ইসরাইল-হামাস বিরোধ ও চলমান সংঘাতকে কেন্দ্র করে ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি। টানা দুই সপ্তাহ ফিলিস্তিনের গাজায় বিমান থেকে বোমা হামলা চালিয়ে আসছে ইসরাইল। এতে গোটা বিশ্ব থেকে প্রতিবাদের ঝড় উঠলেও তোয়াক্কা করছে না ইসরাইল।
মাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধকে বাঁচা মরার লড়াই বলে আখ্যা দিয়েছেন ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তাকে সমর্থন দিয়ে যাচ্ছের আমেরিকার প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের আরব দেশগুলো থেকে তেল আবিবের উপর চাপ বাড়ছে। সরাসরি হামাসের পক্ষ নিয়েছে ইরানও।
ইসরাইলকে সতর্ক করে দিয়ে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হুসেইন আমির-আব্দুল্লাহিয়ান বলেছেন, ইসরাইল গাজায় যুদ্ধ না থামালে মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাবে। ইসরাইলকে সামরিক সমর্থন দেয়ার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকেও দোষারোপ করেছেন তিনি।
রোববার তেহরানে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, পরিণতি হতে পারে গুরুতর এবং তিক্ত। আর, এর প্রভাব আঞ্চলিক দিক দিয়ে এমনকী যুদ্ধকে যারা সমর্থন দিচ্ছে, তাদের জন্যও হতে পারে সুদূরপ্রসারী।

তিনি হুশিয়ারী দিয়ে বলেন, ইসরাইলকে দেয়া যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সমর্থনই প্রমাণ করে যে, গাজায় চলমান যুদ্ধ একটি ছায়া যুদ্ধ; যা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে চালাচ্ছে ইসরাইল।
ইরানি মন্ত্রী বলেন, আমি যুক্তরাষ্ট্র ও এর প্রতিনিধিকে (ইসরাইল) সতর্ক করছি যে তারা যদি অবিলম্বে গাজায় গণহত্যা ও মানবতা বিরোধী অপরাধ বন্ধ না করে, তাহলে যেকোনো মুহূর্তে যে কোনো কিছু সম্ভব।
এর জবাবে ইরানকেও হুঁশিয়ারি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিনকেন। তার দাবি, ইরান এখানে ছায়াযুদ্ধে নামতে পারে এবং তারা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলি সেনাদের ওপর হামলা চালাতে পারে।
হামাস-ইসরাইল সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেন ব্লিনকেন। হোয়াইট হাউসের অন্যান্য কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ভূমধ্যসাগরে আরও সামরিক উপস্থিতি বাড়ানোর ব্যবস্থা নিয়েছে ওয়াশিংটন।
ইসরাইলের সুরক্ষায় এ অঞ্চলে সামরিক শক্তি বাড়াচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ইতিমধ্যে ইসরাইলের কাছাকাছি এলাকায় ভূমধ্যসাগরে একটি রণতরী মোতায়েন করেছে তারা।

লোহিত সাগরে মোতায়েন করা মার্কিন যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস কার্নি সম্প্রতি ইয়েমেনের হুতিদের ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্র আটকে দিয়েছে বলে দেশটির কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
হুতিরা ইরানের সমর্থনপুষ্ট। এর বাইরে ইরাকেও একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ইরান সমর্থিত গোষ্ঠীগুলো ড্রোন ও রকেট হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, ইরাকে মার্কিন স্থাপনাকে হামলা চালিয়েছে সশস্ত্র একটি গোষ্ঠি।
গাজার হাসপাতালে হামলা নিয়ে এবার সুনাকের সাফাই
আল-আকসা মুসলিমদের কাছে কেন গুরুত্বপূর্ণ?