ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় স্থল অভিযান শুরু করেছে ইসরাইল। শুক্রবার ইসরাইলের সেনাবাহিনী ও ট্যাংক গাজা উপত্যকায় প্রবেশ করেছে।
বার্তা সংস্থা রয়টার্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গাজায় টানা এক সপ্তাহ ধরে বিমান হামলা চালানোর পর এই প্রথম স্থল অভিযান শুরু করলো তেল আবিব।
ইসরাইলের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কয়েকটি কারণে গাজা উপত্যকায় এ স্থল অভিযান শুরু হয়েছে। আকাশ নজরদারির মাধ্যমে তারা গাজা সীমান্তে মৃত ইসরাইলিদের মরদেহ শনাক্ত করেছে, যা প্রথম ধাপে সংগ্রহ করা হবে। পাশাপাশি হামাসের অ্যান্টি-ট্যাংক ক্ষেপণাস্ত্রের সক্ষমতা হ্রাস করতে হামলা চালানো হবে।
এ অভিযান শুরুর আগে বৃহস্পতিবার অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলে থাকা ১১ লাখের বেশি ফিলিস্তিনিকে ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেয় ইসরাইল। এ ঘোষণার পরপরই নিরাপদ আশ্রয়ের আশায় গাজার দক্ষিণে যেতে শুরু করে স্থানীয় বাসিন্দারা।

সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র রিয়ার অ্যাডমিরাল ড্যানিয়েল হাগারি বলেন, ফিলিস্তিনের রকেট ক্রুদের ওপর হামলা চালাতে এবং হামাসের হাতে বন্দি জিম্মিদের অবস্থানের তথ্য জানতে ইসরাইলি সেনারা ট্যাংক ব্যবহার করে এ অভিযান শুরু করেছে।
ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এক সংক্ষিপ্ত বিবৃতিতে বলেছেন, আমরা আমাদের শত্রুদের অভূতপূর্ব শক্তি দিয়ে আঘাত করছি। এটি মাত্র শুরু হয়েছে।
রয়টার্স বলছে, গাজার উত্তরাঞ্চল থেকে ঠিক কতো বাসিন্দা দক্ষিণের দিকে গেছেন, তা বলা সম্ভব নয়। তবে অনেক বাসিন্দা তাদের ঘরবাড়ি ছেড়ে যেতে অস্বীকৃতিও জানিয়েছেন।
ইসরাইলি বিমান হামলায় বিধ্বস্ত একটি ভবনের সামনে দাঁড়িয়ে থাকা ২০ বছর বয়সী মোহাম্মাদ বলেন, 'পালিয়ে যাওয়ার চেয়ে মৃত্যু ভালো।'

হামাসের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইয়াদ আল-বোজোম এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছেন, আমরা উত্তর গাজা এবং গাজা শহরের জনগণকে বলছি, আপনারা আপনাদের বাড়িতে এবং জায়গায় থাকুন।
এদিকে এ স্থল অভিযান শুরুর পর ইসরাইলের হামলায় এরইমধ্যে ৭০ জন নিহত এবং ২০০ জন আহত হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে গাজা কর্তৃপক্ষ।
জাতিসংঘ এবং অন্যান্য মানবাধিকার সংস্থাগুলো বলছে, এত বেশি মানুষকে যদি গাজা থেকে পালিয়ে যেতে বাধ্য করা হয় তবে তা একটি বিপর্যয় ডেকে আনবে। দ্রুত গাজার অবরোধ তুলে নেয়া উচিত।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস বলেছেন, গাজার পরিস্থিতি আরও বিপজ্জনক পর্যায়ে পৌঁছেছে। আমাদের অবিলম্বে গাজা জুড়ে মানবিক অ্যাক্সেস দরকার, যাতে আমরা প্রয়োজনে প্রত্যেকের কাছে জ্বালানি, খাবার এবং পানি পৌঁছাতে পারি।
ফিলিস্তিনিদের স্থানান্তরের ইসরাইলি পরিকল্পনা যুদ্ধাপরাধ: এনআরসি