ইসরাইল রাজি হওয়ার পর ফিলিস্তিনের অবরুদ্ধ গাজা উপত্যকায় রাফাহ সীমান্ত দিয়ে মাত্র ২০ ট্রাক ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে মিসর।
বুধবার রাতে মিসরের প্রেসিডেন্ট আব্দেল ফাত্তাহ আল-সিসির সঙ্গে কথা বলার পর যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এ তথ্য জানান। খবর বিবিসি’র।
ইসরাইল সফর শেষে দেশে ফেরার পথে বাইডেন বলেন, মিসরের প্রেসিডেন্ট রাফাহ সীমান্ত দিয়ে গাজায় ২০ ট্রাক ত্রাণ সহায়তা পাঠানোর ব্যাপারে রাজি হয়েছেন।
তবে শুক্রবার পর্যন্ত এসব ট্রাক গাজায় ঢুকতে পারবে না। কারণ, সড়ক মেরামত করতে হবে বলে বাইডেন উল্লেখ করেন।
তিনি আরও বলেন, গাজা নিয়ন্ত্রণকারী ফিলিস্তিনি সংগঠন হামাসকে ত্রাণ বিতরণের অনুমতি দেয়া হবে না। তাই এই ২০ ট্রাক ত্রাণ দিয়ে পরীক্ষামূলক বিতরণ চালানো হবে।
জর্ডানে চতুর্পক্ষীয় বৈঠকে সিসির সাথে বাইডেনের বৈঠকের কথা ছিলো। কিন্তু গাজায় হাসপাতালে ভয়াবহ হামলার প্রেক্ষিতে বৈঠকটি বাতিল করা হয়। এ প্রেক্ষিতে বাইডেন বিমান থেকে তার সাথে প্রায় আধা ঘন্টা কথা বলেন।
এর আগে, গাজায় ত্রাণ সহায়তা যেতে দিতে রাজি হয় ইসরাইল। জো বাইডেন ইসরাইল সফরে গিয়ে দেশটির নেতাদের সঙ্গে বৈঠকের পর এ তথ্য জানান। এরপর ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর দপ্তরও রাফাহ সীমান্ত দিয়ে গাজায় ত্রাণ যেতে বাধা দেওয়া হবে না বলে জানায়।
তবে জাতিসংঘ এবং আন্তর্জাতিক দাতব্য সংস্থাগুলো বলছে, গাজায় এখন যে ভয়াবহ মানবিক সংকট দেখা দিয়েছে তাতে এই ২০ ট্রাক ত্রাণ সহায়তা দিয়ে ন্যূনতম চাহিদাও পূরণ করা সম্ভব হয়। গাজার ১০ লাখ উদ্বাস্তুর জন্য দৈনিক অন্তত ১০০ ট্রাক ত্রাণ সহায়তার প্রয়োজন বলেও জানান তারা।
গাজার শাসকগোষ্ঠী হামাস ৭ অক্টোবর ইসরাইলে নজিরবিহীন হামলা করে। ওই দিনই বোমা হামলার পাশাপাশি গাজায় বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে ইসরাইল। দুইদিন পর পুরোপুরি গাজা অবরোধের ঘোষণা দিয়ে ইসরাইল সেখানে খাবার, পানি, ওষুধ ও গ্যাস সরবরাহ বন্ধ করে দেয়।
গাজায় পাঠানোর জন্য ত্রাণ নিয়ে শত শত ট্রাক কয়েক দিন ধরে মিসর সীমান্তের রাফাহ ক্রসিংয়ে আটকে আছে। ইসরাইল ওই সীমান্তেও বোমা হামলা চালিয়েছে। তারা এতদিন গাজায় কোনো ধরনের পণ্য ঢুকতে না দেওয়ার সিদ্ধান্তে অটল ছিলো। যদিও জাতিসংঘের পক্ষ থেকে গাজার শোচনীয় পরিস্থিতির কথা তুলে ধরে সেখানে ত্রাণ পাঠানোর সুযোগ করে দেওয়ার আহ্বান জানানো হচ্ছিলো।
এদিকে, অবরুদ্ধ গাজার বাসিন্দাদের উপত্যকা ছেড়ে পালানোর একমাত্র ভরসা এই রাফাহ ক্রসিং। ইসরাইল গাজায় হামলা শুরুর পর শরণার্থী ঢলের আশঙ্কায় মিসর সীমান্তটি বন্ধ করে দেয়। এছাড়া সীমান্তটি দিয়ে মানুষ ও পণ্য পারাপারে ইসরাইলের অনুমতি থাকতে হয়।
এদিকে গাজা থেকে বের হওয়ার আরও দুইটি সীমান্তপথ থাকলেও সেগুলো ইসরাইল সীমান্তে এবং তা এখন পুরোপুরি বন্ধ।
গাজায় জরুরি প্রবেশাধিকার চায় ডব্লিউএইচও