গাজায় অবিলম্বে যুদ্ধবিরতি এবং ইসরাইলের গণহত্যা বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রকে ব্যবস্থা নেয়ার আহবান জানিয়েছেন ফিলিস্তিনি প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস। শনিবার, গাজার পশ্চিম তীরের রামাল্লায় আমেরিকান পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেনের সঙ্গে বৈঠকে তিনি একথা বলেন।
গাজা উপত্যকায় ইসরাইলি আগ্রাসন শুরুর পর পশ্চিম তীরে ব্লিঙ্কেনের এটিই প্রথম সফর। যদিও বৈঠক শেষে গণমাধ্যমের সাথে কোনো কথা বলেননি তারা। উল্লেখ্য, যুদ্ধবিরতির আবেদন নিয়ে ব্লিঙ্কেন কয়েক দফা ইসরাইল সফর করলেও, তাতে সাড়া দেয়নি ইসরাইলের সরকার।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের মুখপাত্র ম্যাথিউ মিলার বৈঠকের বিষয়ে বলেছেন, গাজায় জীবনরক্ষাকারী মানবিক সহায়তা প্রদান এবং প্রয়োজনীয় পরিষেবা চালুর বিষয়ে মার্কিন প্রতিশ্রুতির কথা জানিয়েছেন ব্লিঙ্কেন। ফিলিস্তিনিদের জোর করে বাস্তুচ্যুত করা উচিত নয় বলেও মন্তব্য করেন মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
রামাল্লায় কড়া নিরাপত্তার মধ্যে ব্লিঙ্কেন দেখা করেন ফিলিস্তিন প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের সঙ্গে। হামাস-বিরোধী ফাত্তহ দলের নেতা আব্বাস। রামাল্লা প্রশাসন জানিয়েছে, ইসরাইলি হামলায় সেখানে অন্তত ১৫০ জন ফিলিস্থিনি হয়েছেন। পশ্চিম তীরের পরিস্থিতি নিয়ে আমেরিকার পাশাপাশি উদ্বিগ্ন ইউরোপও।
পশ্চিম তীর থেকে হঠাৎ করেই মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইরাক ও সাইপ্রাসে যান। ধারণা করা হচ্ছে, হামাসের সঙ্গে ইসরাইলের চলমান সংঘাতে আরব দেশগুলো যেন সরাসরি জড়িয়ে না পরে, সেজন্য ব্লিঙ্কেন মধ্যপ্রাচ্যে ঘুরে বেড়াচ্ছেন। তিনি যেখানেই যাচ্ছেন, সেখান থেকে যুদ্ধবিরতির জন্য চাপের মুখে পড়ছেন।
এদিকে, ইসরাইলি সেনা মুখপাত্র ড্যানিয়েল হাগারি জানিয়েছেন, গোটা গাজা শহরকে ঘিরে নিয়েছেন তাঁরা। উত্তর এবং দক্ষিণ হিসেবে গাজাকে বিভক্ত করা হয়েছে। গাজায় দ্রুত যুদ্ধবিরতি ঘোষণা এবং মানবিক সাহায্য পাঠানোর বিষয়ে ক্রমশ চাপ বাড়ছে ইসরাইল এবং আমেরিকার ওপর।
যদিও নেতানিয়াহু জানিয়ে দিয়েছেন, জয় না-পাওয়া অবধি তারা লড়াই থামাবেন না। যুদ্ধবিরতি ঘোষণার শর্ত হিসেবে হামাসের দ্বারা অপহৃত ইসরাইলি বন্দিদের মুক্তির দাবি তুলেছেন তিনি। সব মিলিয়ে আগামী কয়েক দিনে গাজার পরিস্থিতি আরও অগ্নিগর্ভ হয়ে উঠতে চলেছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
হামাসের পাশে থাকবে ইরান: খামেনি
গাজায় পরমাণু বোমা ফেলার পরামর্শ, বরখাস্ত ইসরাইলি মন্ত্রী