আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘন করে জায়নবাদী রাষ্ট্র ইসরাইল সিরিয়ায় ইরানি কনস্যুলেট ভবনে যে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালিয়েছে, তেহরান তার চূড়ান্ত জবাব দেয়ার অধিকার রাখে বলে হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। ইসরাইলকে মোক্ষম জবাব দেয়া হবে বলেও সতর্ক করেছে দেশটি।
এর আগে সোমবার বিকেলে ইসরাইলি বাহিনী সিরিয়ার রাজধানী দামেস্কে ইরানি কনসুলেট ভবনে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এতে আইআরজিসি’র বেশ কয়েকজন সামরিক উপদেষ্টাসহ অন্তত সাতজন নিহত হয়েছেন। খবর পার্সটুডে'র।
মঙ্গলবার ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, ইরানি কনসুলেটে কর্মরত সামরিক উপদেষ্টারা কূটনৈতিক দায়মুক্তি পাওয়ার কথা থাকলেও ইসরাইল সেই আইন অগ্রাহ্য করে অত্যন্ত কাপুরুষোচিতভাবে হামলা চালিয়েছে। আন্তর্জাতিক আইন অনুসারে ইরান এখন এই হামলার বিরুদ্ধে আইনগতভাবে এবং জাতিসংঘ সনদ অনুসারে জবাব দেয়ার অধিকার রাখে।

তেহরান বলছে, ইরান দখলদার ইসরাইলকে এই অপরাধযজ্ঞের জন্য অনুতপ্ত হতে বাধ্য করবে। এই ধরনের ঘৃণ্য অপরাধযজ্ঞ চালিয়ে ইসরাইল তার অবধারিত পরাজয় এড়াতে পারবে না বলেও মন্তব্য করেছে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
বিশ্লেষকরা বলছে, ইরানি কনস্যুলেটে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানোর ফলে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত হয়ে উঠবে। ইসরাইলকে লক্ষ্য করে ইরান পাল্টা হামলা চালাতে পারে।
সোমবার ওই হামলার পর দামেস্কের মেজ্জেহ জেলার ঘটনাস্থল থেকে রয়টার্সের রিপোর্টার জানিয়েছিলেন, একেবারে গুঁড়িয়ে যাওয়া একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপের মধ্য থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে। ধ্বংসস্তূপের সামনে একটি খুঁটিতে ইরানের পতাকা উড়ছিলো। ঘটনাস্থলে হাজির হয়েছিলেন ইরান ও সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী।
গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে ছয় মাস ধরে চলমান যুদ্ধে ইসরাইল একাধিকবার সিরিয়ায় ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। সোমবারের হামলার পরও বরাবরের মতো তা এ বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে তারা।
ইসরাইলি সেনাবাহিনীর এক মুখপাত্র বলেছেন, বিদেশি সংবাদমাধ্যমের খবরের বিষয়ে আমরা মন্তব্য করি না।
এর আগে গেলো বছরের অক্টোবর মাসের ৭ তারিখে ইসরাইলে এই দশকের সবচেয়ে বড় সামরিক অভিযান চালায় গাজার হামাস সরকার। এর পরপরই গাজায় বিমান হামলা ও স্থল হামলা শুরু করে ইসরাইল। একইসঙ্গে সিরিয়ায় লেবাননের হিজবুল্লাহ যোদ্ধা এবং ইরানের বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বিরুদ্ধেও বিমান হামলা অব্যাহত রেখেছে তেল আবিব।
ইসরাইলি আগ্রাসনে গাজায় এখন পর্যন্ত ৩৩ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই নারী ও শিশু। আহত লাখ ছাড়িয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রে রেকর্ড মাত্রায় বেড়েছে মুসলিমবিদ্বেষ
জুলাইয়ের মধ্যে ফিলিস্তিনকে স্বাধীন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দেবে স্পেন