ইসরাইলের সাথে ফিলিস্তিনের সশস্ত্র সংগঠন হামাসের সংঘর্ষ গড়িয়েছে ষষ্ঠ দিনে। এরইমধ্যে নিহতের সংখ্যা ২৭০০ ছাড়িয়েছে। এরমধ্যে ইসরাইলের বিমান হামলায় গাজায় নিহত হয়েছে অন্তত ১৪১৭ জন। অন্যদিকে হামাসের হামলায় ইসরাইলে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১৩০০ জনে। এসব হামলায় আহত হয়েছে অন্তত ১০ হাজার মানুষ।
হামলা-পাল্টা হামলায় রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে অধিকৃত গাজা উপত্যকা। জাতিসংঘ বলছে, গাজায় এক লাখের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। বাড়িঘর ছেড়ে পালাচ্ছে নারী-শিশুসহ অধিকাংশ বাসিন্দা।
বৃহস্পতিবার আল জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরাইলি হামলা থেকে ছাড় পাচ্ছে না গাজার হাসপাতাল ও স্কুলগুলো।
এরইমধ্যে প্রায় ২৩ হাজার বাড়িঘর গুড়িয়ে দিয়েছে ইসরাইল। ধ্বংস হয়েছে ১০টি স্বাস্থ্য সেবা কেন্দ্র এবং ৪৮টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান। এই পরিস্থিতিতে শেষ সম্বলটুকু সাথে নিয়ে যে, যেভাবে পারছে নিরাপদ আশ্রয়ে ছুটছে।

ফিলিস্তিনের রেড ক্রস সোসাইটির (পিআরসিএস) মুখপাত্র নেবাল ফারসাখ বলেন, বুধবার ইসরাইলি বিমান হামলায় পিআরসিএসর চার প্যারামেডিক নিহত হয়েছেন।
তিনি জানান, পিআরসিএস'র অ্যাম্বুলেন্সগুলোকে ইচ্ছাকৃতভাবে লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত করা হচ্ছে। ইসরাইলের আন্তর্জাতিক মানবিক আইন মেনে চলা উচিত।
অবরুদ্ধ গাজায় মানবিক করিডোর প্রতিষ্ঠার আহবান জানিয়েছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থাগুলো। তবে এ বিষয়ে এখনও কোনো সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি দুই পক্ষ।
গাজার প্রতিবেশি দেশ মিশর বলছে, রাফাহ ক্রসিংয়ে ইসরাইলি হামলা অব্যাহত থাকায় গাজার জন্য উত্তর সিনাইয়ের একটি বিমানবন্দরে আন্তর্জাতিক সহায়তা ফ্লাইট পরিচালনা করছে মিশর।

গাজায় অবরোধের মাধ্যমে ইসরাইল গণহত্যা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। তবে তেহরান সব সময় গাজার পাশে আছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
এদিকে চলমান সংঘাতের মধ্যেই বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন ইসরাইলের তেল আবিবে পৌঁছেছেন। হামাসের হামলার পর ইসরায়েলের প্রতি সংহতি ও সামরিক সহায়তা দিতেই এই সফর করছেন তিনি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, ব্লিঙ্কেনের ইসরাইল সফর বদলে দিতে পারে এ যুদ্ধের সমীকরণ।
এর আগে শনিবার ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী দল হামাস হঠাৎ করেই ইসরাইলে এ বছরের সবচেয়ে বড় হামলা চালায়। হামাসের এ নজিরবিহীন হামলার পরপরই সংগঠনটির বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করে ইসরাইল।
ইসরাইলি হামলায় পুরো গাজা এখন যেন ধ্বংসস্তূপ