লোহিত সাগরে ইসরাইলি জাহাজে ইয়েমেনের হুতি আনসারুল্লাহ আন্দোলন বা হুতি বিদ্রোহীদের হামলার কারণে ব্যাপক ক্ষতির মুখে পড়েছে এইলাত সমুদ্রবন্দর। গেলো দুই মাসে এই ইসরাইলি বন্দরের কার্যক্রম প্রায় ৮৫ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে।
এইলাত সমুদ্রবন্দরের প্রধান নির্বাহী বৃহস্পতিবার একথা জানিয়েছেন। খবর বার্তা সংস্থা রয়টার্সের।
৭৫ দিনেরও বেশি সময় ধরে লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালীতে ইসরাইল অভিমুখী জাহাজে একের পর এক হামলা চালাচ্ছে হুতিরা। আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের শতকরা ৪০ ভাগ বাব আল-মান্দেব প্রণালী দিয়ে সম্পন্ন হয়।
বন্দরের প্রধান নির্বাহী গিডিয়ন গোলবার বলেন, বাব আল-মান্দেব ছাড়া এইলাত বন্দরের প্রধান শিপিং প্রক্রিয়া অচল। ফলে আমরা মোট কার্যক্রমের শতকরা ৮৫ ভাগ হারিয়েছি।
হুতি যোদ্ধারা এবং ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনী লোহিত সাগরে হামলা শুরু করার পর থেকে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক শিপিং কোম্পানি বাব আল-মান্দেব প্রণালীর মাধ্যমে তাদের জাহাজ চলাচল বাতিল করছে।
সংশ্লিষ্টরা বলছেন, যে সব জাহাজ পণ্য নিয়ে ইসরাইলে যেতে চাইছে তাদেরকে এখন পুরো আফ্রিকা মহাদেশ ঘুরে ভূমধ্যসাগর হয়ে যেতে হচ্ছে। এতে যেমন দূরত্ব বেড়েছে তেমনি বেড়েছে সময় এবং খরচ।
এদিকে দূরত্ব বেড়ে যাওয়ায় অনেক পণ্য সময়মতো ইসরাইলে পৌঁছাতে পারছে না। ফলে কোনো কোনো পণ্যের মেয়াদ হয়তো জাহাজেই শেষ হয়ে যাচ্ছে। আবার অনেক পণ্যের দাম বাড়ছে।
এর আগে অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। এ আগ্রাসনে ২০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু।
গাজা উপত্যকায় ইসরাইলের বর্বর আগ্রাসন ও গণহত্যার প্রতিবাদে ইয়েমেনের হুতি যোদ্ধারা ও সামরিক বাহিনী লোহিত সাগরে ইসরাইলি জাহাজে হামলা শুরু করে। এক পর্যায়ে তারা ইসরাইল অভিমুখী যেকোনো দেশের জাহাজকেও টার্গেট করার ঘোষণা দেয়।
অন্যদিকে ইসরাইলের এইলাত বন্দর লক্ষ্য করে ইয়েমেন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালানো হয়েছে। এসব হামলার ফলেই বন্দরের কার্যক্রম স্থবির হয়ে পড়েছে।
জনপ্রিয় সব ক্রিসমাস মার্কেট
সুইজারল্যান্ডে বৈধ হচ্ছে কোকেনের বিনোদনমূলক ব্যবহার
লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরাইলি হামলায় বৃদ্ধা নিহত