দিতেই হবে ইসরাইলকে! এই হত্যাকাণ্ডকে ঘিরে রাগে-ক্ষোভে জ্বলছে তেহরান। এরইমধ্যে ইসরাইলকে চরম মূল্য দেয়ার হুশিয়ারিও উচ্চারণ করেছে দেশটি। বলেছে, ইসরাইলের জন্য তাদের কাউন্টডাউন শুরু।
সিরিয়ায় ইসরাইলের হামলায় ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী আইআরজিসির উপদেষ্টা সাইদ রাজি মুসাভির নিহতের ঘটনায় একের পর এক বার্তা দিচ্ছেন দেশটির শীর্ষ কর্তা-ব্যক্তিরা। সোমবার রাতে সিরিয় ভূখণ্ডে বিমান হামলায় প্রাণ যান ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সায়েদ রাজি মৌসাভি। সিরিয়া-লেবাননসহ আশপাশে সামরিক কার্যক্রম সমন্বয়ের দায়িত্বে ছিলেন তিনি। দিচ্ছিলেন- হিজবুল্লাহ’র সামরিক অভিযানের নেতৃত্বও।
ইরানের প্রেসিডেন্ট ইব্রাহিম রাইসি বলেছেন, সিরিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়ে আইআরজিসির সামরিক উপদেষ্টাকে হত্যার মতো জঘন্য কাজটি ‘ইহুদিবাদী শাসকদের’ হতাশার বহিঃপ্রকাশ। এজন্য অবশ্যই তাদেরকে চড়া মূল্য দিতে হবে। শুধু রাইসিই নয়, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হোসেন আমির-আব্দুল্লাহিয়ান বলেছেন, তেল আবিব এখন কঠিন কাউন্টডাউনের মুখোমুখি।
টুইট বার্তায় বলেছেন, ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মুসাভি অনেক বছর ধরে সাহসিকতার সঙ্গে লড়াই করেছেন ইরান ও এই অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে। মুসাভি ইরান এবং সিরিয়ার মধ্যে সামরিক জোটের সমন্বয়ের প্রধান কর্মকর্তা ছিলেন। সেই সঙ্গে লেবাননের হিজবুল্লাহ গোষ্ঠীসহ এই অঞ্চলে ইরান সমর্থিত প্রতিরোধ গোষ্ঠীগুলোকে অস্ত্র সরবরাহের জন্য তেহরানের প্রচেষ্টায় ব্যাপকভাবে জড়িত বলে মনে করা হয়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের প্রচারিত খবরে বলা হয়, সিরিয়ায় আইআরজিসির সবচেয়ে অভিজ্ঞ উপদেষ্টা ছিলেন হিসেবে তিনি। তবে তার মৃত্যু নিয়ে এখনো পর্যন্ত কোনো মন্তব্য করেনি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। লোহিত সাগরে একের পর এক জাহাজে হুতিদের হামলার পেছনে ইরানের হাত আছে বলে দাবি করেছিল যুক্তরাষ্ট্র। যদিও তা অস্বীকার করেছে ইরান। এ নিয়ে যখন টালমাটাল মধ্যপ্রাচ্য, ঠিক তখনই ইরানের শীর্ষ কমান্ডার নিহতের ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যকে।
