এটি ফিলিস্তিনের গাজায় হামাসের গোপন সুড়ঙ্গের ভিডিও। দেখা যাচ্ছে দড়ি বেয়ে টানেলের নিচে নামছে এক ইসরাইলি সেনা। এক পর্যায়ে সুড়ঙ্গপথ পেরুনোর পর, সামনে পড়ে একটি রুম। সেখানে টেবিল-চেয়ারের পাশাপাশি আছে বিছানা। টানেলের ভেতরে আছে সিঁড়ি, পানির ফিল্টার, বেসিনসহ বাথরুম।
ভিডিও দেখে বোঝাই যাচ্ছে গাজা সুড়ঙ্গ যেন অন্য এক পৃথিবী, আরেক জগৎ। শত্রুদের নাগালের বাইরে থাকতে এবং ইসরাইলি আগ্রাসনের প্রতিরোধে বছরের পর বছর ধরে এভাবেই নিজেদের সুসংগঠিত করেছে হামাস। হামাসের গোপন এবং এই দীর্ঘ টানেলে পাওয়া গেছে অস্ত্র-গোলাবারুদ তৈরির সরঞ্জামও।
হামাসের গতি-প্রকৃতি আর টানেলের ভেতরে দৃশ্যধারণের জন্যে কুকুরও পাঠিয়েছে ইসরাইলি সেনারা। তবে দু’তিনটি টানালের অবস্থান খুঁজে পেলেও, মাটির নিচে হামাসের অন্য পৃথিবীর খুব অংশেরই খোঁজ পেয়েছে ইসরাইলি সেনারা। আর এ কারণেই হামাসের টানেল ইসরাইলের জন্য সবস সময়ই মাথাব্যাথার কারণ।
হামাসের সাথে চলমান যুদ্ধেও ইসরাইলের জন্যে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে মাটির নিচের শত শত কিলোমিটার বিস্তৃত সব টানেল বা সুড়ঙ্গ। যেখানে যুদ্ধের জন্যে সব সময় সজ্জিত থাকে হামাস যোদ্ধারা। আর এসব সুড়ঙ্গ ব্যবহার করেই ইসরাইলকে বহুবার ঘোল খাইয়েছে হামাসের যোদ্ধারা।
বিশ্লেষকদের মতে, বছরের পর বছর ধরে গোপনে প্রশিক্ষণ নিয়ে ইরান ও আরব বিশ্বের সহায়তায় বিশেষ সক্ষমতা অর্জন করেছে হামাস। ২০০৭ সাল থেকে গাজার নিয়ন্ত্রণ রাখা হামাস গেল ৭ অক্টোবর ইসরাইলে মরণপণ হামলা চালায়। হামাসের জ্যেষ্ঠ সদস্যরা বলেছেন, প্রয়োজনই উদ্ভাবনের জননী।
দীর্ঘদিন ধরে ইরান থেকে আর্থ এবং সামরিক সহায়তা পেয়েছে তারা। এর সঙ্গে সহায়তা করছে লেবাননের হিজবুল্লাহর মতো দলগুলোও। বাইরে থেকে অস্ত্র আমদানি করা ছিল হামাসের কঠিন। সে কারণে গত ৯ বছর ধরে স্থানীয়ভাবেই অস্ত্র তৈরি করেছে তারা। যার প্রমাণ সুড়ঙ্গে থাকা অস্ত্র, গুলি আর গোলাবারুদ।
বলতে গেলে, হামাস এখন একটি ছোটখাটো সামরিক বাহিনি। তাদের আছে নিজস্ব প্রশিক্ষণকেন্দ্র, যেখানে সাইবার নিরাপত্তা ও নৌপথে অভিযানের বিষয়ে বিশেষায়িত প্রশিক্ষণও দেয়া হয়। এতে আছে ৪০ হাজার সদস্য। যাদের কমবেশি সবার রয়েছে লাড়সই গেরিয়া যুদ্ধের প্রশিক্ষণ।
জানা গেছে, ২০০০ সালের পর থেকে সংগঠনটি গাজার মাটির নিচে টানেল বা সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক গড়ে তোলে সংগঠনটি। যাকে ইসরাইল বলছে ‘গাজা মেট্রো’, কারণ মনে করা হয়, এটা এমন একটি এলাকার নীচে বিস্তৃত, যা লম্বায় প্রায় ৪১ কিলোমিটার আর প্রস্থে ১০ কিলোমিটার।
