দক্ষিণ গাজার রাফায় জাতিসংঘের খাদ্য বিতরণ কেন্দ্রে ইসরাইলি সেনাবাহিনীর হামলায় এক হামাস কমান্ডার নিহত হওয়ার দাবি করেছে ইসরাইল। বুধবার ওই কমান্ডারকেই লক্ষ্য করে সেখানে তারা হামলা চালিয়েছিল বলে দাবি ইসরাইলি সামরিক বাহিনীর।
ওই হামলায় জাতিসংঘের এক কর্মীসহ আরও ৪ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা। ব্রিটিশ বার্তা সংস্থা রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে।
ইসরাইলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, ওই হামলায় মোহাম্মাদ আবু হাসনা নামের এক হামাস যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। তিনি ইসরাইলি সেনাদের অবস্থান সম্পর্কে হামাসকে গোয়েন্দা তথ্য সরবরাহ করতেন। এছাড়া, তিনি মানবিক সহায়তা নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে জড়িত ছিলেন এবং সেগুলো হামাসের সশস্ত্র যোদ্ধাদের কাছে ভাগ করে দিতেন।
এক বিবৃতিতে হামাস বলেছে, আবু হাসনা গোষ্ঠীটির পুলিশ বাহিনীর সদস্য ছিলেন। তার হত্যার নিন্দা জানিয়ে এটিকে একটি ‘কাপুরুষোচিত হত্যাকাণ্ড’ বলে উল্লেখ করেছেন।
নিহত ওই পাঁচজনের মধ্যে আরেকজনকে রাফাহ শহরের নিদাল আল-শেখ ইদের জরুরি বিভাগের প্রধান হিসেবে শনাক্ত করেছে হামাস।
ফিলিস্তিনিদের জন্য জাতিসংঘের সংস্থা ইউএনআরডব্লিউএ বলেছে, রাফাহ শহরে সংস্থাটির একটি স্থাপনায় হামলা হয়েছে। ওই হামলায় নিহতদের মধ্যে অন্তত একজন তাদের কর্মী। হামলায় সময় আরও ২২জন মানুষ আহত হয়েছেন। শহরটিতে ২৩ লাখের বেশি ফিলিস্তিনি আশ্রয় নিয়েছেন।
বুধবার ইউএনআরডব্লিউএ’র প্রধান ফিলিপ লাজারিনি বলেন, ‘গাজা উপত্যকায় খাদ্য সরবরাহ ফুরিয়ে যাচ্ছে, ব্যাপক ক্ষুধা দেখা দিয়েছে এবং কিছু এলাকায় তা দুর্ভিক্ষে পরিণত হচ্ছে। এমন এক সময় সেখানে আমাদের অবশিষ্ট গুটিকয়েক সহায়তা কেন্দ্রগুলোর একটিতে হামলা হয়েছে।’
এদিকে, খাদ্য সহায়তা বণ্টন নিয়ে ইসরাইলের করা অভিযোগ নাকচ করে দিয়েছে হামাস। তারা পাল্টা অভিযোগ করে বলেছে, দুর্ভিক্ষকে পুঁজি করে ফিলিস্তিনিদের চাপে ফেলার চেষ্টা করছে ইসরাইল।
এর আগে, ইউএনআরডব্লিউএ’র সঙ্গে হামাস যোদ্ধাদের যোগসূত্র রয়েছে উল্লেখ করে বুধবার ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেন, খাদ্য বিতরণ কর্মসূচির কোনও ব্যাঘাত না ঘটিয়েই গাজায় ইউএনআরডব্লিউএ’র পরিবর্তে অন্যান্য এজেন্সি পাঠানো হবে।
ওয়াশিংটনে একটি সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী অ্যান্টনি ব্লিঙ্কেন বলেছেন, জাতিসংঘের কর্মী হত্যার বিষয়ে কোনও প্রতিবেদন তার কাছে পৌঁছায়নি। যেকোনো কঠিন পরিস্থিতিতেও মানবিক সহায়তা কর্মীদের নিরাপত্তার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে বলেও ওই সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন তিনি।
ব্লিঙ্কেন বলেন, এটা সত্য যে তারা একটি যুদ্ধক্ষেত্রে আছেন। সেখানে হাসপাতাল, স্কুল ও আবাসিক ভবন থেকে সশস্ত্র যোদ্ধারা গুলি চালাচ্ছে। তবে সেখানে মানবিক সহায়তা কর্মীদের কাজ চালিয়ে যাওয়া নিশ্চিতকরণে তাদের সর্বাত্মক সহযোগিতা করতে ইসরাইলি সামরিক বাহিনী ও ইসরাইল সরকারের দায়বদ্ধতা ও বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
গাজার উত্তরে সরাসরি ত্রাণ বিতরণে পাইলট প্রকল্প