ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় অন্তত তিনটি হাসপাতাল বা হাসপাতালের কাছে ইসরাইলি বিমান হামলা চালিয়েছে বলে জানিয়েছেন গাজার কর্মকর্তারা।
শুক্রবার গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র আশরাফ আল কিদরা আল-জাজিরাকে বলেন, গত কয়েক ঘণ্টায় ইসরাইলি দখলদাররা বেশ কয়েকটি হাসপাতালে একযোগে হামলা চালিয়েছে। খবর রয়টার্স’র।
গাজায় এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা ইসরাইলি হামলায় আহত ও ঘরবাড়ি হারা বাস্তুচ্যুত হাজার হাজার মানুষে হাসপাতালগুলো ভর্তি হয়ে আছে, সেখানে এমন হামলা আবারও ফিলিস্তিনি জনপদটির স্বাস্থ্য ব্যবস্থাকে বিপদগ্রস্ত করেছে।
ইসরাইল গাজা সিটির বৃহত্তম হাসপাতাল আল শিফার প্রাঙ্গণে হামলা চালিয়েছে। আর তাতে হতাহতের ঘটনা ঘটেছে বলেও জানান কিদরা। কিন্তু কতজন হতাহত হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
ইসরাইলের দাবি, আল শিফার নিচে ভূগর্ভে কমান্ড সেন্টার ও টানেল লুকিয়ে রেখেছে হামাস। কিন্তু ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী গোষ্ঠীটি এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছে।
কিদরার বিবৃতির বিষয়ে ইসরাইলের সামরিক বাহিনী তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি, রয়টার্সও স্বতন্ত্রভাবে তার অভিযোগ যাচাই করে দেখতে পারেনি।
শুক্রবার ফিলিস্তিনি গণমাধ্যম আল শিফা হাসপাতালের ভিডিও ফুটেজ প্রকাশ করে বলেছে, সেটি হাসপাতালটির পার্কিং লটে ইসরাইলের হামলা পরবর্তী চিত্র। পার্কিং লটটিতে বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিরা আশ্রয় নিয়েছিল আর সাংবাদিকরা তাদের পর্যবেক্ষণ করছিল বলে জানিয়েছে তারা। তবে রয়টার্স তাৎক্ষণিকভাবে ভিডিও ফুটেজটির সত্যতা যাচাই করতে পারেনি বলে জানিয়েছে।
সামাজিক মাধ্যম এক্স প্লাটফর্মে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠী হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, ‘আল শিফার কাছে চলমান হামলা ও লড়াইয়ে কারণে সেখানে আশ্রয় নেওয়া কয়েক হাজার বেসামরিকদের (যাদের মধ্যে অনেক শিশু আছে) অবস্থা নিয়ে আমরা গভীরভাবে উদ্বিগ্ন হয়ে আছি। তারা সেখানে আশ্রয় ও চিকিৎসা সেবা নিতে চাইছে।’
গাজার স্বাস্থ্য কর্মকর্তা কিদরা জানান, শুক্রবার আল-রানতিসি পেড্রিয়াটিক হাসপাতাল ও আল-নসর শিশু হাসপাতালেও ‘সরাসরি ধারাবাহিক হামলা ও বোমাবর্ষণ’ করা হয়েছে। আল-রানতিসি হাসপাতালের প্রাঙ্গণে চালানো হামলায় সেখানে থাকা গাড়িগুলোতে আগুন ধরে যায় বলেও জানান তিনি।
গত ৭ অক্টোবর ইসরাইলের দক্ষিণাঞ্চলে হামাসের নজিরবিহীন হামলার পর থেকে সশস্ত্র ফিলিস্তিনি রাজনৈতিক গোষ্ঠীটিকে নিশ্চিহ্ন করার প্রত্যয় নিয়ে গাজায় অবিরাম প্রাণঘাতী হামলা চালিয়ে আসছে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী। এসব হামলায় ভূখণ্ডটির ৩৫টি হাসপাতালের মধ্যে ১৮টি এবং অন্য ৪০টি স্বাস্থ্যকেন্দ্র ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে অথবা জ্বালানির অভাবে অকার্যকর হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
গাজায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে একের পর এক হাসপাতাল