গাজার হামাস সরকার ও দখলদার ইসরাইলের মধ্যে যে যুদ্ধ চলছে তা মধ্যপ্রাচ্যের আরও নতুন নতুন ফ্রন্টে বিস্তৃত হতে পারে, এমন আশঙ্কার কথা আগেই জানিয়েছিল ইরান। যুদ্ধের এক মাসের মাথায় এবার সেই ভবিষ্যদ্বাণী বাস্তবে রূপ নিচ্ছে। চারদিক থেকে ঘেরাও হয়ে সামরিক চাপে আছে ইসরাইল।
এরইমধ্যে ইয়েমেনের ইরান সমর্থিত হুতি বিদ্রোহীরা ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধ ঘোষণা করেছে। হুতিরা হামলা চালাচ্ছে ইসরাইলের সীমান্তবর্তী অঞ্চলগুলোতে। ভূপাতিত করেছে কোটি টাকা মূল্যের মার্কিন গোয়েন্দা ড্রোন। তেল আবিব যখন এসব নিয়ে বিপাকে ঠিক সেই সময় ইসরাইলের বিরুদ্ধে সম্ভাব্য যুদ্ধের হুঁশিয়ারি দিলো নিকট প্রতিবেশি লেবানন।
চলতি সপ্তাহে এক সাক্ষাৎকারে দেশটির প্রধানমন্ত্রী নাজিব মিকাতি জানান, ইসরাইলের সাথে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কায় লেবানন সরকার আগামী তিন মাসের জন্য একটি আনুষঙ্গিক পরিকল্পনা তৈরি করেছে। তবে লেবানন যুদ্ধ চায় না এবং আন্তর্জাতিক আইন ও জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদের প্রস্তাবনার প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ইসরাইল-লেবানন যুদ্ধ বন্ধ করতে হলে ইসরাইলকে অবশ্যই দক্ষিণ লেবাননে তার উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এবং গাজায় গণহত্যা বন্ধ করতে হবে। অন্যথায় ইসরাইলকে চড়া মূল্য দিতে হবে বলেও সতর্ক করেছে দেশটি।

সামরিক শক্তিতে ইসরাইলের চেয়ে কিছুটা পিছিয়ে থাকলেও যেকোনো যুদ্ধে ইসরাইলকে পরাজিত করার সক্ষমতা রাখে লেবানন। লেবানিজ সশস্ত্র বাহিনীতে আছে ৭২ হাজারের বেশি সক্রিয় যোদ্ধা। বিমানবাহিনী ও নৌবাহিনীতে আছে আরও কয়েক হাজার কর্মী। এতো সংখ্যক যোদ্ধাকে আটকানো ইসরাইলের একার পক্ষে সম্ভব না বলে মনে করছে বিশেষজ্ঞরা।
তবে ইসরাইলের জন্য লেবানিজ সেনাবাহিনীর চেয়েও বড় আতঙ্ক হিজবুল্লাহ। লেবানন-ইসরাইল সীমান্ত নিয়ন্ত্রণ করে শিয়াপন্থি এ রাজনৈতিক সংগঠনটি। অতীতে হিজবুল্লাহর সাথে যতবার মুখোমুখি হয়েছে প্রত্যেকবারই পরাজয়ের স্বাদ পেয়েছে ইসরাইল।
গত মাসে গাজায় হামলার পর থেকেই ইসরাইলের সঙ্গে সংঘাতে জড়িয়ে পড়ে ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহ। তখন থেকেই ইসরাইল সীমান্তে সেনাচৌকি লক্ষ্য করে নিয়মিত হামলা চালাচ্ছে গোষ্ঠীটি। হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের জন্য পুরোপুরি প্রস্তুত বলে জানিয়েছেন গোষ্ঠীটির প্রধান হাসান নাসরাল্লাহ।
হিজবুল্লাহর আছে সুসজ্জিত সামরিক এবং গোয়েন্দা শাখা। বলা হয়, দুনিয়ার সেরা কয়েকটি সশস্ত্র সংগঠনের তালিকায় সবার ওপরে রয়েছে হিজবুল্লাহর নাম।
গোষ্ঠীটির প্রধান বলছেন, হিজবুল্লাহ যোদ্ধারা ‘বুরকান’ নামে নতুন একটি ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে। এই ক্ষেপণাস্ত্রের ৩০০ থেকে ৫০০ কেজির বিস্ফোরক পরিবহনের সক্ষমতা রয়েছে। যা আঘাত হানতে পারে ইসরাইলের যেকোনো স্থাপনায়। গুড়িয়ে দিতে পারে ইসরাইলের গর্ব আইরন ডোমও। পাশাপাশি প্রথমবারের মতো সশস্ত্র ড্রোন ব্যবহার করছে সংগঠনটি। যা ইসরাইলের জন্য রীতিমতো মাথাব্যথার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরানের সমর্থন এবং সামরিক সাহায্য পেয়েই হিজবুল্লাহ এতোটা শক্তিশালী হয়েছে, দীর্ঘদিন ধরে এমন অভিযোগ করে আসছে যুক্তরাষ্ট্র এবং ইসরাইল। এমনকি ইসরাইলের বিরুদ্ধে হিজবুল্লাহ যুদ্ধ শুরু করলে ইসরাইল ইরানে সামরিক হামলা চালাবে বলেও হুমকি দিয়েছে।
তবে এসব হুমকির তোয়াক্কা না করে লেবাননভিত্তিক রাজনৈতিক ও সশস্ত্র সংগঠনটি বলছে, ইসরাইলের বিরুদ্ধে যুদ্ধে নামতে প্রস্তুত তারা। এবার যুদ্ধ হলে মধ্যপ্রাচ্যে ইসরাইলের অস্তিত্ব খুঁজে পাওয়া যাবে না বলেও হুমকি দিয়েছে সংগঠনটি।
বাইডেন-শি বৈঠক: কী কথা হলো তাদের সঙ্গে?
রাশিয়ার যুদ্ধজাহাজ আসা নিয়মিত ঘটনা: পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়